করোনাআক্রান্ত জাতির উদ্দেশে ভাষণ ব্রিটিশ রানির

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ৯৩ বছর বয়সের ইতিহাসে আজ চতুর্থবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন রানি। রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া ভাষণে রানি, শৃঙ্খলা মেনে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। 

স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৮টায় টিভি চ্যানেল, রেডিও ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে তার এ ভাষণ একযোগে প্রচারিত হয়েছে। করোনভাইরাসের এই  মহামারির সময়ে লোকজনকে নিজ উদ্যোগে শৃঙ্খলা মেনে চলার মাধ্যমে বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন রানি।

এই বিপর্যয়ের সময়ে ব্রিটিশরা যে দুঃখ, বেদনা ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন ভাষণে তাও স্বীকার করেন রানি। ধন্যবাদ জানান, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের। সংকটকালে জীবন বাজি রেখে আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে তা পালনের ওপর জোর দেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তিনি বলেন, একটি ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের সময়ে আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের জাতীয় জীবনে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা কারো জন্য দুঃখ নিয়ে এসেছে। অনেকের কাছে আর্থিক সংকট এবং আমাদের সবার দৈনন্দিন জীবনে একটি বিশাল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

রানি বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের নাগরিকরা এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের প্রত্যাশা পরিস্থিতি এক সময় স্বাভাবিক হবে। তখন সবাই এমন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে জয়ী হওয়ার জন্য গর্ব করবে। এ প্রজন্মের ব্রিটিশদের তখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

রানি বলেছেন, যুক্তরাজ্য করোনাভাইরাস মহামারিটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘সফল হবে’। রাজবাড়িতে বসে দেওয়া বিরল ভাষণে, তিনি বাড়িতে থাকার জন্য সরকারি বিধি অনুসরণ করার জন্য দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ‘অন্যদের সহায়তার জন্য একযোগে যারা কাজ করছেন তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। রানি তাঁর ভাষণে বলেন, যদিও আমরা এর আগেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু  এটি ভিন্ন। 

‘এবার আমরা বিশ্বজুড়ে সমস্ত জাতির সঙ্গে বিজ্ঞানের দুর্দান্ত অগ্রগতি এবং করোনা নিরাময়ের জন্য আমাদের সহজাত সহানুভূতি ব্যবহার করে একটি সম্মিলিত প্রয়াসে যোগদান করেছি। আমরা সফল হব- এবং সেই সাফল্য আমাদের প্রত্যেকেরই হবে।

‘আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা উচিত যে ভালো দিন ফিরে আসবে, আমরা আবার আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে থাকব, আমরা আবার আমাদের পরিবারের সঙ্গে থাকব, আমরা আবার দেখা করব।’

রানি আরো বলেন, ‘তাদের প্রিয়জনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনাদায়ক অনুভূতি’ যা সামাজিক দূরত্বের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শিশু অপহরণকারীদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close