বিশ্বনাথে আলোচিত ‘মাদকসম্রাট’ তবারক আলী ১০৮০ পিছ ইয়াবা ও তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মোঃ লুৎফর রহমানের এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ) এর অফিসার ইনচার্জ আশীষ কুমার মৈত্র একটি বিশেষ টিম শনিবার ভোর ০৪.৪০ ঘটিকায় বিশ্বনাথ থানাধীন পাঠাকইন গ্রামস্থ তবারক আলীর বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত মাদক সম্রাট তবারক আলী (৩২) কে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। সে বিশ্বনাথ থানাধীন পাঠাকইন গ্রামস্থ মৃত আলকাছ আলীর ছেলে।

এ সময় পুলিশ তার বসতঘরে তল্লাশি করে শয়নকক্ষের খাটের বালিশের নিচ হতে পাঁচ প্যাকেটে থাকা ১০০০ পিছ এবং তার দেহ তল্লাশি করে শার্টের পকেটে থাকা এক প্যাকেটে ৮০ পিছসহ মোট ১০৮০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। যার আনুমানিক মূল্য ৩,২৪,০০০/- টাকা। অভিযানের সময় তার বসতঘরে অবস্থান করা মাদক ব্যবসায় সহযোগি বিশ্বনাথের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে ওয়াহিদ মিয়া (২২), বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার  সাহেবগঞ্জ এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে সাগর হাওলাদার (২০), বড়পাশা ফিরোজ জমাদ্দার এর ছেলে ইমন জমাদ্দার(১৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তবারক আলী’র বিরুদ্ধে সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানা, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানা, হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানায় মাদকসহ মোট ১০ টি মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য গত ০৫ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ৬১ হাজার পিছ ইয়াবাসহ ০২ নারীকে গ্রেফতার করে হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এই ঘটনার অন্যতম মূলহোতা হিসেবে তবারক আলীর নাম আলোচনায় আসলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম তাকে গ্রেফতারের জন্য ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম গঠন করে গ্রেফতারের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর) মোঃ লুৎফর রহমান এর নেতৃত্বে ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। তবে আসামী তবারক আলী খুব দ্রুত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আত্ন-গোপন করায় তাকে গ্রেফতারে পুলিশের বেগ পেতে হয়। অবশেষে অদ্য ভোর বেলা তার বসত বাড়িতে আসলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে ০৩ সহযোগিসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ) এর এসআই/ সৈয়দ ইমরোজ তারেক বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সুপার মোঃ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর ও মিডিয়া) মোঃ লুৎফর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত তবারক আলী সিলেট জেলার একজন আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মর্মে জনশ্রুতি রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন থেকে পুলিশ কাজ করে আসছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, হবিগঞ্জে ৬১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার হওয়া দুই নারীর সূত্রে মূলহোতা তবারক আলীর নাম বেরিয়ে আসে। তাকে গ্রেফতারে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম গঠন করা হয়।

জানা গেছে, তবারক আলীকে গ্রেফতার করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তবারক দ্রুত নিজের অবস্থান পাল্টাতে থাকেন। কাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে সোর্স মারফত তবারক আলীর অবস্থান তার নিজ বাড়িতেই সনাক্ত করে পুলিশ। এরপর শুরু হয় অভিযানের প্রস্তুতি। আজ শনিবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্বনাথের পাঠাকইন গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তবারককে।

পুলিশ শনিবার বিকালে তবারক ও তার সহযোগীদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায়। আদালত শুনানি শেষে তবারক ও ওয়াহিদের ৫ দিনের রিমান্ড এবং বাকি দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।

জানা গেছে, তবারক আলী এর আগেও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। একাধিক চুরি-ছিনতাইয়ের মামলায় বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ২০১১ সালের নভেম্বরে তাকে গ্রেফতার করেছিল। ওই বছরের ২৪ নভেম্বর তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কিন্তু ২৫ নভেম্বর থানাহাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান তবারক। পরে জোর অভিযানে ওই দিনই তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয়।

বিশ্বনাথে জনশ্রুতি আছে, তবারক আলী একসময় পলিথিন বিক্রি করতেন। পরে তিনি চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেন মাদকসাম্রাজ্য। বর্তমানে তবারকের কয়েক কোটি টাকার অর্থ-সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close