ছাতকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি মামলা

ছাতকের দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মায়েরকুল গ্রামের পাবেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানকে করা হয়েছে প্রধান আসামী এবং অপর মামলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রধান আসামী করা হয়েছে। উভয় মামলায় গ্রামের অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আসামি হওয়ায় গ্রাম প্রায় পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে গত ২৯ জানুয়ারি মায়েরকুল গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০জন আহত হয়। গুরুতর আহত পাবেল মিয়া ঘটনার পরেরদিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় নিহত পাবেল মিয়ার মা পারভিন বেগম বাদী হয়ে ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বিরকে প্রধান আসামি করে গ্রামের ৩৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-২৩) দায়ের করেন।

অপর পক্ষের গুরুতর আহত জমসেদ আলী, সমসেদ আলী ও ময়না মিয়া এখনো আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে মায়েরকুল গ্রামের মৃত নাসির উল্লাহর পুত্র কুদ্দুছ আলী বাদী হয়ে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিককে প্রধান আসামী করে মায়েরকুল ও খুরমা গ্রামের ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৪ ফেব্রুয়ারি থানায় পাল্টা মামলা (নং- ৬) দায়ের করেন।

এ মামলায় খুরমা গ্রামের আব্দুল খালিক, সুজন মিয়া, মায়েরকুল গ্রামের রমজান মিয়া, সেবুল মিয়া, ছমির উদ্দিন, কমরু মিয়া, আব্দুল কাহার, আছকির আলী, আলী আহমদ, রাসেল মিয়া, কামাল মিয়াসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে মারপিট করে গুরুতর জখম করার অপরাধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাবেল মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানা পুলিশ মায়েরকুল গ্রামের মন্তাজ আলীর পুত্র জাকির হোসেন (২৮), আব্দুন নুরের পুত্র আলী নুর (১৭) ও আব্দুল কাদিরের পুত্র হাবিব মিয়াকে (২০) আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। কুদ্দুছ আলীর দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পাল্টা-পাল্টি দুটি মামলায় দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মায়েরকুল ও খুরমা গ্রামের অধিকাংশ লোকজন আত্মগোপনে রয়েছেন।

ছাতক থানার ওসি গোলাম মোস্তফা পাল্টা-পাল্টি মামলার কথা স্বীকার করেছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close