জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হলেই ব্যবস্থা

সুনামগঞ্জে করোরা সংক্রামন প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির কড়া নিরাপত্তা বিদ্যমান রয়েছে। শহরে কোথাও একের অধিক চলাচল ও মাস্ক ছাড়া ঘর থেকে বের হলেও তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দেওয়া ১০দিনের সাধারণ ছুটিতে যেনো কোন ব্যক্তি জরুরী কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের না হন এবং আড্ডা না জমানো হয় সেজন্য এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যরা। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির এমন কড়া নিরাপত্তায় রাস্তা-ঘাট অনেকটা ফাঁকা।

সরজমিনে, বুধবার সকালে শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকা, কালিবাড়ি রোড, ট্রাফিক পয়েণ্ট ও মধ্যবাজার এলাকা ঘুরে দেখাযায় সাধারণ দিনের তুলনায় আজকে সকাল থেকে মানুষের চলাচল ছিলো খুব সীমিত। ওষুধের দোকান ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কয়েকটি দোকান ছাড়া সবরকমের দোকানপাট ও হোটেল রেস্তুরা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া রাস্তায় রিকশা ছাড়া চলাচল করছে না অন্যকোন রকমের যানবাহন। তারমধ্যে রিকশা একজনের বেশি উঠলে সেখানেও ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। রাস্তায় চলাচলেও রয়েছে নির্দেশনা কারণ সেখানেও একের অধিক কেউ সাথে ঘুরাঘুরি করলে বা আড্ডা দিতে দেখলে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

জানা যায়, সুনামগঞ্জে ৪ হাজারের অধিক প্রবাসী বিগত কয়েকদিনে সুনামগঞ্জে আসলেও বুধবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৪৫০ জন প্রবাসী। তাদের মধ্য থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে মেয়াদ শেষ হয়েছে ৯৪ জন প্রবাসী। তাছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীর সংখ্যা ও বিদেশ ফেরত প্রবাসীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এখনো মাঠে নামেনি সেনাবাহীনি। শহরের বিভিন্ন জায়গা মঙ্গলবার পর্যবেক্ষন করে গেলেও এখনো তাদের কার্যক্রম শুরু করেন নি বলে জানান প্রশাসক।বাজার করতে আসা হাসান আহমদ বলেন, অনেকদিন পর সুনামগঞ্জকে জনশুন্য দেখলাম। বাড়ির কিছু জরুরী বাজার করতে আজকে আমার আসা, বাজার করে বাড়ি চলে যাবো। সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটি আমাদের মানা জরুরী।

রিকশা চালক লিমন মিয়া বলেন, ভাইরাসের কারণে আমাদের ঘরে বসে থাকলে খাবার পামু না। মানুষরা মাস্ক দিসে এটা নিয়ে রিকশা চালাইতেছি। কিন্তু পুলিশ দেখলাম রিকশায় একজনের বেশি তুললে মাইর দেয়। তাই আমিও একজন ছাড়া দুইজনকে রিকশায় তুলতেছি না।পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সরকারের দেওয়া ১০দিনের ছুটিতে যেনো কেউ জরুরী কারণ ছাড়া ঘরের ভেতর থেকে বের না হন তাই আমরা একটু কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছি। আমরা চাই না মানুষের অহেতুকু ঘুরাঘুরি ও আড্ডার কারণে ভাইরাসটি সবার মাঝে ছড়িয়ে পক। তাছাড়া আজকে বিকেল থেকে আমরা আরো একটু শক্ত অবস্থানে যাবো মানুষকে ঘরমুখী করতে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, এখন পর্যন্ত সেনাবাহীনি মাঠে নামেনি। তাদের সাথে সকালে কথা হয়েছে তারা মিটিং করে আমাদের পরবর্তীতে জানাবে। তাছাড়া আমরা সকল দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি এবং সরকারের দেওয়া ১০দিনে ছুটিতে যেনো কোন ব্যক্তি কারণ ছাড়া বের হতে না পারে সেদিকেও আমাদের নজরধারী রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close