প্রবল গতিতে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ডেনিস

উত্তর আটলান্টিক সাগর থেকে যুক্তরাজ্যের দিকে প্রবল গতিতে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ডেনিস।দেশটির আবহাওয়া অফিস বলছে, আটলান্টিকে এই ঝড় প্রবল শক্তি সঞ্চল করে বোম্ব সাইক্লোন বা বোমা ঘূর্ণির রূপ নিয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে অপ্রত্যাশিত বন্যা ও মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভয়ঙ্কর এ ঝড়ের তাণ্ডবের শঙ্কায় বাজেট এয়ারলাইন ইজিজেট যুক্তরাজ্যে তাদের ২৩৪টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বাতিল করেছে। এতে ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী সমস্যার মুখে পড়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল থেকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশে ঘণ্টায় ৭০ মাইলের বেশি শক্তি নিয়ে প্রবল বাতাসের সঙ্গে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দফতর।

সর্বশেষ এ ঝড়সহ চলতি বছরে যুক্তরাজ্যে মোট চারটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানছে। গত সপ্তাহে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি প্রবল বাতাস নিয়ে ঘূর্ণিঝড় কিয়ারা আঘাত হানে। ফলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী বর্ষণের কারণে বন্যাও দেখা দেয়। সেই ঝড়ের তাণ্ডবের ক্ষত না শুকাতেই আবারো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ডেনিসের মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাজ্য।

দেশটির আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে দুপুরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ডেনিস আঘাত হানতে পারে। এ কারণে ব্রিটিশ আবহাওয়া দফতর গত সাতদিনে অন্তত আটবার আবহাওয়া সতর্কতা জারি করেছে। এতে স্কটল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তর ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে ঘূর্ণিঝড় ডেনিস। এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কারণে মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আবহাওয়া দফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় ডেনিস বোমা সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ঝড়ের কারণে বাতাসের চাপ কমে গেছে ২৪ মিলিবার। এই ঝড়ের তাণ্ডবের আশঙ্কায় ইজিজেটের পাশাপাশি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজসহ বেশ কিছু বিমান সংস্থা যুক্তরাজ্যে বিমানের চলাচল স্থগিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় কিয়ারাকে গত এক শতাব্দীর মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে এই ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, এক হাজার ২০০ মাইল প্রশস্ত ঘূর্ণিঝড় ডেনিস দেশটির ইয়র্কশায়ারের ক্যাল্ডার ভেলিতে মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ এই অঞ্চলটি গত সপ্তাহের ঘূর্ণিঝড় কিয়ারার তাণ্ডবে ও ভারী বর্ষণের কারণে এখনো পানির নিচে রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close