মৃত্যুর আগে স্ত্রী সামিরার সঙ্গে কি কথা হয় সালমানের ?

সুরমা টাইমস ডেস্ক :: বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আঁকা ছবিতে বর্ণনা করা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্যের জট খুলেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

‘রহস্যজনক মৃত্যু’র দুই যুগ পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্তে ইতি টানল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের দাবি- হত্যা নয়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। আত্মহত্যার আগের কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে পিবিআই।

ছবি এঁকে তার সঙ্গে ক্যাপশন জুড়ে দিয়ে ঘটনাক্রমের একটি ভিডিওচিত্র তৈরি করেছে পিবিআই। সংবাদ সম্মেলনে দেখানো হয় সেই ভিডিও। এতে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকালে সালমান ঘুম থেকে উঠে গৃহকর্মী মনোয়ারার কাছে পানি খেতে চান। মনোয়ারার দেওয়া এক মগ পানি খেয়ে তিনি আরও এক মগ চান। সেই পানিও তিনি খেয়ে নেন। এরপর কলিংবেলের আওয়াজ শুনে সালমান দরজা খুলে দেখেন মালি জাকির দাঁড়িয়ে আছেন। জাকির তার কাছে তিন মাসের বকেয়া বেতন চান। সালমান তাকে কিছু না বলে বাসার ভেতরে ঢুকে যান। ইন্টারকমে নিরাপত্তাকর্মী দেলোয়ারকে বলে দেন, তার বাসায় যেন কাউকে আসতে দেওয়া না হয়। এরপর বেডরুমের দরজায় দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ একদৃষ্টে সামিরার দিকে চেয়ে থাকেন। সামিরা তখন আধশোয়া হয়ে টিভি দেখছিলেন। তিনি জানতে চান, ‘কী দেখছো?’ সালমান শাহ কোনো কথা না বলে বাথরুমে ঢুকে যান। সেখান থেকে বের হয়ে তিনি ড্রেসিং রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।

এর মধ্যে গৃহকর্মী ডলি তার ছেলে ওমরকে বাথরুমে গোসল করিয়ে বের হন। ওমরের কাপড় ড্রেসিংরুমে থাকায় তারা দু’জন দরজায় নক করেন। দরজা না খোলায় ওমর ‘বাবা-বাবা’ বলে ডাকতে থাকে। তাদের ডাকাডাকিতেও সাড়া না মেলায় ডলি গিয়ে সামিরাকে জানান।

সামিরা চাবি দিয়ে ড্রেসিংরুমের দরজা খোলেন। তখন ওমর, ডলি, মনোয়ারা ও আবুল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দরজা খুলে তারা সালমানকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সামিরা চিৎকার করে সালমানকে নিচ থেকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আবুল ও মনোয়ারা তাকে সহায়তা করেন। ডলি রান্নাঘর থেকে বঁটি এনে অ্যালুমিনিয়ামের মই দিয়ে উঠে গলায় ফাঁস দেওয়া দড়ি কেটে দেন। আনুমানিক সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সালমানের নিথর দেহ পাশের রুমের মেঝেতে শোয়ানো হয়। সামিরা তার মাথায় পানি দেন। ডলি ও মনোয়ারা তেল গরম করে সালমানে বুক-হাত-পায়ে মালিশ করেন। খবর পেয়ে নিরাপত্তাকর্মী দেলোয়ারও চলে আসেন ফ্ল্যাটে। সালমানের বাবা-মা-ভাই তাকে নিয়ে হাসপাতালের পথে রওনা হন। পরিচালক বাদল খন্দকারসহ অন্যরাও পথে যুক্ত হন। প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ও পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close