করোনায় দুশ্চিন্তামুক্ত ও সুস্থ থাকতে করণীয়: শেখ আব্দুর রশিদ

কথায় বলে”বনের বাঘে খায়না মনের বাঘেখায়”।চীনের উহানে গত ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনা ভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয় কভিড-১৯ নামে। যা ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ সহ প্রায় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের মধ্যে আতংক, পেরে শানী, ভয় এমন ভাবে জায়গা করে নিয়েছে যে, কাজ করার স্বাভাবিক শক্তিটুকুও অনেকে পাচ্ছেনা।

এই করোনা নিয়ে নানারকম কথা উঠেছে যে, এটা মানবসৃষ্ট? নাপ্রাকৃতিক। এ নিয়ে গবেষণা বাত দন্তের সময় এখন নয়, বরং এখন উপস্থিত সময়ে আমরা করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আতংকিত না হয়ে বরং সে ব্যাক্তির মতো হতে চাই, এক ব্যাক্তি তিনি যখন বুঝতে পারলেন হার্ট সচল থাকলেও তা ঠিক ভাবে পাপ করছেনা ফুসফুসে দম নিতে চাইলেও দম নিতে পারছেন না, এমতাবস্থায় তিনি ৩০/৪০ সেকেন্ড দম বন্ধ রেখে এই সময় টুকু ও কাজেলা গিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাইলেন এবং তিনি তা করলেন। আমরাও সকল পরিস্থিতিতে সময়কে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাই।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, শতকরা ৭০ ভাগ রোগের কারণই হচ্ছে মানসিক। অর্থাৎ কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে মানসিক প্রতিক্রিয়াই ৭০ ভাগ রোগ সৃষ্টির কারণ। শতকরা ২০ ভাগ রোগের কারণ হচ্ছে ইনফেকশন, ভাইরাস আক্রমন, ভুলখাদ্য গ্রহণ ও ব্যায়াম না করা। শতকরা১০ ভাগ রোগের কারণ হচ্ছে দৈহিক আঘাত, ঔষুধ ও অপারেশনের প্রতিক্রিয়া।

বর্তমান পৃথিবীতে সমস্যা দুই দিক থেকে, এক দিকে করোনাভাইরাস আক্রমন আরেক দিকে এর ফলে মানসিক প্রতিক্রিয়া। আমরা যদি মানসিক প্রতিক্রিয়ার দিকটা সামলে নিতে পারি তাহলে ৭০ভাগ রোগ থেকে বেঁচে যাই আর ২০ ভাগের মধ্যে ইনফেকশন, ভূলখাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম না করার ক্ষতি যদি পুষিয়ে নেয়া যায় তাহলে শুধু ভাইরাস আক্রমনে মানুষের ক্ষতি কতটুকুইবা থাকে?

মানব দেহ এক অপূর্ব সৃষ্টি। এই দেহে রয়েছে ৭০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন কোষ। প্রতিটি কোষেখাবার পৌছানোর জন্য রয়েছে ৬০ হাজার মাইল পাইপ লাইন,রয়েছে ফুসফুসের মত রক্ত শোধনাগার, হার্টেরমত শক্তিশালী পাপযা জীবদ্দশায় সাড়ে ৪ কোটি গ্যালনের চেয়ে বেশী রক্ত পা¤পকরে। আর এই দেহের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে সার্কুলেটরী, নার্ভাস, এন্ড ক্রাইন, ইমিউন সিষ্টেমের মত অসংখ্য সিষ্টেম।

প্রতিদিন কোটি কোটি ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া, এলার্জেন, ফাঙ্গি ইত্যাদির মুখোমুখি হচ্ছি আমরা এবং এর অতি ক্ষুদ্রাংশই রোগ পর্যন্ত গড়ায়। কারণ; মানুষের প্রত্যেকেরই রয়েছে দৈহিক ও মানসিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার পর বলেছেন মন সেরা ডাক্তার আর মানব দেহ সবচেয়ে সেরা ফার্মেসী। যেকোন ঔষধ কো¤পানীর চেয়ে মানব দেহ বেশি ভালো ভাবে পেইনকিলার, ট্রাঙ্কুলাইজার, এন্টিবায়োটিক ইত্যাদি তৈরী করতে এবংসঠিক মাত্রায় সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে পারে।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সমস্ত প্রাণীর বিকাশের মূলে নিহিত রয়েছে জেনেটিক কোড তথাডিএনএ। ডিএনএ-কে আরেক অর্থে বলা যায় জেনেটিক স্মৃতি ভান্ডার। মানুষ ঠান্ডাবা অন্য যে কোন রোগ থেকে নিরাময় লাভ করতে পারছে, কারণ লক্ষ বছর আগে থেকে যে এন্টিবডি ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে শিখেছে, সেই এন্টিবডির স্মৃতি ও তথ্য মানুষের থাইমাস গ্লান্ডে সংরক্ষিত আছে এবং ইমিউনসিষ্টেম হচ্ছে পূর্ব পুরুষেরা যেসব রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তার প্রতিটির তথ্য সম্বলিত এক বিশ্বকোষ।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আশরাফুল মাখলুকাত। প্রথমত,স্রষ্টার প্রতিআস্থা ও বিশ্বাস থাকা। আমরা মহাজাগতিক মুসাফির অর্থাৎ কসমিক ট্রাভেলার।তাঁরকাছ থেকে, তাঁর ইচ্ছায় এসেছি, তাঁর নির্ধারিত একটা সময় পৃথিবীতে থাকবো এবং তাঁর ইচ্ছায় পৃথিবী থেকে চলে যেতেহবে। শ্রষ্ঠায় বিশ্বাসী কখনো আতংকিত হতে পারেনা। কারণমৃত্যু থেকে কি কেউ পালাতে পারে কখনো! যার যে রোগে মৃত্যু এটা উসিলা মাত্র। সুতরাং জীবন যেরকম বীরের মতো মৃত্যু ও সেরকম বীরের মতো হওয়া উচিত।

শ্রষ্টা মহাবিশ্বে তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে এমনি এমনি ছেড়ে দেননি, বেঁচে থাকার সকল উপকরণ ও দিয়েছেন। করোনাভাইরাস নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যা বলেছেন এর সার সংক্ষেপ হচ্ছে প্রথমতঃ সতর্কতা অবলম্বন ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাই মিউনসিস্টেমকে শক্তিশালী করা।

করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী তাদের বেশীরভাগই আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক ষ্টেজেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কারণ এই প্রাথমিক ষ্টেজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের সাথে লড়াইকরে সেটিকে প্রতিহত করে ফেলে। তারপরও ব্যতিক্রম যে নেই তা নয় তাই প্রয়োজন সতর্কতা।

সাবান দিয়ে বার বার হাত ধোয়া, হাঁচি, কাশি ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা এজন্য সব সময় একটা রুমাল ব্যবহার করা। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণ জনিত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং মানসিক প্রতিক্রিয়ার কারনে ৭০ ভাগ রোগ অবসানে হার্ভাড মেডিকেল স্কুল ১২ মার্চ ২০২০ এ যোগব্যায়াম, প্রানায়াম ও মেডিটেশন করার পরামর্শ দিয়েছে।

শব্দ বা কথা এক প্রচন্ড শক্তি। কথা শুধু বাস্তবতার বিবরণই দেয়না, বাস্তবতা সৃষ্টিকরে। ফ্রান্সেরডা. এমিল কোঁয়ে ১৯১০ সালে তিনি অটোসাজেশনের মাধ্যমে রোগমুক্তির জন্যে ক্লিনিক স্থাপন করেন। তিনি রোগীদের নিজে নিজে রোগমুক্ত হওয়ার উপায় শিক্ষা দিতেন। প্রত্যকে রোগীকে একটানা বিশবার বলতে হতো “ডে বাই ডে ইন এভরিওয়ে, আই’এম গেটিং বেটার এন্ড বেটার।” সকালে বিশবার, বিকালে বিশবার ব্যস রোগ উধাও। আমরা নিজেকে প্রতিদিন শতবার এই অটোসাজেশনটি দিতে পারি”সুস্থ দেহ প্রশান্ত মনকর্মব্যস্ত সুখীজীবন।”

সকালে নাশতার সাথে এক কোষকাঁচারসুন ও ২৫/৩০ টি কালোজিরার দানা খাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমান বিশুদ্ধ গরম পানি পান করুন।

সম্প্রতি জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোয়ান্টামফাউন্ডেশন প্রকাশিত ‘শুদ্ধাচার’ বইটি অন্তর্ভুক্ত করাহয়েছে। তাই যতক্ষণ ঘরে থাকতে হচ্ছে ততক্ষণ টিভি, মোবাইল, ফেসবুক, ইন্টারনেট ইত্যাদিতে সময় নষ্ট না করে এই সময়ে ‘শুদ্ধাচার’ বইটি পড়তে পারেন এবং নিজ নিজ ধর্মমতে বিপদ মুক্তির জন্য প্রার্থনাকরুন। স্রষ্টা সকলের সহায় হউন, আমিন।

লেখক:— শেখ আব্দুর রশিদ
বিভাগীয় প্রধান:— রাষ্ট্রবিজ্ঞান
লতিফা-শফি চৌধুরী মহিলা ডিগ্রী কলেজ,দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close