সিলেট স্টেডিয়ামের ওয়েস্টান গ্যালারির চেয়ারগুলো ভাঙ্গাচোরা

স্টেডিয়ামের ওয়েস্টান গ্যালারির চেয়ারগুলো ভাঙ্গাচোরা। অনেক জায়গায় আবার চেয়ারই নেই ফাঁকা। একই অবস্থা ইস্টান গ্যালারিরও। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেলো এই চিত্র। আর স্টেডিয়ামটির সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিলো যে গ্রিন গ্যালারি, তা এখন আর গ্রিণ নেই। পুরোটাই ঘাসহীন, ন্যাড়া।

শনিবা্র দুপুরে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেলো স্টেডিয়ামটির এমন দৈন্যদশা। প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার ধারণক্ষমতার গ্যালারির প্লাস্টিকের চেয়ারের শতাধিক সংখ্যকই ভাঙা। এই মাঠেই আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই এই স্টেডিয়ামটি পরিচিতি পায় দেশের সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়াম হিসেবে। চাপাশে সবুজ চা বাগান আর উঁচু-নিচু টিলার মাঝখানে স্টেডিয়াম। মাঠের মধ্যে আবার গ্রিন গ্যালারি- এসবই এই স্টেডিয়ামকে অনন্যতা প্রদান করে। দেশি বিদেশি ক্রিকেটার আর কর্মকর্তারাও এই স্টেডিয়ামটির সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন। তবে অর্ধ যুগ পেরোতে না পেরোতেই স্টেডিয়ামটি তার শ্রী হারাতে শুরু করেছে। প্রশ্ন ওঠেছে স্টেডিয়ামটির ব্যবস্থাপনা নিয়েও।

তবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেন্যু ম্যানেজার জয়দ্বীপ দাস সুজক জানিয়েছেন, গ্যালারির চেয়ার ভাঙ্গার বিষয়টি একাধিকবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে জানানো হয়েছে। বাজেট স্বল্পতার কারণে তারা এখনও এগুলো সংস্কার করতে পারেনি। তবে অচীরেই সংস্কা্র করা হবে।

গ্রিন গ্যালারি ন্যাড়া হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রিন গ্যালারি কিছুটা সংস্কার করা হয়েছে। টিলার উচ্চতা কমিয়ে তিনটি ধাপের মতো করা হয়েছে; যাতে দর্শকরা বসে খেলা দেখতে পারেন। এরপর দূর্বাঘাসও লাগানো হয়েছে, তাতে নিয়মিত পানিও দেওয়া হয়েছে। অচিরেই ঘাসগুলো বড় হলে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য ফিরে আসবে। তবে গ্রিন গ্যালারি পুরোপুরি সবুজ হতে একটু সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম হিসেবে নির্মিত হলেও পরে তা ক্রিকেটের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সময় থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিতি পায়। সেই বছর টি২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের কয়েকটি ম্যাচ দিয়ে এই স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল। এরপর মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম উন্নত করা হলেও গ্রিন গ্যালারি কাঙ্ক্ষিত সৌন্দর্য পায়নি।

ঘাস না থাকার কারণে চলতি সিরিজে ‘গ্রিন হিল এরিয়া’ নাম দিয়ে গ্রিন গ্যালারির টিকিটের মূল্য সবচেয়ে কম, ১০০ টাকা রাখা হয়েছে। একইভাবে ওয়েস্টার্ন গ্যালারির টিকিটও ১০০ টাকায় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ইস্টার্ন গ্যালারি ১৫০ টাকা ও ক্লাব হাউস গ্যালারির টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৩০০ টাকা। সিলেট স্টেডিয়ামের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের প্রত্যেকটি টিকিটের মূল্য এক হাজার টাকা।

এদিকে ২০১৮ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ভেন্যুর মর্যাদা পাওয়া সিলেট। এখানে বিপিএল ছাড়াও ঘরোয়া বিভিন্ন বয়সভিত্তিক, একাডেমি ও ‘এ’ দলের খেলাও নিয়মিত হচ্ছে। সম্প্রতি আউটার স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজও চলছে পুরোদমে; যাকে গ্রাউন্ড-২ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এমন উন্নয়নের মধ্যে মূল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দৈন্যদশার সৃষ্টি হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close