নগরীর আলোচিত দ্বীপ হত্যা,এগারো দিনেও অধরা ‘হত্যাকারীরা’,খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেট নগরীর মার্ডার জোন খ্যাত টিলাগড়ে আলোচিত ছাত্রলীগকর্মী অভিষেক দে দ্বীপ (১৮) হত্যা মামলার আসামিদের খুঁজছে পুলিশ। কিন্তু তাদের কোনো সন্ধান মিলছে না (!) সব আসামি-ই যেন পুলিশের নাগালের বাইরে।  ফলে হত্যাকাণ্ডের ১১দিন পরও মামলার তদন্তে তেমন অগ্রগতি হয়নি।  শুধুমাত্র হত্যার রাতে আটক হওয়া ছাত্রলীগকর্মী সমুদ্র রায় সৈকতকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মামলার আর কোন অগ্রগতি নেই এ পর্যন্ত।

যদিও শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ুম বলছেন, আসামি গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। শিগগিরই তারা ধরা পড়বে।

তিনি বলেন, মামলার প্রধান আসামি সৈকতও ঘটনার সময় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।  তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।  সৈকত সুস্থ হলে তাকে রিমাণ্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।  

কিন্তু রিমাণ্ড সম্পর্কে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শ্যামল ঘোষ বলছেন অন্য কথা।

তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার হওয়া মামলার প্রধান আসামি সৈকতকে গত বৃহস্পতিবার (১৩ই ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে ৭দিনের রিমাণ্ড চাওয়া হয়েছে। তবে আদালতে রিমাণ্ডের শোনানীর দিন ধার্য্য হয়নি। কেননা,তার দেহে জখম থাকায় আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। এছাড়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধু শুভ কর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সুস্থ হলে পুলিশ তার জবানবন্দি রেকর্ড করবে। তার ভূমিকা কি ছিল, তা যাচাই করবে।

পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে  দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তথ্য প্রযুক্তিরব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি।  

 
অভিষেকের বাবা দিপক দে বলেন, আমাদের একমাত্র সন্তানকে খুন হয়েছে। তাকে ফিরে পাবনা জানি, অন্তত; তার খুনীদের গ্রেফতার করা হোক। আইনের আওতায় এনে এদের সঠিক বিচার করা হয়,যাতে আমার মতো আর কোন হতভাগ্য পিতাকে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়, অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তা বলছেন, আসামিদের খোঁজ মিলছে না, আমরা সাহায্য করতে? পুলিশ যদি খোঁজে না পায়, আমরা কি করে ধরিয়ে দেবো?

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তোলে তিনি বলেন, ছেলের বিচার যাতে হয়, সে জন্য কর্মসূচী নিয়ে প্রয়োজনে রাস্তায়ও নামবো।


পূর্ববিরোধের জের ধরে গত ৬ই ফেব্রুয়ারি রাতে টিলাগড়ে হামলার শিকার হন অভিষেক দে দ্বীপ। এসময় ছাত্রলীগকর্মী সমুদ্র রায় সৈকতের নেতৃত্বে তাকে কোপানো হয়।  পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  এ হামলায় গুরুতর আহত শুভ করকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের রাতেই গ্রেফতার হয় হামলায় নেততৃত্বদানকারী ছাত্রলীগকর্মী সৈকত।

নিহত অভিষেক গ্রিনহিল স্টেট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আর হামলাকারী সৈকত সিলেট সরকারি কলেজের ছাত্র। দু’জনই ছাত্রলীগের টিলাগড় ব্লকের আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রঞ্জিত সরকারের অনুসারী।

এ ঘটনায় গত ৮ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিহতের বাবা সাদিপুরের বাসিন্দা দীপক দে বাদি হয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানায় একটি হত্যা মামলা (১৫(০২)২০) দায়ের করেন।

টিলাগড়ের গোপালটিলার ২নং সড়কের সল্টু রায়ের ছেলে সমুদ্র রায় সৈকতকে (২২) প্রধান আসামি করে দায়েরকৃত মামলায় আসামি করা হয় একই এলাকার ৩২নং বাসার সজল দের ছেলে  সৌরভ দে (২০), রতন দেবের ছেলে পূজল দেব (২৮) ও শংকর দে’র ছেলে সাগর দে (২০)। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয় আরও৩/৪জনকে।

৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩০২/১১৪/৩৪ ধারায় দায়েরকৃত এ মামলায় হুকুমের আসামি করা হয় পূজল দেবকে। তার হুকুমে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে কিল, ঘুষি ও ছুরিকাঘাত করে একজনকে হত্যা ও আরেকজনকে জখম করার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়-‘গত ৩০শে জানুয়ারি সরস্বতি পূজার শোভাযাত্রার সময় অভিষেকের সঙ্গে আসামি সৈকতের কথাকাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আপোষে নিস্পত্তি হয়। ঘটনার দিন গত ৬ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অভিষেক তার বন্ধু শুভকরকে নিয়ে টিলাগড়ে আজাদকাপ খেলা দেখার জন্য বাসা থেকে বের হয়। খেলা দেখারত অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা অভিষেক ও শুভকে আজাদকাপ টুর্নামেন্ট মাঠের উত্তর-পশ্চিমকোনে ডেকে নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আসামি পূজন দেবের হুকুমে অপর আসামি সৈকত অভিষেকের গলা ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে। আসামি সৌরভ ও সাগর সৈকতের হাত-পা চেপে ধরে অন্যান্য আসামি মিলে তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারে। এসময় অভিষেককে প্রাণে বাঁচাতে তার বন্ধু শুভ এগিয়ে আসলে সৈকত তার বুকেও ছুরিকাঘাত করে। আসামিরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন অভিষেক ও শুভকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অভিষেককে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় শুভকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close