কাউন্সিলর রিপনের বিরুদ্ধে ত্রান নিয়ে চালবাজির অভিযোগ !

নিজস্ব প্রতিবেদকঃঃ এবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল আহমেদ রিপনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে যেসব খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে তা অনেকেই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগকারীদের অভিযোগের প্রক্ষিতে জানাজায় নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়েত নেতা সোহেল আহমেদ রিপনের এমন স্বজনপ্রীতির কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে ঐ এলাকার দরিদ্র মানুষের জনজীবন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছে গণপরিবহন কর্মী, দিনমজুর,রিকশা-ভ্যান চালক, চা-দোকানিসহ নিম্ন আয়ের অনেক শ্রমজীবী।ছুটির কারণে তাদের আয়েও ভাটা পড়েছে। ফলে দৈনন্দিন জীবনের খরচ যোগান-ই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কিছু অসাধু কাউন্সিলরদের স্বজনপ্রীতির কারণে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ওয়ার্ডবাসী। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের মতো অনিয়ম আরো বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে দেখা গেছে।

কাউন্সিলর সোহেল আহমেদ রিপন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রভাবশালী নেতা। যেখানে প্রাণঘাতী ভাইরাস পুরো বিশ্ব জুড়ে মহামারীর আকার ধারণ করেছে। নিশ্চুপ হয়ে আছে পুরো বিশ্বের মানুষ। এক ধরনের অসহায়ের মতো বেঁচে আছে সবাই।আর এই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে জনগণের চাহিদা মেটানোর আশায়। সেখানে সরকারের সফলতা জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কিছু কুচক্রী মহল উঠেপড়ে লেগেছে।সিলেট নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়েত নেতা সুহেল আহমেদ রিপন নিজ পছন্দের লোকদের মধ্যে সরকার ও সিসিকের বরাদ্ধকৃত খাদ্যসামগ্রী নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরনের অভিযোগ উঠেছে।

এই অনিয়মের কারণে সিলেট নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সবার মুখে একই কথা খাদ্যসামগ্রীর সুষ্ঠু বন্টন হয়নি। ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগ, ২৪নং ওয়ার্ডের তেররতন,পশ্চিম তেররতন, সৈদানীবাগ, সাদারপাড়া, শাপলাবাগ, গোলাপবাগ সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় যায়নি সিটি কর্পোরেশনের খাদ্যসামগ্রী।

তারা খুব শিগগিরই মেয়র মহোদয়ের শরণাপন্ন হয়ে অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানান। কাউন্সিলর রিপনের ত্রান নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘৃণা ও ক্ষোভের ঝড় শুরু হয়। বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সব জায়গায়। এ বিষয়ে জানতে কাউন্সিলর রিপনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।সিসিক সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস ইস্যুতে ঘরবন্দি কর্মহীন মানুষের সাহায্যার্থে ফান্ড গঠন করে সাহায্যের আহ্বান জানান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ সহযোগিতা করেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ী। সরকার থেকে ১০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয় সিসিকে।

সেই সঙ্গে সিসিকের তহবিল থেকে ক্রয় এবং ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষের অনুদানে বড় হয়ে ওঠে সিসিকের ত্রাণভাণ্ডার। সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, ত্রাণ জমা হয়েছে ৩৭৬.৬৫ টন চাল, ১৭১.৫৪ টন আলু, ৭৯.৫০ টন পেঁয়াজ, ৭৫.৪৭ টন ডাল, ৭১.৫৭ টন তেল, ৪৯.৫ টন লবন ছাড়াও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১০০ টন চাল বরাদ্দ আসে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, এই ত্রাণ থেকে প্রতি পরিবার ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি করে তেল, ডাল, লবণ ও সাবান, মাস্ক দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শনিবার (৪ঠা এপ্রিল) রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই কার্যক্রম।

করোনা পরিস্থিতিতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নগরীর ৬৯ হাজার ৬০০ পরিবারে পৌঁছেছে সিসিকের খাদ্য সহায়তা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক ছুটিতে কর্মহীন নিম্ন আয়ের অসহায় নাগরিকদের খাদ্য সহায়তা দিতে গঠিত খাদ্য ফান্ডের আওতায় ঊনসত্তর হাজার ছয়শো পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close