ঢাকায় ধরা পড়ল ছাতকের চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র হত্যার ফাঁসির আসামি

সুরমা টাইমস ডেস্ক::

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু মোস্তাফিজুর রহমান ইমন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছালেহ আহমদকে দীর্ঘদিন পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে ঢাকার গাজীপুর থেকে ছাতক থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

ছালেহ আহমদ ছাতক উপজেলার বাতিরকান্দি গ্রামের মৃত কবির মিয়ার ছেলে। ইমন হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর ও সাজা হওয়ার ১৩ মাস পর তাকে গ্রেফতার করা হলো। গাজীপুরে নাম পরিবর্তন করে ছালেহ আহমদ বিয়ে করেছিলেন বলে জানা গেছে। ছদ্মবেশ ধারণ করেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেন নি তিনি। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছদ্মবেশ ধারণ করে তাকে গ্রেফতার করেছে।
জানা গেছে, বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি ফেরত জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্স কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭শে মার্চ অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার পরও হত্যা করা হয়। ২০১৯ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মো. রেজাউল করিম ইমন হত্যা মামলায় দুই জামায়াত নেতাসহ ৪ আসামির ফাঁসির আদেশ দেন। হত্যা, অপহরণ ও লাশ গুমের অভিযোগে পৃথক ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্থ করে আলোচিত ওই মামলার রায় ঘোষণাকালে ছালেহ আহমদ ছাড়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং ফাঁসির আদেশ প্রক্রিয়াধীন।


ছালেহ ছাড়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ছাতকের ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের জামায়াতের সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণজুলিয়া গ্রামের মৃত মখলিছ মিয়ার ছেলে, বাতির কান্দি মসজিদের ইমাম শুয়াইবুর রহমান সুজন, বাতির কান্দি গ্রামের আব্দুল মুক্তাদিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক ও নোয়ারাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি বাতিরকান্দি গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে জাহেদুর রহমান।
ছাতক থানার এসআই হাবিবুর রহমান পিপিএম জানিয়েছেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও ছদ্মবেশে ছালেহ আহমদকে গাজীপুরের বাসন থানাধীন চান্দনা বৌবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি জানান, এএসআই মহিউদ্দিন, কনস্টেবল সৌরভ বিশ্বাস, সাকির হোসাইন ও আব্দুর রশিদ কাইয়ুমকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি।


ছালেহ আহমদের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ ছাড়াও ছাতক থানায় ২০১৪ সালে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ রয়েছে বলেও জানান এসআই হাবিবুর।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close