নগরীর তেররতন এলাকায় ‘সামাজিক দূরত্বের’নির্দেশনা অমান্য করে বাড়ছে জনসমাগম

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের পক্ষ থেকেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সিলেট নগরীর পাড়া মহল্লায় বাড়তে শুরু করেছে জনসমাগম। এতে অনেকক্ষেত্রেই লঙ্ঘিত হচ্ছে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সারাদেশে চলছে অঘোষিত লক ডাউন। বন্ধ গণপরিবহন, ট্রেন, বিমান। বন্ধ রয়েছে সরকারি অফিস, আদালত, বেসরকারি অফিসের কার্যক্রমও। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য নামানো হয়েছে সেনা। তবে এতো উদ্যোগ সত্ত্বেও সিলেট নগরীর তেররতন,পশ্চিম তেররতনে মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না।

বুধবার দুপুরে সিসিকের (২৪) নং ওয়ার্ডের তেররতন এলাকা ,সাদারপাড়া এলাকার জঙ্গলাবাড়ি ,ও পশ্চিম তেররতন এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সংখ্যায় কিছুটা অবাধে চলছে রিকশা, অটোরিকশা।তেররতন বাজারে বাড়ছে জনসমাগম।

নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে দেখা যায়, শ’দুয়েক সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে যাত্রীর অপেক্ষায়। দুদিন আগেও যেখানে উপজেলার সাথে একরকম বিচ্ছিন্ন ছিল সিলেট নগরী, এখন অটোরিকশার অবাধ চলাচলে তা স্বাভাবিক হয়ে ওঠছে অনেকটাই। আম্বরখানা থেকে সালুটিকর, কোম্পানীগঞ্জ, টিলাগড়ের সাথে অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছেন তারা। একই অবস্থা নগরীর মদিনা মার্কেট, তালতলা, বন্দরবাজার, কদমতলী, হুমায়ুন রশিদ চত্বর এলাকাতেও। নগরীর আখালিয়া এলাকায় দেখা যায়, খোলা রয়েছে রেস্টুরেন্ট, চা স্টল।

সরকারি নির্দেশনা মতে জরুরী সেবাসহ নিত্যপণ্য আর ফার্মেসী খোলা থাকার কথা থাকলেও সেই নির্দেশনা অমান্য করেই খোলা রয়েছে বিভিন্ন মিষ্টির দোকান, কনফেকশনারি, স্টেশনারি, হার্ডওয়ারের দোকানও। আর এসব দোকান খোলা থাকার কারণে নগরীতে বাড়ছে জনসাধারণের আনাগোনাও। এর ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

সড়কে সকলেই বলছেন, জরুরী প্রয়োজনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন তারা। আর নিম্ন আয়ের মানুষের দাবি, আয় রোজগারের আশায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হয় তাদের। অটোরিকশা চালকদের ভাষ্য বাধ্য হয়েই তারা ঘর থেকে বেরিয়েছেন। পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা পেলে তারাও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবেন।

এব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেটে গণপরিবহন বলতে কিছু নেই। সিএনজিগুলোই গণপরিবহনের ভূমিকায়। এমন অবস্থায় এক সিএনজিতে গাদাগাদি করে ৪/৫ জন লোক যাতায়াত করলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবেই। কারণ আপনি জানেনও না আপনার পাশের যাত্রী করোনা বহন করছেন কিনা, এক্ষেত্রে সিএনজিতে একাধিক যাত্রী পরিবহণ এড়িয়ে চলতে হবে। তিনি এক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু যানবাহনের ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে নিত্যপণ্যের দোকান আর কাঁচাবাজারের ক্ষেত্রেও। কোনোভাবেই এটি অমান্য করা উচিৎ নয়। এতে ঝুঁকি থেকেই যাবে।

তবে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে, নিত্যপণ্যের দোকান কিংবা কাঁচাবাজারে সামাজিক দূরত্ব মানার ব্যাপারে অনীহা থাকলেও এদিকে নজর দিচ্ছেনা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, আমরা এসএমপির পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য নগরজুড়ে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। প্রয়োজন ছাড়া যাতে কেউ বাইরে না যান সে ব্যাপারে সচেতন করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে গত দুদিন থেকে নগরীতে জনসমাগম বাড়ছে এটা আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের টহল দলগুলো যেখানেই জনসমাগম দেখছে সেখানেই লোকজনকে অনুরোধ করছেন যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন।

তিনি আরও বলেন, সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতে হঠাৎ করেই ভিড় বাড়ছে এটাও আমাদের নজরদারিতে আছে।আমরা ইতিমধ্যেই সিএনজি চালক শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছি, এরপরেও যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় তাহলে পুলিশ কঠোর হবে। এছাড়া অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান ছাড়া অন্য কোন দোকান খোলা পেলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর থেকে এক বার্তায় বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সকল স্থানে (গ্রাম, বন্দর, ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন) সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টিনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে। সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলী অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close