করোনার কাছে মানবতা ধরাশায়ী

গতকাল যা দেখেছি আজ তার চেয়েও রাক্ষুসে আবার আজ যা ঘটেছে আগামী কাল হয়ত তা আর ভয়ংকর হবে। সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অসহায়ভাবে প্রর্যবেক্ষণ করছে অদৃশ্যমান এক রাক্ষুসে দানবের তান্ডব। বিশ্বজুড়ে তছনছ হয়ে যাচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন। বিশ্ব আজ অসহায় রহস্যময় অদ্ভুত এক ভাইরাসের হাতে বন্ধি। প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে মানুষ নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছে। যা জীবনেও কল্পনা করেনি তা স্বচক্ষে অবলোকন করছে। করোনার ভয়াল ছোবল আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব। হটাৎ করে পৃথিবীর বৈরি আচরণ মানুষকে কী সংকেত দিচ্ছে? বৈশ্বিক যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে তাতে হরফ করে বলা যায় পৃথিবী ইউটার্ন দিয়েছে। গ্লোবাল যে দুর্ভিক্ষ ঘটতে যাচ্ছে তা আদৌ কী প্রতিহত করা সম্ভব? থমকে গেছে পুরো বিশ্ব। করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে গিয়ে পশ্চিমারা রিতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাজ্য বলেছে, “We are in a war against an invisible killer”।

আমেরিকান ডিরেক্টর Steven Soderbergh ২০১১ সালে “Contagion / কনটাজিওন” মুভিটি নির্মাণ করেন। মুভিতে তিনি তুলে ধরেন কীভাবে একটি প্রাণী থেকে অদৃশ্যমান একটি ভাইরাস পৃথিবীতে ছড়াতে থাকে। চীনের হংকং থেকে ভাইরাসটির প্রদুর্ভাব হলেও এটি ধীরে ধীরে মানুষের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মহামারী রুপ নেয়। যেটা ২০১৩ সালে দেখেছিলাম তখন কিন্তু অদ্ভুত লেগেছিল এই ভেবে যে একবিংশ শতাব্দীতে এসে এটা কী সম্ভব? কিন্তু আজ কেন যেন মনে হচ্ছে মুভিতে যা দেখানো হয়েছিল তা একদম হুবহু মিলে যাচ্ছে। অথবা ১৯৯৫ সালে নির্মিত “আউটবের্ক” মুভিতে যা দেখানো হয়েছিল তা ২০২০ সালে এসে ঘটছে। করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাব ও এর মহামারী রুপ এবং কনটাজন বা আউটবের্ক মুভির থীম সবই যেন একই সুত্রে গাথা। কীভাবে সম্ভব? বিশ্বজুড়ে বর্তমান সময়ে যে সংকট চলছে তার সাথে ঐ গল্পের কাহিনীর মিলের সমীকরণ দেখে পরিচালক হয়ত নিজেই বিম্মিত। কোভিড-১৯ বিশ্বকে থমকে দিয়েছে। আর অপ্রত্যাশিত অনকাংক্ষিত অদ্ভুট অঘটন ঘটবে ভাইরাসটির মহামারীর ফলে যা বিশ্ব হয়ত কল্পানাই করেনি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন নাটকীয় তান্ডবলীলা বিশ্ব কখনো দেখেনি যা তথ্যপ্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে এসে আমাদের অবলোকন করতে হচ্ছে । ধসে পড়েছে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বিশ্ব অর্থনীতি। চারিদিকে শুধু সংকট আর সৎকট, খাদ্য সৎকট অর্থনীতি সৎকট মানবিক সৎকট এবং বিবেকবোধের সৎকট। বিশ্বমন্ডলের মানুষগুলোর প্রকৃর্ত রুপ বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। করোনার হাতে সবাই ধরাশায়ী। এশিয়া ইউরোপ এবং আমেরিকা মহাদেশের অসহায়ত্ব কী বিজ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না? করোনা ভাইরাসের মহামারীর মহাপ্লাবন পুরো বিশ্বটাকে একঘরে করে ফেলেছে। এই রাক্ষুসে মহামারী একদিকে যেমন মানবিক ক্ষতি করে যাচ্ছে অন্যদিকে তেমনি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে। আমি আমার জীবনে এরকম অদ্ভুট পরিস্থিতি দেখিনি যা গত পাঁচ সপ্তাহখানেক ধরে ইউরোপে লক্ষ্য করছি। এমনকি ইউরোপে বর্তমানে যা ঘটছে তা গত একশত বছরে এমন হয়েছে কি না সন্দেহ এবং শংসয় রয়েছে। একের পর এক দেশ লকডাউন হয়ে যাচ্ছে। ইতালি, ডেনমার্ক, স্পেন, ফান্স, বেলজিয়াম এর কর্মচঞ্চল মানুষগুলো ঘরের বাহিরে বিনা অনুমতিতে বের হতে পারছে না। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য বৃটেন পাব,বার,ক্যাফে,রেস্তোরাঁ, সিনেমা, মিউজিয়াম বন্ধ করে দিয়েছে। বিবাহ অনুষ্ঠানে পাঁচজনের বেশি উপস্তিত থাকতে পারবেন না। এমনকি আর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসছে দেশটিতে। বৃটেনের ইতিহাসে দুই হাজার বিশ সালের মার্চ মাসের ২০ তারিখটি স্বরণীয় হয়ে থাকবে।

ইউরোপের মধ্য সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রমনা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্মিদ্ধশালী দেশ ইংল্যান্ড। দেশটির নাগরিকরা সময়কে যেভাবে মূল্যায়ন করে আমার মনে হয় না পৃথিবীর আর কোথাও এভাবে গুরুত্ব দেয় দেয়। নিয়ম-কানুন বা আইনের প্রতি তারা যে পরিমাণ শ্রদ্ধাশীল তা দেখে আমি নিজেই বিমোহিত।ব্রিটিশরা রুটিনমাফিক চলাফেরা, কাজ, ব্যাবস্যা বাণিজ্য, জীবন প্রবাহ, আমোদ-প্রমোদ, বিনোদন এবং ভ্রমণ অসাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। অথচ এই দেশটির নাগরিকদের মধ্য গত কয়েকদিনে যে আতঙ্ক প্রত্যাক্ষ করছি তা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। রাস্তা,ক্যাফে, রেস্তুরা বা পাবে নেই সেই হ্যান্ডশেক, আলিঙ্গন অথবা ভালবাসা অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ। হটাৎ করে এই অনাকাংক্ষিত পরিবর্তন সবাই মেনে নিয়েছে বিনা প্রতিবাদে। কদমর্দন না করে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে বা কনুই দিয়ে একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে। মোটকথা গ্লোবাল যে মহামারী আঘাত হেনেছে পৃথিবীজুড়ে তার থেকে বাঁচতে যা যা সতর্কতা প্রয়োজন তা তারা করছে। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা এবং সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছে করোনার অদৃশ্য থাবা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে।

অন্যদিকে, পৃথিবী যখন অদৃশ্য রাক্ষুসে মহামারী দ্বারা আক্রান্ত তখন মানুষ সচেতন এবং সতর্ক থাকার জন্য এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও স্যান্যাটাইজার পণ্য ক্রয় করতে ভিড় করছেন সুপারমার্কেটে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে হ্যান্ডওয়াশ টয়লেট রুল এবং স্যান্যাটাইজার দোকানগুলোর শেল্ফে পাওয়া যাচ্ছে না। স্টক শেল্ফে তুলা মাত্র সব উধাও, এমন দৃশ্য ব্রিটিশরা এর আগে দেখেনি। আমি নিজেই গিয়েছিলাম ‘সুপারড্রাগে’, দুর্ভাগ্যক্রমে কিছুই পাইনি। অবশেষে তিনদিন দৌড়ার পর ‘উইলকিনসনে’ এন্টিব্যাকটেরিয়াল ওয়াইপ খুঁজে পাই কিন্তু হোঁচট খাই যখন দেখি শেল্ফের ওপর ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখা ‘ম্যাক্সিমাম টু’। কি আর করা কৃর্তিপক্ষের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দুটি এ্যান্টিব্যাকট্যারিয়াল ওয়াইপ নিয়ে অগ্রহসর হই কাউন্টারের দিকে। যখন গিয়ে লাইনে দাঁড়াই আমি ত অবাক, আরে এ কি! আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্র মহিলা ট্রলির একাংশ লোড করে ফেলেছে এন্টিব্যাকটেরিয়াল ওয়াইপার নিয়ে, ভাবছি আমি কি ভুল করলাম। কিন্তু না, ম্যানেজার উনাকে দুটির ওপরে আর কিনতে দেয়নি। তাহলে আমার দুটি নেওয়া সঠিক হয়েছে। পরে আমি মনে মনে একটু হিসাব কষলাম ঐ মহিলা কম হলে ২০ টি ওয়াইপ নিয়েছে কিন্তু অথরিটি জনপ্রতি যদি দুটি করে এল্যাও করে তাহলে অন্তত্যপক্ষে দশজন প্রডাক্টটি পাবেন। তার মানে সবাই শেয়ার করার সুযোগ পাবে। শ্রদ্ধা বেড়ে গেল। এই হচ্ছে উন্নত বিশ্ব, এই হচ্ছে তাদের মানবদর্শন।

উন্নত বিশ্বের মানুষ যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে ভাইরাসটিকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রতিরোধ করতে তখন এক শ্রেণির মানুষ ব্যাস্ত খাদ্য মজুদে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশী কমিউনিটির কিছু অতি উৎসাহী মানুষ চাল মাছ মাংস মজুদ করছে যাতে যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে অন্তত্যপক্ষে ভাত মাংস দিয়ে পেঠ ভরে খাবে। আজব কান্ড! মানুষ যখন জীবন বাঁচতে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা করছে তখন বাঙালীরা ভোজন নিয়ে মহাটেনশনে রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাইচ ক্রয় করার জন্য তাদের হুমড়ি খাওয়া দৃশ্য আমাদের অবাক করে। আর এটা যদি ঘটে বিলাতের মত দেশে তবে আর বলব। দোকানগুলোর পালেট একদম ফাঁকা। এমনভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে যাতে আর কেউ না পায়। মানুষের চোখে মুখে একটুও দয়া মায়া নেই যে অন্য কেউ কিছুটা হলেও পায়। উন্নত বিশ্বে থেকেও বর্তমান চরম এই অদ্ভুট পরিস্তিতিতে মানুষের ভয়ংকর মানবিক রুপ দেখে আমি নিজেই সত্যি আতঙ্কিত। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, বিশ্ব মানবতা কী ঝুঁকিতে রয়েছে? তবে ইংরেজদের মধ্য একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি যা সত্যি মুগ্ধ করেছে। তারা খাদ্যের চেয়ে সাস্থ্য সম্পর্কিত মেডিকেয়ার মেডিসিন এবং স্যান্যাটাইজার প্রণ্যে বেশি করে সংগ্রহ করছে। তবে একজন সাস্থ্য কর্মির আকুতি খুবই মর্মাহত করছে আমাকে। তিনি দিন রাত হসপিটালে মানুষের সেবা করার পর যখন নিজর প্রয়োজনীয় প্রণ্যেসামগ্রী কিনত যান সুপারমার্কেট তখন প্রয়োজনীয় কিছুই পাননি। এটা কোন ধরণের মানবতা? মানুষ এত আতঙ্কিত এবং পেনিক বাইং কেন করছে? তা আবার গ্রেট বৃটেনে।

হটাৎ করে যুক্তরাজ্যে মানুষের আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কী? অর্থনীতিতে শক্তিশালী দেশ বৃটেন অথচ এখানকার এমন করুণ দৃশ্য কি মেনে নেওয়া যায়। সুপারমার্কেটের নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য একদম ফাঁকা করে ফেলছে মানুষ। কিন্তু কেন এসব করছে অনেকে নিজেরাই জানে না। এমনকি অনেকে করোনাভাইরাস আসলে কি এটা মোটেই জানে না। তবে এটা জানে খাদ্য প্রণ্যের প্রয়োজন তাই তারা অতিরিক্ত মজুদ করছে। স্টক পাইলিং এর জন্য মানুষ কি পরিমাণ দিশাহারা তা আমি নিজে দেখেছি স্বয়ং সুপারমার্কেট উপস্তিতি হয়ে। দীর্ঘ একযুগ ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছি কিন্তু সুপারমার্কেটগুলোতে বা গোর্সারি দোকানগুলোতে মানুষের এত ভিড় আমি এর আগে লক্ষ্য করিনি। মানুষের ভিড়ের জন্য দোকানের আইল দিয়ে হাটা পুরোপোরি অসম্ভব ছিল তারপরও ধাক্কাধাক্কি করে যে যা পাচ্ছে হাতের কাছে ট্রলিতে নিচ্ছে। যাইহোক আমি এবং আমার এক সহপাঠী উদ্দেশ্যেহীনভাবে ঘুরাঘুরি করছি হটাৎ পেয়ে যাই পরিচিতি এক জনের। হাই-হ্যাল হচ্ছে এমন সময় নজর পড়ে উনার ট্রলির ওপর, আমরা ত অবাক, পাঁচ কেজি ওজনের ২০টি মত চাউলের বস্তা। আমার সহপাঠী প্রশ্ন করে এত চাউল দিয়ে কি করবেন? উনার সহজ সরল উত্তর এরকম ছিল, “সাবাই ত নিচ্চে তাই আমিও নিচ্ছি; ‘তাছাড়া দেশ লকডাউন হয়ে গেলে কি করব’ খেয়ে ত বাঁচতে হবে”। এই হচ্ছে এদের চিন্তাভাবনা!

মানুষের মধ্য এমন আতঙ্ক বিশ্ব বোধহয় এর আগে আর কখনো দেখেনি যা ২০২০ সালে এসে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হলো। এমন আতঙ্ক বিশেষ করে ইংল্যান্ডে হওয়ার অবশ্য কারণ রয়েছে। করোনা ভাইরাস এর প্রদুর্ভাব যখন চীনের উহান শহরে আবির্ভাব ঘটে তখন দেশটির সরকার শহরটি লকডাউন করে ফেলে সংক্রমণটি ঠেকাতে। তখন প্রর্যন্ত বিশ্ব তেমন মাথা ঘামায়নি বিষয়টি নিয়ে বরং তাদের বন্ধি জীবন নিয়ে নানানভাবে ট্রল করা হয়। কিন্তু ভাইরাসটি যখন ইতালিতে হানা দেয় এবং হাজার হাজার মানুষদের ইনফেকটেড করে ফেলে তখন ইতালির রাষ্ট্র প্রধান হটাৎ করে দেশটি লকডাউন করে ফেলে। তারপর ছড়াতে থাকে ইউরোপজুড়ে। ভয় উদ্বেগ এবং আতঙ্ক শুরু হয় তখন থেকে। তারপর থেকে একে একে ইউরোপের অন্যান্য শহরের ওপর নিষেধাজ্ঞা পড়তে থাকে। যার পরিপেক্ষিতে যুক্তরাজ্যও হুমকিতে পড়ে যায়। এখানকার মানুষ প্রতিদিন শংকায় ভুগে কবে তারা লকডাউন হয়ে যায়। হটাৎ করে ইতালি লকডাউন হওয়ার ফলে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তা হলো কেউ অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের হলে জেল জরিমানা গুণতে হবে। এমনকি নিত্যপ্রয়োজনী জিনিস সংগ্রহ করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আর এই ভয় থেকেই স্টক পাইলিং শুরু। কিন্তু মানুষের ভাবা উচিত ছিল এটা কোনো যুদ্ধ কালিন সময় নয় যে পেনিক বাইং করতে হবে।

বরিস জনসন লোকটাকে দেখতে এলোমেলো মনে হলেও উনার ব্রেইনের নিউরন গুলো অতি সুক্ষ যা বলার অপেক্ষা রাখে না। করোনাভাইরাস এবং এর ফলে অর্থনীতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে বরিস জনসনের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপগুলোর প্রংশসা করতে হয়। বিজ্ঞানী এবং টপ এক্সপার্টদের নিয়ে কোবরা মিটিং এর মাধ্যমে মতামত ও পরামর্শ নিয়ে ফেইজ টু ফেইজ অগ্রহসর হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তাকে অনেকে প্রশ্ন করেছেন স্কুল বন্ধ কেন হচ্ছে না। যদিও তিনি স্কুল বন্ধের পেছনে কোনো বিজ্ঞানী যুক্তি নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। পরে অবশ্য চাপে পড়ে স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য হোন। কিন্তু এখানে স্কুল ওপেন রাখার পেছনে আর একটি রহস্য রয়েছে। করোনাভাইরাস যেভাবে পুরো বৃটেন মহামারী আকার ধারণ করছে তাতে যে কোন সময় দেশটি শাটডাউন করতে হবে। তবে বৃিট্রিশ ত আর বৃিট্রিশ, তারা ত আমাদের মত চিন্তা করে না। তাদের চিন্তাচেতনা তাদের মত। এখন এই মূহুর্তে যদি স্কুল বন্ধ করা হয় তাহলে মানুষের মধ্য আতঙ্ক আর বেড়ে যাবে। ভাইরাস নিয়ে মানুষের মধ্য ভয় তিব্র থেকে তিব্রতর হবে। তখন আর তারা বর্তমানে যেভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রহসর হচ্ছে তার সুযোগ পেত না। নিশ্চিত চাপে পড়ে যেত ভবিষৎ অর্থনীতি। কিন্তু তারা আর সেই সংকটের দিকে গেল না। বরং তারা আটঘাট বেধে “যুদ্ধ কালিন” সময়ের মত ভাইরাসটি মোকাবেলা করবে। জনগণকে রক্ষা করবে রাক্ষুসে দানবের ছোবল থেকে। বরিস ত প্রতিজ্ঞা করেছেন আগামী তিন মাসের মধভাইরাসটিকে প্যাকেজিং করে রির্টান পাঠানো হবে

গ্রেট বৃটেনের জনগণ করোনাভাইরাসের প্রভাবে যে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে যাচ্ছে তা পোষিয়ে উঠতে দেশটির চ্যান্সেলর ৩৩০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেইলআউট করেছেন। গত ১৭ মার্চ সন্ধায় বৃটেনের দৈনিক প্রভাবশালী দ্যা সান তাৎক্ষণিক হেডলাইন করে “Boris promises £350bn ‘war-time’ bailout to stop coronavirus wrecking economy”। ঘোষণাটি এমন সময় এসেছে যখন তার আগের দিন বরিস তার জনণণকে মেস গ্যাডারিং অর্থাৎ বড় ধরণের ভিড়, পাব, বার এবং বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। এমনকি ঘর থেকে দৈনিক কাজ সম্পাদন এবং বয়স্কদের Self-Isoletion থাকার জন্য জোরালো হুশিয়ারি করেছেন। চ্যান্সেলর সবচেয়ে মুগ্ধকর ঘোষণাটি দিয়েছেন গত ২০ মার্চ দৈনিক প্রেস ব্রিফিংয়ে যেখানে বলা হয় পাব,বার,ক্যাফে,সিনেমা, জিম, নাইটক্লাব, মিউজিয়াম শাটডাউন হওয়ার ফলে যে সব কর্মি জবলেছ হয়ে যাবে তাদেরকে যুক্তরাজ্য সরকার মূল বেতনের ৮০ পরিশোধ করে যাবে। তারপরও যেন স্যোশাল ডিসটেনস বজায় রেখে মহামারীকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়।

কোভিড-১৯ যে বিশ্বনেতাদের ঘুম হারাম করেছে তা নিশ্চতভাবে বলা যায়। সবাই যেন ছন্নছাড়া হয়ে গেছে। বিশেষ করে যেভাবে ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে এবং তরতাজা প্রাণগুলো কেড়ে নিচ্ছে তা তাদের মাথা ব্যাথা হওয়ার কথা। দুংচিন্তার মূল কারণ হলো এখন প্রর্যন্ত এর কোন ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। বিজ্ঞানীরা দিনরাত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন কীভাবে এই রাক্ষুসে মহামারীকে প্রতিহত করা যায় সে জন্য অবশ্য বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু আজব কান্ড করে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করা জার্মান বিজ্ঞানীদের এক বিলিয়ন ডলার দিতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুধু মাত্র তার নিজের দেশের জন্য। খবরটি বিশ্ব মিডিয়ায় গুরত্ব সহকারে ছাপে। অর্থের বিনিময়ে ট্রাম্প আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের একচেটিয়া অধিকার পেতে চেয়েছিলেন(DW)। গবেষণা সংস্থা ‘কিওরভ্যাক’ প্রস্তাবটি নাকচ করে দেয়। তবে এদিক দিয়ে মানবিক গুণের পরিচয় দেন জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল, তিনি আশ্বস্ত করেন ভ্যাকসিন হবে পুরো বিশ্বের জন্য এর জন্য সব ধরণের সহযোগিতা তার সরকার ‘কিওরভ্যাক’ কে দিবে। এই হচ্ছে মানবতা। নিজ স্বার্থ না দেখে আর্থ মানবতার কল্যাণে এগিয়ে এসে পৃথিবীকে এবং উদ্ভুট সংকট থেকে উদ্ধার করা বিরত্বের পরিচয়। একইভাবে স্টক পাইলিং না করে বরং সবাইকে ক্রয় করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে মহত্ত্বের পরিচয়। এখনই সময় আমাদের জরাজীর্ণ মন মানসিকতা দূর করে আর মানবিক ও বিবেকবোধ জাগ্রত করার। তা না হলে সংকট অতি সন্নিকটে।

মোঃ হাফিজুর রাহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close