আকবর আলি দ্য গ্রেট!

সুরমা টাইমস ডেস্ক ::

পচেফস্ট্রুমের ঐতিহাসিক ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলতে নেমেই শিরোপার স্বাদ পেলে বাংলাদেশ। আর ফাইনাল সেরা হলেন দ্য গ্রেট আকবর আলি।

যে কোনও পর্যায়ের ক্রিকেটে বাংলাদেশ পুরুষ দল এই প্রথম কোনও টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতল। এর আগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এশিয়া কাপের ফাইনালে খেললেও শিরোপা জেতা হয়নি। তবে আজকের সফল্যটা স্বার্ণাক্ষরে লেখা থাকবে অনন্তকাল।

যে জয়ের রুপকার এক আকবর আলি। স্বল্প কথায় তাকে নিয়ে কিছু বলা সত্যিই মুস্কিল। বাংলাদেশের এই অনুর্ধ্ব-১৯ দলটিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নে রূপান্তরের পেছনে অনন্য অবদান অধিনায়ক আকবর আলির। যেমন নেতৃত্ব, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট হাতে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার।

আজও যেমন কঠিন মুহূর্তে যে ব্যাটিংটা করলেন আকবর আলি, তাতে তার প্রশংসা যথেষ্ট হবে না। ৭ উইকেট হারানোর পর নিশ্চিত পরাজয়ের ম্যাচটিকে তিনি ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে আসলেন জয়ের মঞ্চে। বিশ্বজয়ের কৃতিত্ব যদি পুরো বাংলাদেশের হয়, তাহলে তার অর্ধেক দিতে হবে অধিনায়ক আকবর আলিকে।

একের পর এক যখন উইকেট পড়ছিল ভারতীয় বোলারদের সামনে, তখন দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করে গেছেন আকবর আলি। ৭৭ বল মোকাবেলা করে তিনি খেললেন অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংস। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে মারলেন ১টি ছক্কার মার।

তার এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ফাইনাল সেরা হিসেবেই বেছে নিলেন বিচারকরা। যে দুর্দান্ত ইনিংস তিনি খেলেছেন, তাতে অন্য কাউকে সেরা হিসেবে বেছে নেয়াটাও ছিল অসম্ভব।

এদিন ফাইনাল জিততে বাংলাদেশের যখন মাত্র ১৫ রান প্রয়োজন, ঠিক তখনই হুড়মুড়িয়ে নামে বৃষ্টি। যাতে বন্ধ হয়ে যায় ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচের খেলা। 

তবে বৃষ্টি থেমে গেলে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ৩০ বলে ৭ রান। হাতে ছিল তিনটি উইকেট। হাতের নাগালে থাকা এই লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৭ বলেই টপকে যান রাকিবুল হাসান ও আকবর আলি। যার মধ্যে উইনিং রানসহ ৬ রানই আসে বোলার রাকিবুলের ব্যাট থেকে।

তবে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক ফাইনাল জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান অধিনায়ক আকবর আলির। বিপদের মুখে একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তরুণ ক্রিকেটার। এছাড়া ৪৭ রান করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন।

তবে, ক্যাপ্টেন আকবরই যে আসল কারিগর, আসল নায়ক। ধ্বংসস্তুপের মাঝেও একা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে লড়াই করে আকবরই যে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। তাইতো আকবর দ্য গ্রেট। 

এর আগে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের ১৭৭ রানের জবাব দিতে নেমে ভালোই শুরু করে বাংলাদেশ। বিনা উইকেটে ৫০ রান তুলে ফেলে জুনিয়র টাইগাররা। কিন্তু মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এর মধ্যে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। সেই ইমন আবারও মাঠে ফিরে করলেন দারুণ লড়াই।

খোঁড়াতে খোঁড়াতে অধিনায়ক আকবর আলির সঙ্গে দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে তোলেন ইমন। বাংলাদেশ জয় থেকে যখন ৩৫ রান দূরে, তখন বিগশট খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরেছেন তরুণ বাঁ-হাতি ক্রিকেটার। ফেরার আগে ৭৯ বল খেলে ৪৭ রান করেছেন। ৩২ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর তখন ১৪৩/৭। সেখান থেকেই জয় তুলে নেন আকবর।

এর আগে প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে নেমে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলাররা। টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নিয়ে শক্তিশালী ভারতকে ১৭৭ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ স্বপ্নের বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পেতে বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ১৭৮।

শুরু থেকেই ভারতীয়দের কাঁপিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ৮ রান খরচায় একটি উইকেট তুলে নেয় জুনিয়র টাইগাররা। তবে যশস্বি জাসওয়াল একপ্রান্ত আগলে রেখে বুদ্ধিদিপ্ত ব্যাটিং করে চলেছিলেন। ১৫৬ রানের মাথায় শরিফুল ইসলাম সেই জাসওয়ালকে ফেরালে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে ভারতীয় ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৪৭.২ ওভারে গুটিয়ে যায় ভারত।

ভারতের পক্ষে জাসওয়াল ১২১ বলে সর্বোচ্চ ৮৮ রান করেন। আর বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক দাস ৯ ওভার বোলিং করে ৪০ রান খরচায় তিন উইকেট নিয়েছেন। তানজিম হাসান সাকিব ৮.২ ওভারে ২৮ রান খরচায় নিয়েছেন তিন উইকেট। দশ ওভারে ৩১ রান দিয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম।

Sharing is caring!

Loading...
Open