‘করোনা’: লন্ডনে দীর্ঘায়িত হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, যোগ হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাম

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

পেনডেমিক মহামারী করোনাভাইরাস দেশ মহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে হানা দিয়ে যাচ্ছে। COVID-19 এরই মধ্যে সারা বিশ্বে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ রকম ভয়ঙ্কর, বিভিষিকাময় ত্রাসের রাজত্ব পৃথিবীর ইতিহাসে কখনো সংঘটিত হয় নি। দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ আজ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দী। COVID-19 মারণাস্ত্র চীন থেকে শুরু  করে ইরান, ইটালি – স্পেন সহ সারা বিশ্বকে দাপটের সাথে শাসন করছে। কোন পরাশক্তি, কোন বিজ্ঞান এর সামনে দাড়াতে পারছে না। জান বাচাতে ভীতসন্ত্রস্ত মানব গোষ্ঠী আজ স্ব ইচ্ছায় গৃহবন্দী হয়ে মহামহিম পরাক্রমশালী ও মহা দয়ালু আল্লাহ তায়ালার করুণা ভিক্ষা চেয়ে আকাশের দিকে চেয়ে আছে। বন্ধ হয়ে আছে দুনিয়ার সবচেয়ে পবিত্র ও দোয়া কবুলের স্থান মাসজিদিল হারাম সহ আক্রান্ত দেশ সমুহের মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল – কলেজ, ধর্মীয় উপাসনালয়। এক কথায় জরুরী বিভাগ ছাড়া সবকিছু  বন্ধ। 

মন্ত্রী, এমপি, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা, ডাক্তার, নার্স, সায়েন্টিস্ট সহ সাধারণ জনসাধারণকে ভোগাচ্ছে। অনকে এই ক্ষুদ্র অস্ত্রের আঘাত সইতে না পেরে চিরস্থায়ী গন্তব্যে চলে গেছেন। প্রতিদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পরপারের যাত্রীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্ব স্ব দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। একদিকে মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, অপরদিকে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। স্থান সংকুলানের অভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নীজ ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। কোথাও নতুন হসপিটাল তৈরি হচ্ছে।
মৃত্যুর মিছিলে গণচীনকে পিছনে ফেলে সবার উপরে অবস্থান করছে ইউরোপের দেশ ইটালি, এরপর চীন, ইরান ও স্পেন সহ অন্যান্য দেশ। আমেরিকার অবস্থা দ্রুত অবনতির ধাবিত হচ্ছে।

মৃত্যুর এই মিছিলে প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাম। যুক্তরাজ্যে ও যুক্তরাষ্ট্রে বেশি বাংলাদেশী করোনাভাইরাসের থাবায় ধরাশায়ী হয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম বাংলাদেশী ওল্ডহ্যামের বাসিন্দা ৬০বছর বয়সী মহসিন ইসলাম মারা যসন ৮ মার্চ , তিনি ছিলেন করোনাভাইরাসে মৃত ব্রিটেনের ৩য় ব্যক্তি। তিনি এর এক সপ্তাহ আগে ইটালি সফর করেছিলেন।
১৩ মার্চ রয়্যাল লন্ডন হসপিটালে মারা যান গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাগিরঘাটের নেহার উদ্দিন, ১৬ মার্চ গ্রেট অরমন্ড হাসপাতালে মারা যান মৌলভী বাজার জেলার একাটুনা ইউনিয়নের মাহমুদুর রহমান, তিনি ছিলেন ট্রাভেলস ব্যবসায়ী ও মৌলভিবাজার আওয়ামী লীগ নেতা। ২৩ মার্চ রয়্যাল লন্ডন হসপিটালে টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসরত বিয়ানীবাজার উপজেলার ছনগ্রামের জমশেদ আলী, একই দিনে হুইপক্রস হসপিটালে মারা যান সাউথ উডফুডেত বাসিন্দা প্রবীণ একাউন্ট্যান্ট দাউদুর রহমান, তার বাড়ি চট্টগ্রামে। ২৪ মার্চ রয়্যাল লন্ডন হসপিটালে মারাবযান হোয়াইট চ্যাপেল মার্কেটের ব্যবসায়ী ও জগন্নাথ পুর উপজেলার সাহার পাড়ার খসরু মিয়া। ২৫ মার্চ মারা যান হাজি ফখরুল ইসলাম রয়্যাল লন্ডন হসপিটালে, তিনি থাকতেন টাওয়ার হ্যামলেটসের ডকল্যান্ডে। সৈয়দ আলী আশরাফ রয়্যাল লন্ডন হসপিটালে মারা যান, বো এলাকায় থাকতেন,বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল। ২৫ মার্চ আরো মারা যান ডকল্যান্ডের ব্যবসায়ী আব্দুল মনির, ২৬ মার্চমারা যান বিয়ানীবাজার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের কোষাধ্যক্ষ দিলোয়ার হোসেনের ৮০ বছর বয়সী মাতা ভোর সোয়া তিনটায় রয়্যাল লন্ডন হসপিটালে ইন্তেকাল করেন।

এদিকে ২০ মার্চ ইটালির মিলান শহরের নিগোয়ারা হাসপাতালে মারা যান ৫৫ বছর বয়সী নোয়াখালীর গোলাম মাওলা। আজ ২৬ মার্চ স্পেনে মারা যান নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও  মাদ্রিদ প্রবাসী ৬৫ বছর বয়সী হুসাইন মোহাম্মেদ আবুল (আবুল হুসেন) । তিনি বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সমিতি, মান্নান বাংলা স্কুল, স্পেন জাতীয় পার্টি, বাংলা প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠন এর সাথে ঘনিষ্ট ভাবে জড়িত ছিলেন।

অপরদিকে আমেরিকার এলমাস্ট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন আব্দুল বাতেন (৬০), নূরজাহান বেগম (৭০) এবং ৪২ বছরের আরও এক নারী। প্লেইনভিউ হসপিটাল নর্থওয়েলে মারা গেছেন এ টি এম সালাম (৫৯)। দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হিউম্যান রিসোর্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া অপর একটি সূত্রে জানা যায়, নিউইয়র্ক ওজন পার্কের জসিম উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী মারা গেছেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।
মৃত আব্দুল বাতেনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুনাইমুড়ি। তিনি ব্রুকলিনে বসবাস করতেন। অন্যদিতে মৃত ৪২ বছরের নারীর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। তিনি এস্টোরিয়ায় বসবাস করতেন। রংপুরের এ টি এম সালাম ছিলেন ওয়েস্টর বে লং ল্যান্ড এলাকায় থাকতেন। নূরজাহান বেগমের বাড়ি ঢাকার মোহাম্মদপুরে। তিনি থাকতেন নিউ ইয়র্কের এলমাস্ট এলাকায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৩ মার্চ মারা গেছেন ৩৮ বছরের আমিনা ইন্দ্রালিব তৃষা এবং ৬৯ বছরের মোহাম্মদ ইসমত। তার আগের আগের সপ্তাহে মারা গেছেন মোতাহের হোসেন ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজন বাংলাদেশি।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close