চুপকথা বলার দিন,আজ বিশ্ব “ভালোবাসা দিবস”

বাপ্পী চৌধুরী ::

‘সখী, ভালোবাসা কারে কয়..? সে কি কেবলই যাতনাময়’- ভালোবাসা যাতনাময় হোক বা না হোক, আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আজ ফাল্গুনের প্রথম দিন অর্থাৎ বসন্তেরও প্রথম দিন। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস- পিঠাপিঠি এই দুই দিবসকে আপন করে নিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। ফাল্গুন আর ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে আজ মুখরিত হবে চারিদিক, মুখর হবে নানা বয়সের মানুষ। ফাল্গুনে গাছে গাছে ফুটেছে শিমুল ও পলাশ। প্রকৃতিও সেজেছে বাহারি রঙ্গে ।

কবিগুুরুর ভাষায়, ‘আমার জীবনে তুমি বাঁচো গো বাঁচো/ তোমার কামনা আমার চিত্ত দিয়ে যাচো…’। কবির বাঁচা-মরা কিংবা চিত্ত দিয়ে ভালোবাসা-বাসির চিরন্তন বোঁধ আজ হয়ত একটু বেশিই অনুভূত হবে, চোখ থেকে চোখে, হৃদয়ের কম্পন থেকে কম্পাঙ্কে। বসন্ত বাতাসে হৃদয়ের মিথস্ক্রিয়ায় বিশ্ব প্রেমপিয়াসীরা এই দিনটিকে বেছে নিয়েছে হৃদয়ে যন্ত্রণায় জড়ানো সৌরভের কথকতার কোলি অন্য হৃদয়ে ফুটিয়ে তুলতে। ফাগুনের মাতাল হাওয়ায় আজ উদ্দাম ভেসে যাবে প্রেম পিয়াসী সবাই, ভালোবাসার রঙে রঙিন হবে হৃদয়। মনের যতো বাসনা, যতো অব্যক্ত কথা ডালাপালা মেলে ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুর হাওয়ায়। কপোত-কপোতী পরস্পরকে নিবেদন করবে মনের যতো কথা, জানাবে ভালোবাসা। আজ চুপকথা শুনবার ও শোনানোর দিন। আর আজ কারো কারো চুপকথাগুলো হয়ে যাবে রূপকথা। সারাজীবন মনে রাখার মতো গল্প।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’। যে শুধু তরুণ-তরুণীর তা নয়, আজ সব বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি।

ভালোবাসা নিয়ে অজস্র কবিতা আর গান আজ মুখে মুখে মনে মনে সুরে-বেসুরে আবৃত্তি আর গীত হবে। আজ প্রিয়তমার হাত ধরে কিংবা পাশে বসে অনেকেই রচনা করবে নিজেদের ভবিষ্যত।

আজ মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে ছোট ছোট কথায় গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের সোপান। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই- মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, প্রিয় উপহার, অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেওয়া হয়।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, যা সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডে নামে পরিচিত। এর প্রচলন পশ্চিমের দুনিয়ায়, বহু আগে। এর হাওয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। এখন তা বাঙালির বসন্তদিনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। মোবাইল ফোনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আগাম শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়েছে গত রাত থেকেই। আজ দিনভর রেস্তোরাঁয়, পার্কে, শপিং মলে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, রাজপথে থাকবে তরুণ-তরুণীদের ভিড়।

অন্যদিকে আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসায় আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেওয়া- নেওয়া।

”ভ্যালেন্টাইনস ডে” কি? কি তার ইতিহাস ..?::–

১৪ই ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে বেশ পরিচিত একটি নাম “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস” বা “ভ্যালেন্টাইনস ডে”। বিশ্বের মানুষ এ দিবসটিকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে যুগ যুগ ধরে। একজন ভালোবাসা প্রেমী ও সচেতন মানুষ হিসাবে ”ভ্যালেন্টাইনস ডে” কি? এর পেছনের লুকানো ইতিহাস আসলে কি? এবং এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । আর তাহলেই আমরা দিবসটিকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারবো।

যেভাবে আসল “ভ্যালেন্টাইনস ডে” বা “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস” —

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেইন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিন্ন মত অনুযায়ী সেইন্ট ভ্যালেনটাইন একজনকে ভালোবেসেছিলেন। চিঠিটি লিখেছিলেন তার কাছেই।

ভ্যালেনটাইনস ডে সর্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে। দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবি জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তাদের নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু করে ।

“ভ্যালেন্টাইনস ডে” দিনটির ইতিহাসে প্রচলিত বেশ কয়েকটি ঘটনার মধ্যে বেশি প্রচলিত ঘটনাটি হলো;

সেন্ট ভ্যালেন্টাইন একজন রোমান ক্যাথলিক চিকিৎসক পাদ্রি ছিলেন। ৩য় শতাব্দীর গোড়ার দিকে রোমে দেব-দেবীর পূজাই ছিল মূখ্য। খ্রিষ্টান ধর্মীয় বিশ্বাস তখন ছিল না। ভ্যালেন্টাইন খ্রিষ্টান ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচার করায় রোমের সম্রাট ২য় ক্লোডিয়াসের নির্দেশে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। জেলে থাকাবস্থায় জেলারের অন্ধ মেয়েকে ভ্যালেন্টাইন চিকিৎসা দিয়ে চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন। ফলে ভ্যালেন্টাইন-এর সঙ্গে জেলারের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু দন্ডের পূর্বে মেয়েটিকে বিদায় জানাতে ভ্যালেন্টাইন একটি চিঠিতে লেখেন, ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’। ঘটনাটা প্রকাশ পায়। ব্যথিত হয় অনেকের হৃদয়। পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ সালে ভ্যালেন্টাইন-এর মৃত্যু দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি’কে ‘ভ্যালেন্টাইন’স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

এখানে উল্ল্যেখযোগ্য আরো চিত্তাকর্ষক কয়েকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণঃঃ—

প্রথমঃ— রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস-এর আমলের ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেনটাইন ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপী এবং খৃষ্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। ঐ সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সম্রাটের বারবার খৃষ্টধর্ম ত্যাগের আজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খৃস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

দ্বিতীয়ঃ— সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু’জন প্রাণ খুলে কথা বলত। এক সময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খৃষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদন্ড দেন।বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের লুকানো ইতিহাস

তৃতীয়ঃ— খৃষ্টীয় ইতিহাস মতে, ২৬৯ খৃষ্টাব্দের কথা। সাম্রাজ্যবাদী, রক্তপিপাষু রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের দরকার এক বিশাল সৈন্যবাহিণীর। এক সময় তার সেনাবাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দেয়। কিন্তু কেউ তার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে রাজি নয়। সম্রাট লক্ষ্য করলেন যে, অবিবাহিত যুবকরা যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে অত্যধিক ধৈর্যশীল হয়। ফলে তিনি যুবকদের বিবাহ কিংবা যুগলবন্দী হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। যাতে তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ না করে। তার এ ঘোষণায় দেশের যুবক-যুবতীরা ক্ষেপে যায়। যুবক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজকও সম্রাটের এ নিষেধাজ্ঞা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। প্রথমে তিনি সেন্ট মারিয়াসকে ভালবেসে বিয়ের মাধ্যমে রাজার আজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার গীর্জায় গোপনে বিয়ে পড়ানোর কাজও চালাতে থাকেন। একটি রুমে বর-বধূ বসিয়ে মোমবাতির স্বল্প আলোয় ভ্যালেন্টাইন ফিস ফিস করে বিয়ের মন্ত্র পড়াতেন। কিন্তু এ বিষয়টি এক সময়ে সম্রাট ক্লডিয়াসের কানে গেলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ২৭০ খৃষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি সৈন্যরা ভ্যালেন্টাইনকে হাত-পা বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে সম্রাটের সামনে হাজির করলে তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন।

চতুর্থঃ— আরেকটি খৃষ্টীয় ইতিহাস মতে, গোটা ইউরোপে যখন খৃষ্টান ধর্মের জয়জয়কার, তখনও ঘটা করে পালিত হতো রোমীয় একটি রীতি। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের সকল যুবকরা সমস্ত মেয়েদের নাম চিরকুটে লিখে একটি পাত্রে বা বাক্সে জমা করত। অতঃপর ঐ বাক্স হতে প্রত্যেক যুবক একটি করে চিরকুট তুলত, যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত, সে পূর্ণবৎসর ঐ মেয়ের প্রেমে মগ্ন থাকত। আর তাকে চিঠি লিখত, এ বলে ‘প্রতিমা মাতার নামে তোমার প্রতি এ পত্র প্রেরণ করছি।’ বৎসর শেষে এ সম্পর্ক নবায়ন বা পরিবর্তন করা হতো। এ রীতিটি কয়েকজন পাদ্রীর গোচরীভূত হলে তারা একে সমূলে উৎপাটন করা অসম্ভব ভেবে শুধু নাম পাল্টে দিয়ে একে খৃষ্টান ধর্মায়ণ করে দেয় এবং ঘোষণা করে এখন থেকে এ পত্রগুলো ‘সেন্ট ভ্যালেনটাইন’-এর নামে প্রেরণ করতে হবে। কারণ এটা খৃষ্টান নিদর্শন, যাতে এটা কালক্রমে খৃষ্টান ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।

পঞ্চমঃ– অন্য আরেকটি মতে, প্রাচীন রোমে দেবতাদের রাণী জুনোর সম্মানে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি পালন করা হতো। রোমানরা বিশ্বাস করত যে, জুনোর ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া কোন বিয়ে সফল হয় না। ছুটির পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি লুপারকালিয়া ভোজ উৎসবে হাজারও তরুণের মেলায় র‌্যাফেল ড্র’র মাধ্যমে সঙ্গী বাছাই প্রক্রিয়া চলত। এ উৎসবে উপস্থিত তরুণীরা তাদের নামাংকিত কাগজের স্লিপ জনসম্মুখে রাখা একটি বড় পাত্রে ফেলত। সেখান থেকে যুবকের তোলা স্লিপের তরুণীকে কাছে ডেকে নিত। কখনও এ জুটি সারা বছরের জন্য স্থায়ী হত এবং ভালবাসার সিঁড়ি বেয়ে বিয়েতে গড়াতো।

ঐ দিনের শোক গাঁথায় আজকের এই “ভ্যালেন্টাইন ডে”।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ দিন তরুণ-তরুণীরাই হবেন বেশি উন্মত্ত। মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তায়, ফেসবুকের ওয়াল থেকে ওয়ালে ফুঁটে উঠবে ভালোবাসার পুষ্পমঞ্জুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্র সরোবর, রাজধানীর গলি থেকে রাজপথে, সারাদেশের পার্ক-বিনোদন কেন্দ্র সরব হবে প্রেমিক-প্রেমিকাদের গুঞ্জনে গুঞ্জরণে। চন্ডিদাসের অনাদি কালের সেই সুর, ‘দুঁহ করে দুঁহ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/আধতীল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/সখী কেমনে বাঁধিব হিয়া…..’। এই আবেদনও বাঁজবে কারও কারও হৃদয়ে। আজ প্রেম দেব কিউপিড প্রেমশর বাগিয়ে নোঙ্গর করবে হৃদয়ের বন্দরে বন্দরে। প্রেমিক-প্রেমিকারা পরাণতাড়িত হয়ে বিদ্ধ হবেন সেই শরে। ভালোবাসার রঙে রাঙাবে হৃদয়। আজ জয় হবে ভালোবাসার।

তাই আমি পরিশেষে বলব,

১৪ই ফেব্রুয়ারিতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, যাকে কেন্দ্র করে করা হয় হাজারো বেহায়া ও বেল্পাপনাময় কর্মকান্ড। পার্ক জুড়ে দেখা যায় প্রেমিক-প্রেমিকার ঢল। ফুল দিয়ে মন বেচা-কেনাসহ কত যে অযাচিত ঘটনা। উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরাই সাধারণতঃ এতে অগ্রগামী। তারা সহজেই হারিয়ে যায় নিজেদের ভবিষ্যত সম্ভাবনা ভুলে যৌবনের মৌ-বনে। এ দিনে হোটেল গুলোতে চলে প্রেমিক-প্রেমিকাদের রাত্রী যাপন। ডিজে পার্টির নামে চলে অশ্লীল কর্মকান্ড।

ভালোবাসা চিরন্তণ শ্বাষত এবং সব মানুষের মধ্যেই এটি সবসময় বিরাজ করে। অতীতে ভালোবাসা ছিলো নিতান্তই আত্নিক, তাই প্রকাশ ছিলো শুধু ভালোবাসার মানুষগুলোর মধ্যে, লোক দেখানো ব্যাপারটি অনেকে চিন্তাও করতো না। এখন হয় ঠিক এর উল্টোটি। এখন ভালোবাসা অনেকাংশেই লোক দেখানো ব্যাপারটি জড়িত থাকে। এজন্য এইসব ভালোবাসা দিবসের উত্থান। আর এই দিনটিতে রাজত্ব করবে ভন্ড প্রেমিক-প্রেমিকারাই। সরল ভালোবাসা বুকে ধারণ করা মানুষেরা শুধু দর্শক আজকের দিনের জন্য।

আজকের ভালোবাসা দিবস যেন শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য না হয়। এই দিবস যেন একদিনের জন্য না হয়। ভালোবাসা দিবস সকলের জন্য। এখানে মা-বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা থাকবে। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা থাকবে। ভাই-বোনের ভালোবাসা থাকবে। এই ভালোবাসা প্রতিটি পরিবারে বিরাজ করবে সারা বছর। প্রতি বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের ভালোবাসায় রাঙিয়ে গেলেও, ভালোবাসা কিন্তু প্রতিদিনের। জীবনের গতি নির্ধারণ করে ভালোবাসা। মানুষ বেঁচে থাকে ভালোবাসায়। ভালোবাসাকে শুধু মাত্র একটা দিন দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। ভালবাসতে নির্দিষ্ট কোন দিবসের প্রয়োজন হয় বলে আমি মনে করিনা । তাই সবার জীবনে প্রতিটি দিনই হোক ভালোবাসা দিবস।

তথ্য সূত্র:- উইকিপিডিয়া ,

Sharing is caring!

Loading...
Open