কানাইঘাটে ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের করুন মৃত্যু

কানাইঘাট প্রতিনিধি::


কানাইঘাটে গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার দম্পত্তির ভুল-চিকিৎসায় এক নবজাতক ও তার মায়ের করুণ মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, গত বৃহষ্পতিবার উপজেলার দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের লামাদলইকান্দি গ্রামের দিন মজুর রইছ উদ্দিনের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী রাজিয়া বেগমের হঠাৎ প্রসব ব্যাথা শুরু হয়। এতে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন দুপুর ১২টার দিকে গাছবাড়ী বাজারের চৌমুহনীতে অবস্থিত মেসার্স শুভ মেডিকেয়ারে নিয়ে যান। সেখানে অন্তঃসত্ত্বা রাজিয়া বেগমকে পল্লী চিকিৎসক সামছুল ইসলাম ও তার স্ত্রী ভূয়া গাইনি বিশেষজ্ঞ পদবীধারী আখতারী বেগম জেলি প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন।

এক পর্যায় হাতুড়ে ডাক্তার দম্পত্তি রাজিয়ার পরিবারের লোকজনদেরকে বলেন, এখনি ডেলিভারী করতে হবে। এতে তাদের ফার্মেসীতে সব ধরনের ডেলিভারীর ব্যবস্থা রয়েছে। পরে রাজিয়া বেগমের শরীরে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করে চিকিৎসা শুরু করেন তারা।

রাত ৯টার দিকে ভুল চিকিৎসার কারণে রাজিয়া বেগমের কোলে মৃত নবজাতকের হয় জন্ম হয়। এর কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত রক্তকরণে রাজিয়া বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রাত ১০টার দিকে রাজিয়া বেগম ও তার নবজাতক সন্তানের মৃতদেহ কৌশলে বের করে ফার্মেসী বন্ধ করে ভূয়া ডাক্তার দম্পত্তি সটকে পড়েন। নবজাতক ও তার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুভ মেডিকেয়ারে স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন। জানা গেছে, শুভ মেডিকেয়ারের মালিক পল্লী চিকিৎসক সামছুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার কাপ্তানপুর গ্রামে। এ ঘটনার পর ফার্মেসী বন্ধ রয়েছে।

বানীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন এবং চৌমুহনী এলাকার ব্যবসায়ী সহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুভ মেডিকেয়ারের মালিক পল্লী চিকিৎসক সামসুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আখতারী বেগম সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকে।

সামসুল নিজে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও তার স্ত্রী গাইনী বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে এলাকার অনেক প্রসূতি মায়ের অপচিকিৎসা করে থাকে। তাদের হাতে ডেলিভারীর সময় পূর্বে আরো কয়েকজন নবজাতকের মৃত্যু হয়।

এছাড়া অনেকে তাদের খপ্পরে পড়ে নানাভাবে অপচিকিৎসার স্বীকার হয়েছেন। মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লীচিকিৎসক দম্পত্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে দেখছি।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close