নিজের বন্দুক দিয়ে গুলি চালিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা, পকেটে তরুণীর ছবি

বরিশাল পুলিশ লাইন্সে নিজের বন্দুক দিয়ে গলায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হৃদয় চন্দ্র দাস (২২) নামের এক পুলিশ কনস্টেবল। তার পকেট থেকে নিজের হাতে লেখা সুইসাইড নোট এবং এক তরুণীর ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের নবনির্মিত ছয় তলা ব্যারাক হাউসের ছাদে হৃদয় চন্দ দাসের গুলিবিদ্ধ রাক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার আগে বাবা ও ছোট ভাইয়ের উদ্দেশে সুইসাইড নোট লেখেন ওই পুলিশ কনস্টেবল। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ ওই নোটের বাইরে তার পকেটে থাকা ব্যাগে এক তরুণীর ছবি খুঁজে পাওয়া গেছে। ফলে তার এই আত্মহত্যা প্রেমঘটিত করণে হতে পারে বলে ধারণা করছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হৃদয়ের সহকর্মীরা।

বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম।

এসপি জানান, নিহত পুলিশ কনস্টেবল হৃদয় চন্দ্র দাস ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট চকদুশ এলাকার বাসিন্দা। ১ বছর ৩ মাস আগে বরিশাল জেলা পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ হয় তার।

বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ব্যারাক হাউসের সামনে সেন্ট্রি ডিউটিতে ছিলেন হৃদয় চন্দ্র দাস। এরপর আজ দুপুর ১টার দিকে বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের নবনির্মিত ছয় তলা ব্যারাক হাউসের ছাদে তার গুলিবিদ্ধ রাক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহের পাশেই পড়েছিল তার নামে ইস্যু হওয়া বন্দুকটি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, মৃত কনস্টেবলের পকেট থেকে সুইসাইড নোট এবং মানিব্যাগ থেকে একটি মেয়ের ছবি উদ্ধার করা হয়েছে। হৃদয়ের ব্যাচমেটদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রেমঘটিত কারণে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, তবে পুরো বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া অস্ত্রসহ ছাদে যাওয়ার বিষয়টি যদি কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ মেলে, সে ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি) মো. রাসেল আহমেদ জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুত্রঃ আমাদের সময়

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close