করোনার মধ্যেই ডেঙ্গু , আতঙ্কে নগরবাসী

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও হানা দিয়েছে এ মহামারি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৫১ জন আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতংকের মধ্যে সিলেটে নগরীতে ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে নগরীতে মশার উপদ্রবও বেড়েছে। নগরজুড়ে চলমান সংস্কার কাজের কারণে জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার হচ্ছে মশার। এসব নিয়ে করোনার মধ্যেই ডেঙ্গু সক্রমণের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৩ শত ৩২ জন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় চারগুণ।

নগরবাসী মনে করছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে আলোচনা কম হচ্ছে। তবে চলতি বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ গতবারের চেয়ে বেশি হতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।

এ ব্যাপারে সিলেট নগরীর ১১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ মনসুর বলেন, আগেতো বাড়িতে বেশি থাকা হতো না, তাই মশার এতো উপদ্রব বুঝা যেতো না। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ ছুটি ও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে সারাদিন ঘরেই থাকা হয়, তাই মশার উপদ্রব এখন বুঝা যায়।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শহরের বিভিন্ন জায়গা জীবাণুমুক্ত করছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। এতে করে মশার ওষুধ ছিটানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুম, এখন থেকে সিটি করপোরেশন যদি মশক নিধনে পরিকল্পনা গ্রহণ না করে তাহলে সামনে ডেঙ্গুজ্বর সিলেটে মহামারী আকার ধারণ করবে।

নগরীর এ বাসিন্দার সাথে একমত পোষণ করে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশসহ গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। কারণ সিসিকের মেয়র ও কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজে। তাই আমাদের নিয়মিত মশকনিধন কাজে গতি কিছুটা কমে এসেছে। তবে প্রতিদিনই নগরীর কোনো না কোনো ওয়ার্ডে মশক নিধন স্প্রে এবং ফগার মেশিন মাধ্যমে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে আমরা মুজিববর্ষকে সামনে রেখে যে গতিতে কাজটা শুরু করেছিলাম, বর্তমানে সেভাবে তা চালিয়ে নিতে পারছি না।

তিনি বলেন, এখনো সিলেটে বৃষ্টি শুরু হয়নি বা বর্ষা মৌসুম এখনও আসে নি। তাই বর্তমানে নগরীতে মশা থাকলেও তা ডেঙ্গু রোগ বহনকারী এডিস মশা নয়। তারপরও সিসিকের পক্ষ থেকে গত বারোদিন ধরে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। তবে বর্ষা মৌসুমের আগেই সিসিকের পক্ষ থেকে মশক নিধনে জোরেশোরে মাঠে নামবো। সেক্ষেত্রে ওয়ার্ড ভিত্তিক ভাবে আমরা কাজ করবো। এখন সময়টা ক্রিটিক্যাল (জটিল)। সবাই ভয়ে আছে। তবু সিটি করপোরেশনের কর্মীরা মাঠে আছেন।

তিনি আরও বলেন, শীঘ্রই প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা একটি করে নাগরিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবো। একইসাথে সিসিকের পক্ষ থেকে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালাবো। গত বছরের তুলনায় এ বছর সিসিক আরও ভালোভাবে ডেঙ্গু মোকাবেলা করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নগরীর ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কাওসার আমিন বলেন, এখন জ্বর নিয়ে কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে করোনা–আতঙ্কে তাকে ভর্তি করছে না কর্তৃপক্ষ। করোনার সঙ্গে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটলে বিনা চিকিৎসায় লোকজন মারা যাবে।

তবে এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাপসাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেটে এখনো বৃষ্টি শুরু হয়নি। আর ডেঙ্গু শুষ্ক মৌসুমে হয় না। তাই এখনও সিলেটে ডেঙ্গু আক্রান্ত কোন রোগী পাওয়া যায়নি। আর ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে তাদের চিকিৎসা দিতে। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালে পর্যাপ্ত কিট রয়েছে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য, যার মাধ্যমে রোগী শনাক্ত করা বা তাদের চিকিৎসার আওতায় আনতে খুব একটা সময় লাগবে না।

এ ব্যাপারে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বর্তমানে করোনাভাইরাস মোকাবেলা বা এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা এতোটাই ব্যস্ত যে, এই মূহুর্তে ডেঙ্গু নিয়ে আলাদা করে কোন পরিকল্পনাই করা হয় নি। কারণ একসাথে দুই-তিনটা জিনিস নিয়ে ভাবতে শুরু করলে আসলে কোনোটাতেই সফল হওয়া যাবে না। তাছাড়া এখন পর্যন্ত সিলেটে কোন ডেঙ্গু রোগী না পাওয়ায় আপাতত আমরা ডেঙ্গু নিয়ে ভাবছি না। তবে ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়ির আশেপাশে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়ে এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ঘরের ভেতর, বারান্দা বা ছাদে ফুলের টব, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, নির্মাণাধীন বাড়ির পাশে রাখা চৌবাচ্চা বা ড্রাম, কৌটা, নারিকেলের খোল ইত্যাদি মানুষের তৈরি কৃত্রিম পানির পাত্রে যেন পানি জমতে না পারে সেদিকে নগরবাসীকে সচেতন থাকতে হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close