সুনামগঞ্জে কয়েক হাজার ভক্তের ভালবাসায় সিক্ত হলেন ‘ডিপজল’

তাহিরপুর প্রতিনিধি ::

বাংলাদেশী অভিনেতা প্রযোজক রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন ডিপজল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কয়েক হাজার ভক্তের ভালবাসায় সিক্ত হলেন।,
রবিবার বেলা ১১টায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হতে আর আর এ্যাভিয়েশনের একটি হেলিকপ্টার যোগে যাত্রার পর ডিপজল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বেলা ১২টায় অবতরন করেন।
উপজেলার বড়দল উওর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বারহাল নিবাসী আবুল কাসেমের আমন্ত্রনে তিনি এ সফরে আসলে মাঠে থাকা নানা শ্রেণি পেশার লোকজন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার ভক্তরা ডিপজলকে উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করেন।,
এ সময় মাঠে থাকা সুসজ্জিত মঞ্চে দাড়িয়ে অভিনেতা ডিপজল ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদানকালে বলেন, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এটিই আমার প্রথম সফর। এ প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমার এত ভক্ত অনুরাগী রয়েছেন তা আজ নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতনা, আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভালবাসা প্রকাশ করছি।
পরবর্তীতে এ দিন দুপুরে তিনি বাদাঘাট হাসপাতাল সংলগ্ন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম তার প্রয়াত পিতার নামে প্রতিষ্টিত বারহাল রমজান আলী এতিম খানায় এতিমদের সান্নিদ্যে ঘন্টাব্যাপী সময় কাটান এবং এতিম খানার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাক্তিগত তহবিল হতে আর্থীক অনুদান প্রদান করেন।
বিকেলে উপজেলার জাদুকাটা-মাহারাম নদীর তীরবর্তী মাণিগাঁও এলাকায় প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের প্রতিষ্ঠিত জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান পরিদর্শনে যান ডিপজল। বাগান এলাকাজুড়ে আরো কয়েক হাজার ভক্তরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ডিপজল ও তার সাথে থাকা সফর সঙ্গীদের।
প্রসঙ্গত, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ১৯৫৮ সালের ১৫ জুন রাজধানী ঢাকার মিরপুরের বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে তার। তিনি ফাহিম শুটিং স্পট, এশিয়া সিনেমা হল, পর্বত সিনেমা হল, জোবেদা ফিল্মস, পর্বত পিকচার্স-২, ডিপজল ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী।
তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সক্রিয়। প্রথমে খল চরিত্রে অভিনয় করলেও চাচ্চু চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি ভালো চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন।
ডিপজল বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের হয়ে ঢাকা ৯ নম্বর ওয়াড এর কমিশনার নির্বাচিত হন ১৯৯৪ সালে। তার বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা তার নামে (ডিপজল পরিবহন) বাস সার্ভিস চালু করেন।
ডিপজল ১৯৮৯ সালে টাকার পাহাড় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। ডিপজলের বড় ভাই শাহাদাত হোসেন বাদশা যিনি বাদশা ভাই নামে পরিচিত তিনি সান পিকচার্স এর ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন। পরিচালনা করেন মনতাজুর রহমান আকবর। আকবরেরও এটি পরিচালিত প্রথম ছবি। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। ৯৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল অবধি ডিপজল দুলাভাই, আম্মাজান, তেজি,কুখ্যাত খুনী, মেজরসাব, ইতিহাস সহ কমপক্ষে ২৫টি ছবিতে অভিনয় করে দেশ বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ডিপজলের সফর সঙ্গী হিসাবে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম,দৈনিক যুগান্তরের ষ্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক হাবিব সরোয়ার আজাদ, ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজি মো. নুরুল হক, হাজি মো. ফরিদ উদ্দিন, হাজি মো. আবু তাহের,মো আরিফ আহমদ, বিশিষ্ট কয়লা আমদানিকারক ও পরিবেশক হাজি কাঞ্চন মিয়া, রতন মিয়া, কাওসার আহমেদ, সিলেটের তরুণ ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদ, জেলা ও উপঝেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্ধ সহ সুশীল সমাজের লোকজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৮ সালের ১৫ জুন ঢাকার মিরপুরের বাগবাড়িতে জন্ম নেয়া ডিপজলের চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো নায়ক হিসেবে। প্রথম ছবি ‘টাকার পাহাড়’। ‘হাবিলদার’-এও নায়ক ছিলেন। এরপর দীর্ঘ বিরতি। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘তেজী’র (১৯৯৮) মাধ্যমে ডিপজল ভিলেন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আলোচনায় আসেন। তখন ডিপজল মানেই ছবি হিট। টানা কয়েক বছর খলনায়ক হিসেবে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করার পর আবার ছেদ পড়ে।

‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ ছবির চার অভিনয়শিল্পী ২০০৪ সালে এফ আই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবি দিয়ে নতুনরূপে হাজির হন ডিপজল। উপহার দেন ‘দাদীমা’, ‘চাচ্চু’, ‘পিতার আসন’ প্রভৃতি ছবিগুলো। এ সময়ের ডিপজলের কাজগুলো চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ এ সময়েই গল্পের মূল চরিত্রে অভিনয় করে সুস্থধারা ও ব্যবসাসফল ছবিতে অবদান রাখতে সক্ষম হন ডিপজল।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close