করোনার প্রাদুর্ভাবেসারা দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা দেশে সব ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।বুধবার বিকালে জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে সারা দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্ভূত করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জনস্বার্থের কথা সর্বোচ্চ বিবেচনায় রেখে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকার জন্য সকল জেলা ও উপজেলা সাংস্কৃতিক জোট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”স্বাধীনতা দিবসসহ অন্যান্য জাতীয় অনুষ্ঠান ছোট পরিসরে প্রতীকীভাবে পালনেরও পরামর্শ দিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা।

এ বিষয়ে হাসান আরিফ বলেন, গণহত্যা দিবসের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার’ সাপেক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তনে জনসমাগম এড়িয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হবে।

“এতে আমরা বাইরের কোনো অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাব না। আমাদের শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করবেন, তার সঙ্গেই আমরা মোমবাতি প্রজ্বালন করব।একইভাবে রাত ১২টায় রাজারবাগ স্মৃতিসৌধে আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করব। তবে কোনোভাবেই জনসমাগম আমরা করব না। ”

আপাতত দেশের কোথাও এ ধরনের অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটআপাতত দেশের কোথাও এ ধরনের অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটস্বাধীনতা দিবসেও ছোট পরিসরে প্রতীকী আয়োজন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি সংস্কৃতিকর্মীরা গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানান হাসান আরিফ।

তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ সময়ে যদি জনগণকে সতকর্তামূলক কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য বলা হয়, সংস্কৃতিকর্মীরা তা করবে।

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে আসন্ন পহেলা বৈশাখে চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রা ও রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।ওই দুটি অনুষ্ঠানও ‘অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে’ আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা।

জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, “পহেলা বৈশাখ নিয়ে সবাই ভাবছে। দর্শকবিহীনভাবে আয়োজন করা যায় কি না তা ভাবছি। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।এর আগে এক নির্দেশনায় ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশের নাটকের দলগুলোকে নাট্য প্রদর্শনী থেকে বিরত থাকতে বলেছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিগুলোর হলগুলোতেও হবে না কোনো আয়োজন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close