‘কোন ব্যাক্তির নামে স্লোগান দিবেন না’-সিলেটে শফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে আওয়ামী লীগের একেক নেতার একটি বলয় রয়েছে। তবে চার-থেকে পাঁচজন নেতাকে ঘিরেই মূলত গড়ে উঠেছে এসব বলয়। আর নিজেদের বলয়কে শক্ত প্রমাণ করতে বরাবরই মরিয়া কর্মীরা। সেজন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোন নেতা সিলেটে এলেই শুরু হয় ‘নেতাবন্ধব’ স্লোগান। এতে কেন্দ্রীয় নেতারা বিব্রত বোধ করেন। অনেক সময় খোলামেলাভাবে এসব না করতে হুশিয়ারিও দেন নেতারাও। তবুও চলছে এ ‘নেতাবান্ধব’ স্লোগান।

দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম সিলেট সফরে এসেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শাখাওয়াত হোসেন শফিক।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিমানবন্দরে নেমে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শাখাওয়াত হোসেন শফিক। এসময় তিনি বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এই বিভাগের দায়িত্ব পেয়ে সিলেটে এসেছি, এখানে আমি কোন একক নেতার নামে স্লোগান শুনতে আসিনি। আমাদের নেতা একজনই, তিনি হলেন শেখ হাসিনা। স্লোগান একটাই হবে আমাদের সেটি হচ্ছে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। তাই আমি বিনয়ের সাথে আপনাদের অনুরোধ করছি কোন ব্যাক্তির নামে স্লোগান দিবেন না।

তিনি বলেন, আমি কোন প্রশাসক হয়ে সিলেটে আসিনি, এসেছি আপনাদের বন্ধু হিসেবে আপনাদের কথা শুনতে। আগামীতে এই পূণ্যভূমি সিলেটে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে আপনাদের কথা আমি আমাদের নেত্রীর কাছে তুলে ধরব।

শুধু তিনিই নয়, এর আগে সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনও নেতাবান্ধব স্লোগানে বিব্রতবোধ করেছিলেন। গত বছরের ৫ই ডিসেম্বর সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্যে দেয়ার সময় তিনি এ বিরক্তি প্রকাশ করেন।

এসময় তিনি নেতাকর্মীদের থামিয়ে বলেন, ‘আপাতত থামেন, বুঝলাম আপনারা রাজপথ ছাড়েন নাই। সিলেটের মাটি আপনাদের নেতাদের ঘাটি। এখন স্লোগান দিয়ে সময় নষ্ট করবেন না।’

একই সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ স্লোগান আর বিশৃঙ্খলা নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন।

সম্মেলনে হানিফ বলেছিলেন, ‘স্লোগান দিয়ে কাউকে নেতা বানানো যাবে না। যদি মনে করেন স্লোগান দিয়ে বানানো যাবে তাহলে ভুল করবেন। বরং দলের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। প্রকৃত কর্মীরা কখনও ঠকেনা। কারণ তারা দলের সাথে বেঈমানি করে না। তাই দলও তাদের সাথে বেঈমানি করে না।’

তবে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আগামীতে আলোচনা করবো। যাতে দলের কোন নেতাকর্মী ‘নেতাবান্ধব’ স্লোগান না দেন। কারণ এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বিব্রতবোধ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

এদিকে সিলেটে পৌছেই হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি। এরপর বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করবেন তিনি।

এছাড়া আগামী দুইদিন তিনি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা সফর করবেন বলে জানা গেছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close