সিলেটে প্রবাসীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সিলেটে করোনা পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন-এই সময়ে প্রবাসীরা সচেতন হয়ে উঠলে সারাদেশ বিপদমুক্ত থাকবে,সেই সাথে সিলেটও হবে আশঙ্কামুক্ত। কিন্তু প্রবাসীরা বলছেন ভিন্ন কথা।

তাদের বক্তব্য হচ্ছে সিলেটে এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকা কোনো প্রবাসীর রিপোর্টে করোনার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু তবুও দু:খজনক ভাবে বিভিন্ন স্থানে প্রবাসীদের নিয়ে ট্রল করা শুরু হয়েছে। এমনকি কোন কোন যায়গায় পুলিশের কিছু কর্মকর্তা পর্যন্ত প্রবাসীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন।

এদিকে, ৩১ মার্চ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছের সিলেটের জেলা প্রসাশক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সিলেটে প্রায় ২৬ হাজার প্রবাসী এসেছেন। শুধু মাত্র মার্চ মাসেই ৯ হাজার প্রবাসী সিলেটে প্রবেশ করেছেন। বিমানবন্দরে এসব প্রবাসীদের থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। যাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে তাদেরকে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রসাশন তাদেরকে সার্বক্ষনিক নজরদারীতে রেখেছে।

কিন্তু এই বিষয়টি মানতে নারাজ অনেকেই। নগরীর মীরাবাজারের বাসিন্দা সুধাম দাস বলেন, প্রবাসীরা রীতিমত স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। হরদম ঘুরে বেড়াচ্ছেন যে যার মত। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দাওয়াতও খাচ্ছেন । প্রসাশনের নজরদারী “কাজীর গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নাই” এর মত অবস্থা । যদিও সিলেট এখন পর্যন্ত করোনামুক্ত ।

জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী মহসিন আহমদ বলেন, প্রবাসীদের ব্যাপারে সিলেটের পুলিশ প্রশাসন এখনও অনেকটা উদাসিন। প্রসাশনের ঢিলেমির কারনে যেকোন সময় পাল্টে যেতে পারে চিত্র- এমন আশঙ্খা এই ব্যবসায়ীর।

কিন্তু পাল্টা অভিযোগ করে পুলিশের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্য থেকে আসা উপশহরের মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন পুলিশ প্রসাশন প্রবাসীদের উপর অসৌজন্যমুলক আচরন করছে এবং প্রবাসীদের মনে এক ধরনের ভীতি ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একই বক্তব্য ইটালী ফেরত সুনামগঞ্জের গেদন মিয়ার। তিনি বলেন-অবস্থাটা এমন যে, প্রবাসী হলেই যেনো করোনা নিশ্চিত। এই ধারণাটি আমাদের প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও পীড়াদায়ক। তিনি বলেন, যদি প্রবাসীদের মধ্যে এই ভাইরাস থাকতো, তাহলে সারা সিলেটে করোনা পরিস্থিতি হতো উদ্বেগজনক। কিন্তু এখনও সিলেটে কোনো প্রবাসীর মধ্যে এই লক্ষন খোঁজে পাওয়া যায়নি।

মোসাহেদ আহমেদ থাকেন লন্ডনে । মার্চের মাঝামাঝি দেশে ফিরেছেন তিনি। ৩ দিন ছিলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে । তারপর থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আপন মনে । তার প্রশ্ন প্রবাসীরা কি জঙ্গী ? প্রবাসীদের সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অমানবিক এবং লজ্জার । তিনি পুলিশের আচরনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন । সিলেট ফেরত প্রবাসীদের মধ্যে এখনও করোনা সংক্রমনের কোন তথ্য পাওয়া যায় নি । যাদেরকে সন্দেহ করা হয়েছিলো, তাদের প্রায় সবাই করোনামুক্ত বলে জানা গেছে।

পরিবেশবাদীরা সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আতংকিত। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার সার্বিক অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রাস্তার দুপাশে জীবানুর ভাগাড়, দিনে দুপুরে রাস্তার পাশে আবর্জনা ফেলে রাখা নিয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধাক্ষ্য ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডাঃ শিশির চক্রবর্তী মানুষকে আতংকিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, করোনা সংক্রমন এড়াতে সেল্ফ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে সবাই ভালো থাকবেন।
এসময়টা সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ঘর আপনার জন্য নিরাপদ।

এদিকে, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইন এবং লকডাউন একই বিষয় নয়। লক ডাউন হচ্ছে ঘর থেকে বের না হওয়া। কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে সংক্রামন ঝুঁকি থেকে পরিবেশ এবং পরিবারকে রক্ষা করার একটি পদ্ধতি। এটি শুধু প্রবাসীদের জন্যই নয়, যাদের মধ্যে স্বাভাবিক জ্বর, কাশি অথবা অজানা কোনো উপসর্গ ধরা পড়ে তাদেরকেই কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন থাকার নির্দেশ পালন করতে হবে।

তবে, তা হবে একেবারেই এক ঘরে। অর্থাৎ খাবার দাবার সবকিছুই হবে আলাদা। ১৪ দিন পর কোনো প্রবাসী বাসা থেকে বের হলেও করোনা সংক্রামনের ঝুঁকিটা অনেক কমে যায়। তিনি বলেন, প্রবাসীদের প্রতি অমানবিক আচরণের কোনো অভিযোগ এখনও শুনিনি । তিনি ঘরে থেকে সচেতনতা অবলম্বনের মধ্য দিয়ে করোনাভীতিকে জয় করার আহবান জানান।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close