নিজের ভোটার দেখে সিসিকের ত্রাণ দিলেন কাউন্সিলর রিপন !

কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন শুধু নিজের লোক দেখেই ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তিনি যে তালিকা করেছেন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মানুষ সেই তালিকায় ছিল। অথচ আমরা চেয়েছিলাম যারা গরীব তাদেরকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তালিকা করার আগে একদিন রাত কাউন্সিলর তেররতন এলাকায় এসেছিলেন।

এসময় তিনি পরিচিত লোকদের দিয়ে যারা তাকে ভোট দিয়েছেন তাদের খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ঘরে ঘরে না দিয়ে তিনি তেরোতরন বাজারে প্রায় পাঁচশ মানুষকে জড়ো করেন। পরে তিনি তার নির্ধারিত লোকদের ত্রাণ দিলে সাধারণ মানুষের রোষানলে পড়েন তিনি।’

এভাবেই সিসিকের ‘খাদ্য ফান্ডের’ ত্রাণ বিতরণের অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছিলেন নগরীর ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা তারেক মিয়া।

তবে শুধু তিনিই নন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের একই অভিযোগ করেছেন লামাপাড়া ও মিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দারাও। তারাও বলছেন, কাউন্সিলর এলাকার গরীব মানুষ বিবেচনা না করে শুধু নিজের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি নিজের মতো করে একটি তালিকা করেছেন। এই তালিকায় কাউন্সিলরকে যারাই ভোট দিয়েছেন তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্য কাউকে এই তালিকায় রাখা হয়নি।

অথচ এর আগে ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী ওয়ার্ড বহির্ভূত এলাকায় ও ভোটারভিত্তিক বিতরণ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে জামায়াতের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সিসিকের ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এসব কিছুই মানেন নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। একজন তো ত্রাণ বিতরণের সময় ফেসবুকে লাইভে এসে জানিয়েছেন ক্ষোভ। এমনকি বারবার বলছিলের ত্রাণ বিতরণের অনিয়মের কথাও।

এদিকে সম্প্রতি একটি ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, যারা এই মুহূর্তে কারো হাতে হাত পেতে চাইতে পারছেনা, তাদের ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়া হোক। শুধু তাই না শুরু থেকে তিনি ঘরে ঘরে জনগণকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে আসলেও এসব কোন নির্দেশনায় কর্ণপাত করেননি কাউন্সিলর সোহেল। দেশের এ সংকট সময়েও তিনি করলেন ভোটের রাজনীতি। ফলে ওয়ার্ডজুড়ে জনসাধারণের মধ্যে চলছে ক্ষোভ।

আর বণ্টন ও তালিকা কিভাবে হলো কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেবেকা আক্তার লাকি। তিনি বলেন, কিভাবে তালিকা করা হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তিনি (কাউন্সিলর) কিভাবে তালিকা করেছেন তা তিনিই বলতে পারবেন। তবে আমাকে শুধু বিতরণের দিন বলা হয়েছে। একদিন আমি বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলাম। তখন মানুষের অতিরিক্ত ঝামেলা দেখে আমি চলে আসি। কারণ বিতরণের দিন কাউন্সিলর যাদের হাতে কার্ড দিয়েছেন তারা ছাড়াও আরো অনেক লোক চলে এসেছিল। সেজন্য বিতরণের এলাকায় হট্টগোল হয়। এরপর আমাকে আরো বিভিন্ন জায়গায় বিতরণের জন্য বলা হলেও আমি যাই নি।

আর সিসিকের ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন অভিযোগ করার অধিকার জনগণের আছে উল্লেখ করে বলেন, আমার ওয়ার্ডে আড়াই হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। অথচ আমার ওয়ার্ডে প্রয়োজন প্রায় পনের হাজার। সেজন্য আমি সবাইকে দিতে পারিনি। বেশিরভাগ এলাকায় মানুষ যারা পাওয়ার যোগ্য আমি তাদেরকেও দিতে পারিনি। কারণ আমার কাছে খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট কম। তবে আমি চেষ্টা করেছি যারা একেবারেই গরীব তাদের কাছে পৌঁছে দিতে। তবে আমি কাউন্সিলর হিসেবে সবার পাশে হয়তো দাঁড়ানো উচিত, কিন্তু আমি তো পারছি না। সেজন্য হয়তো মানুষ অভিযোগ করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে আরও চারশত প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। এরপরও আমি চেষ্টা করছি। আমার পরিচিত মানুষদের বলা হচ্ছে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য। এজন্য যারাই আমাকে ফোন দিচ্ছে আমি তাদের নাম আর নাম্বার তালিকা করে রাখছি। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ জনের মতো তালিকা আমার কাছে আছে।

ওয়ার্ডে তালিকা কিভাবে করা হল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়র আমাকে বলেছেন সংরক্ষিত কাউন্সিলরকে শুধু বিতরণের সময় বলতে। আমিও তাকে শুধু বিতরণের সময় বলেছি। আর তালিকা বলতে কিছু সংগঠন আছে আবার কিছু এলাকায় আমাদের পরিচিত মানুষ আছে। তাদের চার পাঁচজনকে নিয়ে আমরা তালিকা করেছি। তবে আমি আবারও বলছি আমার এলাকায় সিসিকের দেয়া খাদ্য সামগ্রী পর্যাপ্ত নয়।

আর বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি উল্লেখ করে এ কাউন্সিলর বলেন, প্যাকেট করা থেকে বিতরণের সময় পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ট্যাগ কর্মকর্তা আমাদের সাথে ছিলেন। তবুও প্যাকেটের ওজন কিছুটা কম হতে পারে। কারণ প্যাকেটগুলোতো মানুষই করেছে, সেজন্য বললাম।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করতে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। এরপর রাত ১২ টার দিকে ফোন দিলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close