৯ বছরের শিশুকে ২২ বছরের দেখিয়ে ‘অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তার’ তদন্ত প্রতিবেদন

সুরমা টাইমস ডেস্ক ::

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের এক কর্মকর্তার ‘অতি উৎসাহে’ নয় বছরের শিশু মো. ইব্রাহিমকে মামলার আসামি হতে হয়েছে। চাচিকে মারধরের অভিযোগে বাবা-মায়ের সঙ্গে ইব্রাহিমকেও আসামি করা হয়।

সেই সঙ্গে চতুরতার আশ্রয় নিয়ে ইব্রাহিমের বয়স ২২ বছর দেখিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন কারাগারে থাকা ইব্রাহিমের বাবা ও ভাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার টিঘর গ্রামের ঘটনা এটি। আদালত থেকে জামিন মিললেও অভিযোগ থেকে এখনও অব্যাহতি মেলেনি ইব্রাহিম ও তার পরিবারের সদস্যদের।

এ ঘটনায় সরাইল থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসএসআই) মো. হেলাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেছেন ইব্রাহিমের বাবা আব্দুস সাত্তার।

এ মামলায় আব্দুস সাত্তারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শাহেনা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। বিচারক মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, টাকা খেয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হেলাল ঘটনার তদন্ত না করে অভিযোগকারীর প্ররোচনায় শিশু ইব্রাহিমসহ তার পরিবারের সদস্যদের অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

এর আগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর টিঘর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবারের সব সদস্য এবং তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন শাহেনা বেগম নামে এক নারী।

তিনি আব্দুস সাত্তারের ছোট ভাই ছায়েদ মিয়ার স্ত্রী। অভিযোগে তাদের প্রাণনাশের হুমকিতে বাড়ি ছাড়া রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন শাহেনা। পরবর্তীতে অভিযোগটি সরাইল থানা পুলিশ ডায়েরিভুক্ত করলে ওসি শাহদাৎ হোসেন তদন্তভার দেন পুলিশের এএসআই হেলাল চৌধুরীকে।

তবে অভিযোগটি যখন ডায়েরিভুক্ত হয় তখন কারাগারে ছিলেন আব্দুস সাত্তার ও তার ছেলে মো. জাবেদ। শাহেনার দায়ের করা এক মামলায় তাদের গ্রেফতার করে ৭ অক্টোবর আদালতে পাঠায় পুলিশ। এরপর ২৪ অক্টোবর জামিনে কারামুক্ত হন তারা।

এএসআই হেলালের বিরুদ্ধে আব্দুস সাত্তারের করা মামলার আর্জিতে বলা হয়, জেলে থাকার বিষয়টি এএসআই হেলালকে বারবার বলা সত্ত্বেও আমলে নেননি। গত ২৫ নভেম্বর এএসআই হেলাল আদালতে অভিযোগটির একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের অনুমতি পেয়ে অধিকতর তদন্ত করে ১০ জনের (শিশু ইব্রাহিমসহ) বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩২৩/৫০৬ ধারার অপরাধের সত্যতা পান। তাদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় নন এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করেন।

আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী নূরজাহান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে শাহেনার সখ্যতা থাকায় মিথ্যা অভিযোগে আমাদের আসামি করা হয়েছে। পুলিশের চাপের কারণে আমরা এখন অসহায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহেনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে সোমায়া ও আব্দুস সাত্তারের মেয়ে আরজিনার মধ্যে ওজু করার সময় ঝগড়া হয় এবং হামলা চালানো হয়। শাহেনা মারধরে জখমের কথা বললেও সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারি রিপোর্টে তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এএসআই মো. হেলাল চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ বলেন, আদালত থেকে রোববার মামলাটি আমাদের হাতে এসেছে। আমরা এটা নিয়ে তদন্ত শুরু করব।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল-সার্কেল) মাসুদ রানা বলেন, আমি যোগদানের আগের ঘটনা এটি। যেহেতু আগে থেকে ঘটনাটি অবগত নই, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবকিছু তদন্ত করে এ সম্পর্কে বলতে পারব।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close