অমানবিক….!!!

খাটিয়া দেয়নি গ্রামবাসী, বাপ-ভাইয়ের কাঁধে লাশ……….

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বখতারপুর গ্রামের জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া যুবকের লাশ কবরস্থানে নেওয়ার জন্য খাটিয়াও পেলেন না পরিবারের সদস্যরা। এমনকি বাঁশ দিয়ে খাটিয়া বানিয়ে দিতেও এগিয়ে আসেননি গ্রামের কেউ। পরে মৃত যুবক আব্দুস সালামের বাবা জয়দুল মিয়া মরদেহের মাঝখানে ও দুই ভাই আব্দুল খালেক (১৭) সামনে এবং আলী নূর (১৬) পেছনে ধরে মৃতদেহ কবরস্থানে নিয়ে যায়। 

গত বুধবার সকালে ওই যুবকের মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়। মৃতদেহ এভাবে কবরে নেওয়ার ছবিটি অনেক দূর থেকে একজন তুললে সকলের জানাজানি হয়। দাফনের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে কাছাকাছি দেখা যায়নি। উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যও অনেক দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর লাশ দেখতে আসা দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের মাঝেরগাঁয়ের দুই স্বজন পরিবারসহ বক্তারপুর গ্রামকে লকডাউনে থাকার নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন। 

স্থানীয় লোকজন স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মীরা জানান, ২২ বছর বয়সী ওই যুবক ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। কয়েকদির ধরে জ্বর-সর্দিতে ভুগছিলেন তিনি। ওষুধ খাওয়ার পর ওই যুবকের জ্বর কমলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরিবারের লোকজন স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারদের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ান। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। 

মৃত্যুর পর ওই যুবকের পরিবারসহ গ্রাম (১৬ পরিবার) এবং তার লাশ দেখতে আসা দোয়ারাবাজার সদরের মাঝের গাঁওয়ের দুই স্বজনের পরিবারকে লকডাউনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৃত যুবকের প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না, শুনেছি আব্দুস সালাম মারা যাবার পর কেউ এগিয়ে আসেনি। কেউ লাশ ধরেনি। বাঁশের খাটিয়া বানানোর জন্য আশপাশের লোকের সহায়তা চাইলেও এগিয়ে আসেনি কেউ। প্রতিবেশী দুজন কেবল কবর খনন করে দেন। মৃত যুবকের ভাই বাবা ও আত্মীয় ৮ জন জানাজায় অংশ নেন।

গ্রামের ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম জানালেন, খাটিয়া আনার সময় ছিল না। এজন্য খাটিয়া দেওয়া যায়নি। পলিথিনে পেঁচিয়ে মরদেহ কবরে নেওয়া হয়েছে।

এব্যপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি আবুল হাসেম বলেন, যুবকটি মারা যাওয়ার পরদিন সকালে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। কবর দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ ওখানেই ছিল। পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। তবে পরিবারের লোকজন উত্তেজিত ছিল। কাউকে কাছে ভিড়তে দেয়নি। বডিব্যাগে করে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ কবর দেওয়ার স্থানে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী লাশের কবর হয়েছে কী-না উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা বলতে পারবেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ারের ফোনে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য অনেকবার চেষ্টা করলেও তার ফোনে কল ফরোয়ার্ডিং চালু থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close