সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি

সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস

সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি বাড়ছে সেবা প্রত্যাশীদের। গত তিনমাস ধরেই নতুন আবেদন ও নবায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যাচ্ছেনা পাসপোর্ট। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের দাবি বই সংকটের কারণে সঠিক সময়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে সেবা প্রত্যাশীরা বলছেন পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নে চলছে ব্যাপক দুর্নীতি।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও গণমাধ্যম কর্মী আব্দুল আলিম তার স্ত্রী-সন্তানদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন ডিসেম্বরের ৫ তারিখ। কবে পাবেন, কিংবা আদৌ পাবেন কিনা জানেন না তিনি। হৃদরোগে আক্রান্ত গোলাপগঞ্জের শামীম আহমদ ভারতে চিকিৎসা নেন ৬ মাস অন্তর। জানুয়ারিতে ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল বলে পাসপোর্ট নবায়ন করতে দিয়েছেন গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। তবে আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও পাসপোর্ট পান নি তিনি। একাধিকবার পাসপোর্ট অফিসে গেলেও সন্তোষজনক কোন জবাব পাননি।

ক্ষুব্ধ শামীম বলেন, আমি অসুস্থ, ভারতে চিকিৎসা নিতে যাবো। আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পাসপোর্ট নবায়ন হয়ে আসেনি। কবে আসবে তাও বলতে পারছেন না কেউ। তবে সহসা পাওয়া যাবে না বলেই জানা গেছে।

শামীম আরও বলেন, একই সাথে আমার বোনের নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেছিলাম, তার পাসপোর্ট পেয়ে সে বিদেশেও চলে গেছে।

একই অবস্থা সিলেট জেলা বারের আইনজীবী বোরহান উদ্দিনের। সপরিবারে ভারতে বেড়াতে যাবেন বলে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে নবায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। পরিবারের ৫ সদস্যের পাসপোর্ট আবেদন করলেও মেলেনি কারোরই। অথচ একই সাথে জমা দিয়ে ১৫ দিনের মাথায়ই পাসপোর্ট পেয়েছেন তারই আরেক সহকর্মী।

এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ বোরহান বলেন, কর্মকর্তাদের ইচ্ছেমত চলছে পাসপোর্ট ইস্যুর কার্যক্রম। যাকে পছন্দ হয় তারটা ১৫ দিনেই দিয়ে দেন, আর আমার মত যাদের পছন্দ হয়না তারা তিন মাসেও পাসপোর্ট পান না।

তবে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা জানান, পাসপোর্টের বই সংকটের কারণেই এই জটিলতা।

ই-পাসপোর্টের জন্য নতুন করে আর এমআরপি বই আনা হয় নি। তাই আবেদন হলেও পাসপোর্ট ইস্যু করা যাচ্ছেনা।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের কথাও স্বীকার করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে অতি জরুরী ও বিশেষ সুপারিশের কারণে কিছু কিছু পাসপোর্ট ইস্যু করা হচ্ছে, তবে তা খুবই সীমিত।

তবে পাসপোর্ট অফিসের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ সেবা প্রত্যাশীরা। অনেকের ধারণা দালালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিলেই মেলে বিশেষ সুপারিশ।

তখন ১৫ দিনেই পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে হাতে চলে আসে।

তবে এমন অভিযোগ সত্য নয় জানিয়ে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা জানান, এ সংকট বেশিদিন থাকবেনা।

আগামী এক দুই মাসের মধ্যেই নতুন পাসপোর্ট বই পেলে চাহিদা অনুযায়ী পাসপোর্ট সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close