করোনা:সিলেটে চরম হতাশায় খেটে খাওয়া সাধারণ লোকজন

শেখ মোঃ লুৎফুর রহমান::চলমান করোনা পরিস্থিতি সিলেট নগরীর  ও সদর উপজেলার নিম্ন আয়ের লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন। গত কদিনের টানা অঘোষিত লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর মধ্যে চরম হতাশ হয়ে পড়ছেন দৈনিক ভিত্তিতে খেটে খাওয়া সাধারণ লোকজন।

চলমান পরিস্থিতিতে নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে চিন্তিত তারা। করোনার চেয়ে বেশি চিন্তা করছেন সংসার চালানো নিয়ে।

সিলেট নগরী ও সিলেটের সদর উপজেলাসহ বেশ কয়েকজন নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।
বালুচর নয়াবাজারের নুরানী চা -হোটেলের সত্বাধিকারী আলাউদ্দিন জানান, এ ব্যবসা দিয়ে তিন ছেলে মেয়ের পড়াশোনাসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার টানাটুনি করে চালাচ্ছেন। ১১ দিন ধরে দোকান বন্ধ। না খেয়ে থাকলেও সংসার চালানো নিয়ে চরম হতাশ হয়ে দোকানের সামনে বসে আছেন।

তার পাশে বসে আছেন আব্দুলহক নামে একজন। যিনি একটি রিক্সা চালিয়ে দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন।তার পরিবারে তিন মেয়ে এক ছেলে ও স্ত্রীসহ ৬ জনের সংসার।

তিনি জানান, তার আয়ে চলে ছয় সদস্যের পরিবার। গত ১৬ দিন ধরে কাজ বন্ধ। এভাবে ঘুরলে খরচ বেশি। গত ১৬ দিন ধরে আয়রোজগার বন্ধ। আর কয়দিন চলবে কে জানে। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে মরব।

এ দিকে সি এনজি চালক হাবিব,শাহিন,রমজান,

জানান,গত ১৬ দিনে আমারা শেষ হয়ে যাচ্ছি।অটোরিক্সা সিএন জি বন্ধ থাকায় প্রথম ৠণ করে চললেও এখন পরিবার নিয়ে বিপাকে আছি খুব কষ্টে চলছে সংসার। কোনু সময় না খেয়ে ও থাকতে হচ্ছে।

এদিকে,সিলেট নগরীর কাজীটুলা বাজারে এক সেলুনের লাকী হেয়ারের সত্বাধিকারী রঞ্জন নামের একজন তিনি জানান, ১০/১১ দিন ধরে কাজ বন্ধ। অন্য দোকানপাট কিছুটা খোলা থাকলেও সেলুন একদম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর কয়দিন এভাবে থাকতে হবে তা ভেবেও হতাশ তিনি।সিলেট নগরী ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারের এসব নিম্নআয়ের মানুষেরা তাদের দুর্ভোগের কথা জানান।

তারা জানান, বড় লোকেরা হয়তো ঘরে থেকে এভাবে চলতে পারবে। কিন্তু আমাদের কি হবে? আমরা তো দিন আনি দিন খাই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাব।

এ দুর্যোগে সরকার বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দিলেও এখনো তা না পেয়েও হতাশ তারা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকৃত খেটেখাওয়া হতদরিদ্রের তালিকা করে দ্রুততম সময়ে সহায়তা করার অনুরোধ করেন এসব নিম্নআয়ের লোকজন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো.জেদান আল মুসাকে ফোন দিলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে এ ব্যাপারে হযরত শাহপরাণ থানার ওসি সিলেটপোস্টকে জানান,আসলে এ ব্যাপারে আমার বলার কিছু নাইআপনি মিডিয়া স্যার এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলতে পারেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close