বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে টুঙ্গিপাড়া থেকে ধানমন্ডি অভিমুখে সিলেটের সাহির পদযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

অদম্য তরুণ কাজি সাহি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ পড়ছেন। পাশাপাশি ব্রাক-আড়ং এর সিলেট আউটলেটে সেলস এসোসিয়েট হিসেবে কর্মরত আছেন। সিলেটের কমিউনিটি ভিত্তিক সাইক্লিং এ কাজি সাহি প্রথম থেকেই সংযুক্ত। সিলেট কেন্দ্রীয় বন্ধুসভাতেও যুক্ত আছেন ২০১৪ সাল থেকে। পড়াশোনা, কাজের পাশাপাশি ঘুরে-বেড়ানো আর সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেই নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।

সাহির হাঁটার ইতিহাস কেবল এটিই না। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে যথাক্রমে বিজয়ের ৪৮ ও ৪৯ বছর উপলক্ষে তার সাথের সাইক্লিস্টসদের নিয়ে ৪৮ ও ৪৯ কিলোমিটার হাটেন। পথিমথ্যে সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিজড়িত অবহেলিত স্থান ও গনকবরগুলোতে তারা তাদের যাত্রা বিরতি দিয়ে সে স্থান পরিষ্কার করেন, শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং স্থানীয়দের এ বিষয়ে সচেতন করেন।

১৬ মার্চ বিকেলে টুঙ্গিপাড়াস্থ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে সেখান থেকে হেঁটে গোপালগঞ্জ পৌঁছান সাহি। রাতে সেখানের একটা হোটেলে থেকে ১৭ মার্চ ভোরে আবার হাঁটা শুরু করেন। টেকেরহাট হয়ে রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে আড়িয়াল খা নদের টোল ব্রিজ এসে ১০০ কিলো মিটার হাঁটা শেষ করেন সাহি। নির্ধারিত ১০০ কিলো হাঁটা শেষ হওয়ার পর গাড়িতে করে ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর বাসা ধানমন্ডি ৩২ এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন সাহি। সেখানেই শেষ হবে এই পদযাত্রা।

ছোটবেলায় টুঙ্গিপাড়াতে বঙ্গবন্ধুর বেড়ে উঠা, ঢাকায় আসা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড। তার এই অসমাপ্ত যাত্রার প্রতি আলোকপাত করেই এই পদযাত্রা করেন সাহি।

সাহি জানান, তার ইচ্ছা ছিলো ১৭ মার্চ রাত ১২টা ১ মিনিটে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত আর শ্রদ্ধা নিবেদন করে সেখান থেকে যাত্রা শুরু করবেন। ভোর রাত পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া শহরেই হাঁটবেন। ভোরবেলা টুঙ্গিপাড়া-গোপালগঞ্জ মহাসড়ক ধরে গোপালগঞ্জ পৌঁছে সেখান থেকে টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ সড়ক ধরে ঢাকা অভিমুখে এগোবেন। টেকেরহাটে নির্ধারিত ১০০ কিলো হাটা শেষ হলে গাড়িতে করে ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধুর বাসাতে শেষ হবে এই পদযাত্রা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি ১৬ মার্চ থেকে তিনি পদযাত্রা শুরু করেন। এই ১০০ কিলোমিটার হাটা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করেন সাহি।কাজি সাহি বলেন, ১০০ কিলোমিটার হাটা আসলেই বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সম্মানে আমি হেঁটেছি। কারণ এর থেকেও কষ্টসাধ্য কাজ শেখ মুজিবুর রহমান করে গেছেন আমাদের জন্য। যার কারণেই এই বাংলাদেশে হাঁটতে পাড়ছি। প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পাড়ছি। তার সম্মানে জন্মশতবার্ষিকীতে আমার এই ছোট্ট সম্মাননা।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কাজি সাহি। বর্তমানে তিনি দাড়িয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ব্যক্তিগত জীবনে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ পড়ছেন পাশাপাশি ব্র্যাক-আড়ং এর সিলেট আউটলেটে সেলস এসোসিয়েট হিসেবে কর্মরত আছেন। সিলেটের কমিউনিটি ভিত্তিক সাইক্লিং এ কাজি সাহি প্রথম থেকেই সংযুক্ত। পড়াশোনা, কাজের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানো আর সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেই নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close