রেকর্ডময় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে হলে বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে হবে। এমন লক্ষ্যে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে বার বার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত আর ঘুড়ে দাঁড়ানো হয়নি জিম্বাবুয়ে দলের। তারা বাংলাদেশের কাছে ম্যাচ হারেন ১২৩ রানে। আর এই জয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় মাশরাফি বিন মর্তুজার অধিনায়কত্বের। এর আগে বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ তিন উইকেট হারিয়ে ৪৩ ওভারে সংগ্রহ করে ৩২২ রান। আর ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে জিম্বাবুয়ে পায় ৩৪২ রানের টার্গেট।

৩৪২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। মাশরাফি বিন মুর্তজার করা চতুর্থ বলে উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাসের হাতে ক্যাচ দেন তিনাসে কামুনহকামউয়ি।

৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। মাশরাফির পর জিম্বাবুয়ে শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দলীয় ২৮ রানের মাথায় তার বলে শর্ট মিডউইকেটে মোহাম্মদ মিথুনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ব্রেন্ডন টেলর। ১৫ বলে ৩ চারে ১৪ রান করে যান তিনি।

২৮ রানেই ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক শন উইলিয়ামস ও রেগিস চাকাবা। তৃতীয় উইকেটে জিম্বাবুয়েকে যখন টানছিলেন শন উইলিয়ামস ও রেগিস চাকাবা। তখনই এ জুটি ভাঙেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। ৪৫ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি তারা। দলীয় ৭৪ রানের মাথায় আফিফ হোসেন ধ্রুবর শিকারে পরিনত হন উইলিয়ামস। তিনি সরাসরি বোল্ড হন আফিফের বলে। ৫ চারে ৩০ রান করে ফিরে যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

পরে খেলতে নামা ওয়েসলি মাধভেরের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়ে ফিরেন রেগিস চাকাবা। তাকে আউট করেন তাইজুল ইসলাম। তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৪৫ বল খেলে ১ চারে ৩৪ রান করে যান তিনি। চাকাবা ফিরে যাবার পর নিজের শততম ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাট করতে নামেন সিকান্দার রাজা। রাজাকে সঙ্গে নিয়ে আগেই আগের দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও জিম্বাবুয়েকে টানছিলেন ওয়েসলি মাধভেরে। দ্রুতই তুলে ফেলেছিলেন ৪২ রান। কিন্তু আজ তাকে আর হাফ সেঞ্চুরি ছুঁতে দেননি সাইফউদ্দিন। দলীয় ১৫০ রানের মাথায় পয়েন্টে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রান করে ফিরেন তিনি।

পরে ১৭৩ রানের মাথায় তিনোতেন্দা মুতুমবোডজিকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তার বলে স্লিপে মোহাম্মদ নাঈমের হাতে ধরা পড়েন মুতুমবোডজি। ৭টি রান আসে তার ব্যাট থেকে। তার আগে ১৬৪ রানের মাথায় রান আউটে কাটা পড়েন রিচমন্ড মুতুম্বামি। ২ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি তিনি।

এর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে তামিম-লিটনের ব্যাটে ভালো শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বল থেকেই দেখেশুনে খেলেছেন তারা। পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার মিলে তোলেন ৫৩ রান। এরপর ৫৪ বলে হাফসেঞ্চুরি স্পর্শ করেন লিটন। ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ ফিফটি। অন্যদিকে ৫০ ছুঁতে তামিমের লেগেছে ৬০ বল।

হাফসেঞ্চুরির পর আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন লিটন। ইনিংসের ৩৩তম ওভারের পঞ্চম বলে উইলিয়ামসকে অফসাইডে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ডানহাতি এই ওপেনার। ১১৪ বলে তার শতরানের ইনিংসটি সাজানো ১৩ বাউন্ডারি দিয়ে। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি।

এর মধ্যে ওপেনিং জুটিতে রেকর্ড গড়েন তামিম-লিটন। ওপেনিং জুটিতে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েন দুজন। তাতে ভেঙে যায় ২১ বছর আগে মেহরাব হোসেন ও শাহরিয়ার হোসেনের আগের সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড।

লিটনের সেঞ্চুরির পরপরই সিলেটে বৃষ্টি নামে। এরপর দুই ঘন্টার বেশি সময় ধরে ম্যাচটি বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৭ ওভার কমে আসে। বৃষ্টির পর ব্যাট করতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকান তামিম। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি। এরপর নির্ধারিত ৪৩ ওভারে ৩২২ রান করে বাংলাদেশ।

১৭৬ রানে রেকর্ড গড়ে আউট হন লিটন। এই রান করার পথে তামিমকে টপকে বাংলাদেশের সেরা রান সংগ্রাহক হয়ে যান ডানহাতি ওপেনার। ওয়ানডেতে গত ১১ বছর ধরে তামিমই ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

শেষ পর্যন্ত তামিম ইকবাল অপরাজিত থাকেন ১০৯ বলে ১২৮ রানে। আর আফিফ হোসেন করেন ৪ বলে ৭ রান। তার আগে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৪ বলে ৩ রান করে ফেরেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে তিনটি উইকেটই ঝুলিতে পুরেন কার্ল মুম্বা।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close