জৈন্তাপুরে পৃথক ২ মামলায় ২ নারীসহ গ্রেপ্তার ৬

সিলেটের জৈন্তাপুরে পৃথক দুটি মামলায় ২জন নারীসহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্ত্রীর করা একটি মামলায় তার স্বামীকে ও হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় আরও ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সিলেটের জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঘিলাতৈল এলাকার আনোয়ারা বেগম তার স্বামী মনসুর আহমদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে মনসুর আহমদকে গ্রেপ্তার করে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ।

মামলায় আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, মনসুর আহমদের সাথে ১৫ বছর আগে আনোয়ারার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে মনসুর আহমদ টাকার জন্য আনোয়ারাকে নির্যাতন শুরু করেন। গত ৫ মাস পূর্বে মনসুর বাড়িতে পাকা ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সেই অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে গত বুধবার বিকালে মনসুর ৫ লাখ টাকা বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন আনোয়ারাকে। তিনি অস্বীকার করলে মনসুর তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

পরে আনোয়ারা নিজের বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন আনোয়ারা। মামলার প্রেক্ষিতে মনসুর আহমদকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার একটি মামলায় জৈন্তাপুর উপজেলার গৌরীশঙ্কর গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে মনসুর আহমদ, ডিবিরহাওরের মৃত কলুর মিয়ার ছেলে আবুল বাহার, ঘিলাতৈলের আবুল কাশেমের ছেলে ক্বারি হোসেন, ক্বারি হোসেনের স্ত্রী হেলেনা বেগম ও গৌরীশঙ্করের জাকির হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগম নামে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী মাক্কুর সাথে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে একই এলাকার গ্রেপ্তারকৃতদের সাথে। এর জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাক্কুর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। তারা মাক্কু ও তার পরিবারের লোকদের মারধর এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। মামলার পর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close