সানাউলের গ্যাড়াকলে সিলেট বিআরটিএ প্রতি মাসে কোটি টাকার অবৈধ বানিজ্য

আহমেদ শাকিল :: সানাউল হকের গ্যাড়াকলে পড়েছে সিলেটে বিআরটিএ অফিস। তার নিযুক্ত দালাল বাহিনীর কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা। অফিস লুটেপুটে খাচ্ছে ঘুষখোর কর্মকর্তা আর দালালরা । এখানে সেবাগ্রহীতার চেয়ে দালাল এর সংখ্যা অনেক বেশী।

সিলেট নগরীতে চলাচলকারী কোনো সিএনজিতেই গ্রিল নেই। জায়গামত অর্থ দিয়েই আইন অমান্য করেও নগরীতে দিব্যি চলাচল করছে ২০ হাজার বৈধ সিএনজি। এর বাইরে অবৈধ সিএনজির কোনো হিসেবে ট্রাফিক পুলিশ বা বিআরটি এর কাছে নেই। সংশিষ্টদের দাবি, অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে আরও বিশ হাজার । এই চলিশ হাজার সিএনজি থেকেই আইনের দোহাই দিয়ে উৎকোচ নিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ ও বিআরটিএ। রাস্তা থেকে নেয় ট্রাফিক পুলিশ আর ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র সঠিক করার নামে এসব সিএনজি থেকে উৎকোচ আদায় করে বিআরটিএর অসাধু কর্মকর্তারা।

সিলেট বিআরটি অফিস ঘুরে দেখা যায় ,রীতিমতো চেয়ার-টেবিলজুড়ে দালালরা ‘অফিস’ করছেন। অনেকে এদের কর্মকর্তা মনে করলেও এদের আসল পরিচয় দালাল। চাকরি ছাড়াই কাজ করছেন তারা। বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক সানাউল হক ও পরির্দশক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং অসাধু কর্মকর্তারা এদের জামাই আদরে পুষছেন। আর চাকরিহীন এসব ‘চাকুরে’রাই নিয়ন্ত্রণ করছেন সিলেট বিআরটিএ। এদের হাতেই জিম্মি হয়ে আছে বিআরটিএর সিলেট সার্কেল অফিস। গাড়ির রোড পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, রের্কডবুক,লাইসেন্স কিংবা রেজিস্ট্রেশন-সবকিছুতেই দালালদের হাতের স্পর্শ থাকে। দু’-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া দালালদের কথার বাইরে যাওয়ার ‘সাহস’ নেই কর্মকর্তাদেরও।


সরজমিন ঘুরে দেখা যায়,দালাল হিসেবে বিআরটিএ অফিসের নিয়ন্ত্রণ উত্তম, মাহদী, মনসুর, আনোয়ার, ইব্রাহীম, পিংকু, খছরু, আজিজ, সাব্বির, জাহাঙ্গীর, জিহাদ, মন্নু, রাজু, সাদেক এবং আজাদ এর হাতে রয়েছে । এর বাইরেও আরো কয়েকজন আছেন তবে তারা নিয়মিত নন। তাদের ছাড়া কোন কাজকর্ম করাতে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সেবাগ্রহীতাদের। অফিসের কর্মকর্তারা এদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন এমন ভাব দেখালেও তাদেরই ছত্রচ্ছায়ায়ই দালালরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। বিআরটিএ’র দালালরা এমনই বেপরোয়া যে, এদের অনেকেই রীতিমতো চেয়ার-টেবিল পেতে অফিস করছেন।

বিআরটিএ ঘুরে যে চিত্র দেখা গেছে এসব ‘সহযোগী’দের মূল কাজ টাকার বিনিময়ে নকলকে আসল করে তোলা, ফিটনেসবিহীন গাড়ির ফিটনেস প্রদান করা এবং ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা। আর এর সবকিছুই হচ্ছে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপসের ভিত্তিতে। সিলেটের বিভিন্ন রাস্তায় চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, আর চালকরা লাইসেন্স না নিয়েই উঠে বসছে ড্রাইভিং সিটে। মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন যেন দুর্নীতির বরপুত্র। তিনি ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। লোক দেখানো পরীক্ষা পদ্ধতিতে শত ৫ জন পাশ করলে টাকার বিনিময়ে রেজুলেশনে সবাইকে পাশ করিয়েদেন তিনি । অফিস সুত্রে জানাযায়, বিগত ৬ মাসে মোট ১০৮ টি পরীক্ষার র্বোড পরিচালিত হয়েছে।

প্রতি র্বোডে ৩৫০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে। প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে শুধু পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার জন্য ২০০০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অবৈধ আয় ৭,৫৬,০০০০০(সাত কোটি ছাপান্ন লক্ষ) টাকা। শুধু তাই নয়,প্রতিটি বোর্ডে পরীক্ষার রোল দেওয়ার নামে প্রায় ১ লক্ষ টাকা আদায় করেন পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এছাড়া বিআরটিএ অফিসের গেইটে ও বারন্দায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও অজানা কারণে সহকারী পরিচালকের কক্ষ,পরিদর্শকদের কক্ষ,ড্রাইভিলাইসেন্স কক্ষ, রুটপারমিট কক্ষ, ডিজটাল নাম্বার প্লেইটের কক্ষ,রেকর্ড রুম,মোটর সাইকেল রেজিস্টেশন কক্ষ সহ যেসব কক্ষে উৎকোচ আদায় হয় এসব কক্ষে কোন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয় নি। বিআটিএ অফিসে কর্মরত একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,প্রতিদিন সিলেটে মোট যতটি মোটরসাইকেল রেজিষ্ট্রেশন করা হয়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হয়, নবায়ন করা হয়,ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়,রুট পারমিট ইস্যু করা হয় সব কটি থেকে আদায়কৃত অবৈধ আয়ের টাকা প্রতিদিন সন্ধার পর সহকারী পরিচালক সানাউল হককে বুঝিয়ে দিতে হয়। শুধু তাই নয় , ছোট থেকে বড় যে কোন কাজ তার অগোচরে করার কোন সুযোগ নেই কর্মরতদের।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পযন্ত অফিস চলাকালিন সময় হলেও সিলেটে অফিস চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। দিনের বেলা সেবাগ্রহণকারীদের কারণে ঘুষ গ্রহণে অসুবিধা হওয়া এবং দিনের বেলা মোবাইল কোর্ট থাকার ভয়ে দালাল সমাগম কম হলেও সন্ধার পর বিআরটিএ অফিস দালালদের জন্য থাকে উন্মুক্ত। তাই এ কারণেই রাত ৯ঘটিকা পর্যন্ত অফিস খোলা রাখেন এসব অসাধু কর্মকতারা। এভাবেই সহকারী পরিচালক সানাউল হক প্রতি মাসে অবৈধ আয় কয়েক কোটি টাকা।

তবে সংশ্লিষ্ট কিছু ‘ভেতরের-বাইরের দালাল সিন্ডিকেট’ ও নীতিনির্ধারকগণ এ টাকার ভাগ পান বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে। যার কারনে এদের তদবীরে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় না।


এ বিষয়ে বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি:) সানাউল হক এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে এ প্রতিবেদককে অফিসে যেতে বলেন। বিআটিএর শত অভিযোগ নানা ছলচাতুরীর মাধ্যমে এড়িয়ে যান ।
এ ব্যাপারে সিলেটরে জেলা প্রশাসক বলেন, বিআরটিএ সিলেট অফিসের কার্যক্রমে সকল প্রকার সেবা পেতে মানুষকে যাতে হয়রানির স্বীকার হতে না হয় এজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়,তারপরও যদি এরকম কিছু থাকে তবে আইনগত ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close