‘লকডাউনে’ সিলেট জেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেট জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১১ই এপ্রিল) বিকেল পৌনে চারটার দিকে জেলা প্রশাসক কাজী এম. এমদাদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সিলেট জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১১ই এপ্রিল) বিকালে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এম. এমদাদুল ইসলাম বলেন, এখন সিলেট থেকে কেউ অন্য জেলায় যেতে পারবেন না এবং অন্য জেলা থেকে কেউ সিলেটে প্রবেশ করতে পারবেন না। এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায়ও যাতায়াত করা যাবে না।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়ক ও নৌপথে অন্য কোনো জেলা থেকে কেউ এ জেলায় প্রবেশ করতে কিংবা এ জেলা থেকে অন্য কোনো জেলায় গমন করতে পারবেন না। জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃউপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এসব আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত সিলেট জেলা কমিটির সদস্যদের মতামতের আলোকে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলায় সিলেট জেলাকে অবরুদ্ধ (লকডাউন) ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সব ধরনের গণপরিবহন, জনসমাগম বন্ধ থাকবে। জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা, কৃষিপণ্য, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ আজ থেকে কার্যকর হবে। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।

এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা পরীক্ষায় চতুর্থ দিনেও ৪৮টি রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। শনিবার (১১ই এপ্রিল) দুপুরে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের একটি বিশ্বস্ত সূত্র ফের ৪৮টি রিপোর্ট নেগেটিভ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এর আগে গত ৭ই এপ্রিল (মঙ্গলবার) সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলোজি বিভাগে স্থাপিত করোনা ভাইরাস পরীক্ষার বিশেষায়িত পলিমার্স চেইন রিঅ্যাকশান (পিসিআর) ল্যাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিন ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হলে সবকটি পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। পরে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনও ২৪ জনের করোনা সনাক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে এবং তৃতীয় দিনও ৪৮ রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সনাক্ত হলেও গত ৫ই এপ্রিল সিলেটে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন এক চিকিৎসক।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close