নষ্ট হচ্ছে ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার কোটি টাকার সম্পদ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (এনজিএফএফ) সাত বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে অযত্নে-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কারখানাটির কোটি টাকার সম্পদ। মানুষের আনাগোনা না থাকায় খোলা স্থানে জন্মেছে আগাছা। আর টিনে ধরছে মরিচা। সার তৈরির মেশিন প্রিলিং টাওয়ার, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট প্লান্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বয়লার, গোডাউন, যানবাহন, পানি সরবরাহ শাখা স্টোরসহ কারখানার প্রতিটি যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ছে।

বিসিআইসির মাতৃ শিল্পপ্রতিষ্ঠান খ্যাত এনজিএফএফ লিমিটেড ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর বন্ধ হয়ে যায়। এর পাশে শাহ জালাল সার কারখানা নির্মিত হওয়ায় পুরোনো সার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তাদের চাকরি নতুন সার কারখানা স্থানান্তরিত হয়েছে। অনেকে আবার বদলি হয়ে বিসিআইসির অন্য কারখানায় চলে গেছেন।

তৎকালীন বিএনপি সরকার ১৯৯২ সালে এনজিএফএফকে ঝুঁকিপূর্ণ অজুহাতে প্রথমে সার কারখানাটি স্থানান্তর করে। পরে অলাভজনক, ব্যয়বহুল উল্লেখ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বৃহত্তর সিলেটবাসীর তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার সার কারখানাটি চালু রাখতে বাধ্য হয়। সার কারখানা চালু রাখার যৌক্তিকতা দেখিয়ে তদন্ত কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে। পরে কোনো ধরনের পুনর্বাসন কর্মসূচি ছাড়াই একটানা ২২ বছর এনজিএফএফের উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

সার কারখানাটি বন্ধ থাকায় একজন নিরাপত্তা পরিদর্শকের অধীনে এক নিরাপত্তা প্রহরী ও সাত আনসার সদস্য বন্ধ সার কারখানার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা পরিদর্শক দেলওয়ার হোসেন বলেন, দু’বছর আগে এনজিএফএফের সব সম্পদ শাহ জালাল সার কারখানার সঙ্গে আত্তীকরণ করা হয়েছে। বিসিআইসি বন্ধ সার কারখানা নিয়ে কী ভাবছে, বলতে পারছি না।

১৯৬১ সালে ফেঞ্চুগঞ্জের নিজামপুর মৌজায় ৪১৯ একর জমির ওপর পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের (ইপিআইডিসি) অধীনে জাপানের মেসার্স কোবেস্টিল করপোরেশন টার্ন কি ভিত্তিতে ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সার কারখানাটি নির্মাণ করে। ১৯৬২ সালের জুলাই মাসে এনজিএফএফ লিমিটেড বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। শাহজালাল সার কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সুনীল চন্দ্র দাস বলেন, এনজিএফএফ লিমিটেডের যন্ত্রপাতিসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বিসিআইসির পরিচালকদের বোর্ড সভায় মেশিনারিজ ক্রাপর্স হিসেবে বিক্রির জন্য অনুমতি দিলে বিসিআইসি থেকে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এ ছাড়া এনজিএফএফ লিমিটেডের জায়গা খালি হলে তা শাহজালাল সার কারখানার কাজে লাগানো যাবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close