বালাগঞ্জে খুন করে কচুরিপানায় লাশ গুম, দুই জনের যাবজ্জীবন

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি::
সিলেটের বালাগঞ্জে খুন করে হাওরের কচুরিপানায় লাশ গুমের ঘটনায় দুই ঘাতকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০শে ফেব্রুয়ারি) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক রোকসানা বেগম হ্যাপি এ রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলো, সিলেটের বালাগঞ্জ থানার সোনাপুর গ্রামের মৃত অশিনী শুল্ক বৈদ্যর ছেলে অজিত চন্দ্র শুল্ক বৈদ্য ও হবিগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের আবু বকরের ছেলে মুসলিম। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অজিত কারাগারে আটক আছে ও মুসলিম পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালত সূত্র।

আদালত সূত্র জানায়, সিলেটের বালাগঞ্জের ৭নং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমদ আলীর পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার ছিলেন একই থানার ব্রাক্ষণ গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে বশির মিয়া। তার সাথে একই পাম্পে কর্মচারী হিসেবে চাকুরী করতেন সোনাপুর গ্রামের মৃত অশিনী শুল্ক বৈদ্যর ছেলে অজিত চন্দ্র শুল্ক বৈদ্য। ১৯৯৬ সালের ১৭ জুন রাতে মাহমদ আলীর বাড়ি থেকে একসাথে খেয়ে অজিত ও বশির বের হন। পরের দিন অনেক খোঁজাখুজি করে আর বশিরকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে অজিতকে স্থানীয়রা ও পেট্রোল পাম্পের মালিক চাপ প্রয়োগ করলে অজিত ও মুসলিম স্বীকার করে যে, নৌকা দিয়ে বশিরকে হাওরের মাঝখানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করে। পরে ওই লাশ হাওরের কচুরিপানায় ফেলে গুম করে রাখে।

এ সময় তাদের দেখানো মতে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের মালিক মাহমদ আলী বাদী হয়ে বালাগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর (৭(০৬)৯৬ ইং) দাখিল করেন। পরে পুলিশ ওই মামলায় মুসলিম ও অজিতকে গ্রেফতার করেন। আর আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে গ্রেফতারকৃত দুইজন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ২৭ আগষ্ট আদালতে চার্জশীট নম্বর-৭২ দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সৈয়দ সাজেদুর রহমান। আদালত ১৭ জন সাক্ষির মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অজিত ও মুসলিমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে যাব্বজীবন কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করা হয়। তাছাড়া জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বৎসরের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করেন আদালত। বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী জুনেল আহমদ ও আসামী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাবিবুর রহমান হাবিব।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী জুনেল আহমদ জানান, ওই মামলাটি ২০০১ সালের ২৮ মে আদালত একই রায় প্রদান করেছিলেন। পরবর্তিতে উচ্চ আদালতে আপিল করেন আসামী পক্ষ। ফলে বিচারের জন্য পুনরায় মামলাটি নিম্ন আদালতে প্রেরণ করা হয়েছিল।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close