আজ থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজেই শুরু হচ্ছে করোনার পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত কিনা, এটা জানতে এতোদিন ঢাকার দিকে চেয়ে থাকতে হয়েছে সিলেটের মানুষকে। সিলেটে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নমুনা ঢাকায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হতো। সেখানে পরীক্ষা শেষে জানা যেতো ফলাফল। তবে এখন থেকে আর আইইডিসিআরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না সিলেটের মানুষকে।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজেই শুরু হচ্ছে করোনার পরীক্ষা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজের অণুজীববিজ্ঞান (মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি) বিভাগে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হবে। এ বিভাগে একটি অত্যাধুনিক ল্যাব (পরীক্ষাগার) স্থাপন করা হয়েছে। এ ল্যাবেই হবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শরীরের রক্ত, ঘাম ও মুখের লালার পরীক্ষা।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে করোনার পরীক্ষা শুরু করবো। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যারা ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করবেন, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।’

জানা গেছে, ওসমানীর ল্যাবে শুরুতে দুটি শিফটে কাজ করবেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি শিফট হবে ৪ ঘন্টা করে। একেকটি শিফটে নমুনা পরীক্ষা করা যাবে ৯৪টি করে। এ ল্যাবে সিলেট বিভাগের ৪টি জেলা থেকে সংগৃহিত নমুনা পরীক্ষা করা হবে। নমুনা সংগ্রহের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া দুটি বিশেষ ধরনের গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ি দিয়েই প্রত্যেক জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আনা হবে ওসমানীর ল্যাবে।

এ প্রসঙ্গে ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘দুটি শিফটে ৮ ঘন্টা সময়ে প্রায় দুইশত (১৮৮টি) নমুনা পরীক্ষা করা হবে শুরুতে। পরবর্তীতে শিফট বাড়িয়ে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে।’

এই কর্মকর্তা আরো জানান, নমুনা পরীক্ষার জন্য আপাতত ৫শ’ কিট আছে ওসমানীতে। তবে আরো কিট আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওসমানীর ল্যাবে প্রতি শিফটে মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, টেকনিশিয়ানসহ অন্তত ৭ থেকে ৮ জন করে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের জন্য সুরক্ষিত পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে, ওসমানীতে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব চালু করা নিয়ে গতকাল সোমবার সকালে বৈঠক করেছে করোনা সনাক্তকরণ কমিটি।

এ কমিটির চেয়ারম্যান ও  ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. ময়নুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিলেটের সিভিল সার্জনসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ওসমানী মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় তলায় স্থাপন করা হয়েছে ল্যাব। গত কয়েক দিনে তৈরি করা এই ল্যাবে পলিমিয়ার্স চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) যন্ত্রসহ অন্যান্য যেসব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে, সেগুলো আনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও কোরিয়া থেকে। এসব থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি প্রথমে আসে ঢাকায়। সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় সিলেটে।

দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, ওসমানীর ল্যাবে শুধু পরীক্ষা করা হবে। কেউ আক্রান্ত হলে তাকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হবে না। ভর্তির জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য বায়ো সেফটি লেভেল-৩ (বিএসএল-৩) ধরনের ল্যাব প্রয়োজন। ঠিক এরকম ল্যাবই স্থাপন করা হয়েছে ওসমানীতে। এটি হাইপ্রোফাইল এবং হাইলি সিকিউরড ল্যাব।

ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. ময়নুল হক বলেন, ‘ল্যাব সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। এখন নমুনা নিয়ে আসার পরই পরীক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাবে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close