সিলেটে লঙ্ঘিত হচ্ছে মসজিদ কেন্দ্রীক নিষেধ !

সিলেটে করোনায় একজন চিকিৎসক সংক্রমিত হওয়ার পর কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এড়াতে নগরীর মানুষ বেশ সতর্ক হয়ে উঠেছেন। এলাকা এলাকায় স্বেচ্ছা লক ডাউনের তৎপরতা চলছে। নগরীর বেশ ক’টি এলাকা ইতিমধ্যে স্বেচ্ছা লক ডাউনে চলে গেছে। সরকারের কঠোর নির্দেশ, নানা প্রচার প্রচারনা, মানুষজনকে ঘরে আটকে রাখতে যখন সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তখন স্বেচ্ছায় ‘লকডাউনে’ সিলেট নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা ।

এই স্বেচ্ছা সতর্কতা বা সচেতনতা সিলেট নগরীকে নিরাপদ রাখতে পারে এমনটা বলেছেন সিভিল সার্জন ডাঃ প্রেমানন্দ মন্ডল ।

নগরীর লামাবাজার, মণিপুরি পাড়া, লালদিঘীর পার, আম্বরখানার ঘূর্ণি আবাসিক এলাকা, শিবগঞ্জ, সুবিদবাজারের লন্ডনি রোড, বড়বাজার, করেরপাড়া, শাহজালাল আবাসিক এলাকা, নয়াসড়কের মিশন গলি, বাগবাড়ি, কলাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এলাকাবাসী স্বপ্রণোদিতভাবে এই লকডাউন কার্যকর করেছেন। এসব এলাকায় জরুরী প্রয়োজনে কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে হলে সাবান পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মাধ্যমে হাতকে জীবানুমুক্ত করে তবেই প্রবেশ করতে হবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

মসজিদে নামাজ আদায়ে বিধি নিষেধ আরোপ করা হলেও এক্ষেত্রে এই নিয়ম অনেকেই মানছেন না। প্রতি ওয়াক্তের জামাতেই মসজিদগুলোতে বেশসংখক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। মসজিদের ইমাম,মুয়াজ্জিনরাও এ ব্যাপারে বেশ উদাসীন। জনসচেতনতা তৈরিতে তারা খুব কার্যকর ভুমিকা রাখছেন না বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন। সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজান শেষে প্রতি ওয়াক্তে মসজিদ থেকে মাইকে ঘরে নামাজ পড়া, মসজিদে না আসা-আহবান জানালে হয়তো এ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সিলেট বিভাগের সিলেট জেলা ছাড়া বাকী তিন জেলায় ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন আরও ২৯ জন । বর্তমানে সিলেটে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫০৯ জন ।

এছাড়া ৭০ জনের হোম কোয়ারেন্টিন এর মেয়াদ শেষ হলে তাদেরকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে । শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন একজন । সিলেট বিভাগে মোট ৩ হাজার ৪৪৪ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিলো ।

এর মধ্যে ২ হাজার ৯৩৫ জন কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডাঃ আনিসুর রহমান বলেন, আজ থেকে সিলেটে করোনা টেষ্ট শুরু হয়েছে, সংক্রমিত রোগী আরও বাড়তে পারে ।

ব্যক্তিগত সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমনের হার কম হবে । তিনি আগামী দুই সপ্তাহ সকলকে খুব বেশি সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন ।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close