চারিদিকে চাপা আতঙ্কে,একদিনেই পাল্টে গেল সিলেট

সিলেটের বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের অনেকেই বাসায় থাকছেন না। কেউ অংশ নিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে। আবার কেউবা স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন। এমন দৃশ্য গতকাল পর্যন্তও ধরা পড়েছে সিলেটের প্রশাসনের তদারকিতে। তবে আজকের দৃশ্যপটটা ভিন্ন।

কারণ একটাই, গতকাল সিলেটবাসীর জন্য এসেছে বড় দু:সংবাদ। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন খোদ একজন চিকিৎসক। মৌলভীবাজারে মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন। এমন খবরে পুরো সিলেটজুড়ে এখন নীরবতা। কপালে চিন্তার রেখা। মানুষের মনে চাপা আতঙ্ক।

চারদিকে খাঁ খাঁ! রাজপথ, হোটেল, রেস্তোরাঁ সব বন্ধ। প্রায় নিস্তব্ধ চারদিক। হ্ঠাৎ চোখে পড়ে কোনো মানুষের। যানবাহন চলছে দু-একটা। নগরীর হাউজিং এস্টেটে বসবাসরত চিকিৎসকের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে পুরো নগরী এখন এমনভাবেই থমকে গেছে। গতকাল পর্যন্ত যে লোকের ভিড় ছিল আজ তা নেই বললেই চলে। নেই পর্যাপ্ত যানবাহনও। সোমবার নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

নগরীর বন্দর, জিন্দাবাজার, রিকাবীবাজার, লামা বাজার, মিরাবাজার, চৌহাট্রা ঘুরে দেখা গেছে এমন ভুতুড়ে চিত্র। চারদিকে সুনশান নীরবতা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া সরকারিভাবে বারণ। তবে গতকাল রোববার নগরীতে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও দেখা গেছে মানুষের ভীড়। গভীর রাত ছাড়া জনাসাধারণের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডেও ছিল যানবাহন। দিনের কোন এক সময়ে পুলিশ গিয়ে একটু আধটু হুমকী দামকি দিলেও চিত্র তেমন বদলায়না। পুলিশ দেখলেই জনসাধারণ দৌড় দেয় আবার পুলিশ ফিরে গেলে আড্ডা জমায় সবাই।

তবে আজকে নগরীতে এমন চিত্র দেখা যায়নি। তাছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনীর তদারকীও ছিল বেশ কঠোর।এদিকে রোববার বিকেল ৫টায় দোকানপাট বন্ধ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ছিলো তৎপর। সিলেট নগরীর বন্দর বাজার, আম্বরখানা, লামা বাজার, রিকাবী বাজার, মিরাবাজার সহ সব জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ঔষধের দোকান ছাড়া অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দোকান একই সময়ে বন্ধ হতে দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখতে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম শনিবার রাতে বিকেল ৫টায় দোকানপাট বন্ধ রাখার আদেশ জারী করেন। সিলেট শহর ও জেলার সকল উপজেলার ক্ষেত্রে এ নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ প্রদান করেন শনিবার রাতে। সকাল থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ও সার, বীজ, কীটনাশকের দোকান খোলা রাখা যাবে । আর বন্ধ করতে হবে বিকেল ৫টায়। বিকেল ৫টা পর শুধু ঔষধের দোকান খোলা রাখা যাবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close