সিনেমার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে সিলেট বি.আর.টি অফিসের টি-বয় ‘ ইমনের ’ জীবনযাপন !

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন::- ( পর্ব – ২ )

সিলেট (বি আর টি এ)অফিসের আলোচিত টি- বয় ইমন ,ও বি আর টি এ অফিসের লাইসেন্স শাখার সামিয়ুলের দালাল খ্যাত তার সহোদর মুস্তাফিজুর রহমান মুন্নু, বেপরোয়া দুর্নীতি ও ঘুষবাণিজ্যের মাধ্যমে মাত্র দুই বছরে মাথায় হয়ে গেছেন অবৈধ কয়েক কোটি টাকার মালিক। ইমন ও মুন্নু সিলেট সদর উপজেলার ৫নং টুলটিকর ইউনিয়নের টুলটিকর গ্রামের মৃত সোনা মিয়াঁর ছেলে ।

বড়ভাই মুন্নুর হাত ধরে সিলেট বি আর টি এ প্রবেশ করেন টি বয় ইমন তার পর থেকে তাদের আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি । মুস্তাফিজুর রহমান মুন্নু সিলেট বি আর টি এর ১৬ খলিফার অন্যতম খলিফা লাইসেন্স শাখায় কর্মরত ছামিউলের একান্ত বিশ্বস্ত সহযোগি । সিলেট বি আর টি এ তে একনামে পরিচিত ছামিউলের দালাল খ্যত মুন্নু ,ও টি বয় ইমন এই দুই সহদোরের বেপোরয়া দুর্নিতি ও ঘুষবাণিজ্যে অতিস্ট ও লাঞ্চিত সিলেট আর টি এর একাধিক সেবা গ্রহীতারা অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে ‘সুরমা টাইমসের’ অনুসন্ধানী টিম, আর এতেই বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল।অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাষ্ণল্যকর সব তথ্য ।

বি আর টি তে মুস্তাফিজুর রহমান মুন্নুর নির্দিষ্ঠ কুনো পদ পদবি নেই ,বি আর টি এর উর্ধতন কর্মকর্তাদের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় লাইসেন্স শাখার সামিউলের দালাল খ্যত মুস্তাফিজুর রহমান মুন্নু এবং তার সহদোর টি বয় ইমন অতি সহজে পেয়ে গেছেন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ ।বি আর টি এর এহেন কুনো কাজ নেই যা ইমন ও মুন্নুকে উৎকোচ দিলে হয়না ,গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায় নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে, যার ভাগ পান বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তারা।,

অনুসন্ধানে জানাজায় টি বয় ইমন ও মুন্নুর পিতা মরহুম সুনা মিয়া ছিলেন প্রথমে টেম্পু ড্রাইভার, পরবর্তিতে তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এম সি কলেজের বাস গাড়ীর হেল্পার হিসাবে নিজুক্ত হন ,টুলটিকর এলাকাবাসি সুত্রে জানাজায় মৃত সুনা মিয়ার প্রথম স্ত্রীর পক্ষের ছেলে মোজাম্মেল হুসেন ইমন, ( টি বয় ইমন ) ও সামিউলের দালাল খ্যত মুস্তাফিজুর রহমান মুন্নু । প্রথমে টি বয় ইমন কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় বি আর টি এ অফিসে মুন্নুর সুবাদে টুকটাক দালালির কাজ করতেন পরবর্তিতে তিনি মাস্টার রুলে কাজ করার সুযোগ পান ,দুর্নিতিতে সিদ্ধহস্ত ভাই মুন্নু ও বি আর টি এ অফিসের কর্তাব্যক্তিদের ম্যনেজ করে অতি সহজেই টি বয় হিসেবে কাজের সুযুগ পান।

তারপর থেকেই দু ভাইয়ের রাজকীয় বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু হয়,যা দেখে হতবাক ইমন ও মুন্নুর এলাকাবাসী। তাদের অনেকেরই প্রশ্ন যেখানে ইমনের মতো অফিস সহকারীর সরকারী বেতন স্কেল- ৯৩০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০২০০ টাকা,সেখানে মাত্র দুবছরের মাথায় কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলো আলোচিত টি বয় ইমন । টুলটিকর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যাক্তি ” সুরমা টাইমসকে ” জানান । ইমন ও তার সহোদর মুন্নু এতো দ্রুত আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের ছোয়ায় মাত্র দুই থেকে আড়াই বছরের ভেতর গড়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড় । প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করেছে আলিশান তিন তলা বাড়ি, টুলটিকর ফুলবাগ এলাকায় ১২ শতক জায়গার উপর নির্মিত আছে ভাড়া বাসা, রয়েছে কলোনী ব্যবসা। জৈন্তাপুর ফেরিঘাট এলাকায় রয়েছে ৩০ শতক জায়গা, তাদের রয়েছে শোরুম কন্ডিসনের একটি নোহা গাড়ি একটি ত্রিপল- ১১১ কার ও দু লক্ষ টাকা দামের মটর সাইকেল ।

টি বয় ইমন ও মুন্নুর বিলাসবহুল জীবন যাপন হার মানিয়েছে সিনেমার কাহিনিকেও, অনুসন্ধান ও এলাকাবাসির দেয়া প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানাজায় ইমন ও মুন্নু চলাফেরা করেন রাজকীয় ভাবে, সিলেট থেকে ঢাকা যেতে হলেও তারা বিমান ব্যতীত চলাফেরা করেননা , কেনাকাটা করেন মালোয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ,এবং কলকাতাতে । দেশের চিকিৎসা সেবায়ও তাদের নেই কুনো আস্থা, তাই তারা পরিবার নিয়ে প্রায়ই কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই এবং মাদ্রাজে গিয়ে মেডিকেল চেকাপ করান।যা তাদের ব্যবহৃত পাসপোর্ট দেখলেই বুঝা যায় । ইমন ও মুন্নু নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা এবং ক্ষমতার জানান দেয়ার জন্য তারা স্থানীয় সরকার দলীয় গুটি কয়েক নেতাদের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে তাদের পাসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেন ,এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন । খুঁজনিয়ে জানাগেছে আদৌ তারা কেউই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত নন ।

গত সাপ্তাহে সিলেট বি আর টি অফিসে অনুষ্ঠিত হয় লাইসেন্স আবেদন কারিদের লিখিত পরিক্ষা , তখন পরিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে চাইলে এ প্রতিবেদনের অনুসন্ধানী টিমের ফটো সাংবাদিককে ছবি তুলতে বাধা প্রদান করেন মুস্তাফিজুর রহমান মুন্নুসহ বি আর টি এর দালাল চক্রের কয়েকজন সদস্য । একপর্যায়ে তারা ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্ঠা চালান ,পরবর্তিতে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় রক্ষাপান ঐ ফটো সাংবাদিক । স্থানীয় এলাকাবাসীর তথ্যমতে জানাজায়, টি-বয়- ইমন নিজের বা তার স্ত্রীর ব্যংক একাউন্টে কখনো মোটা অঙ্কের টাকা গচ্ছিত রাখেন না । তারা বেশীরভাগ টাকাই সাধারণ মানুষের কাছে চড়া সুদে লগ্নি করে রাখেন ।

( আগামী পর্বে থাকছে আপন চাচা মতিন মিয়ার ছেলেকে নেশায় মাতাল বানিয়ে তার জায়গা সম্পত্তি আত্মসাতের ,এবং কলোনীতে নারী কেলেঙ্কারীর কাহিনী। )

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close