রাতের আধারে পাথর উত্তোলন বন্ধে কোয়ারিতে হচ্ছে পুলিশ ফাঁড়ি

রাতের আধারে পাথর উত্তোলন বন্ধে কোয়ারিতে বসানো হচ্ছে পুলিশ ফাঁড়ি। ইতোমধ্যে শাহ আরেফিন টিলায় এই পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক ববাবরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এমনটা জানিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন আচার্য বলেন, ‘পাথর সম্পদে ভরপুর ভোলাগঞ্জের শাহ আরেফিন ও কালাইরাগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কোয়ারির গর্তের মালিকরা ভিন্ন পন্থায় পাথর উত্তোলন করছেন। দিনের বেলা টাস্কফোর্সের অভিযান চলায় তারা হাজারো শ্রমিক লাগিয়ে রাতের আধারে পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ কারণে একের পর এক গর্ত ধস ও শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। রাতের আধারে পাথর উত্তোলন বন্ধে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এজন্য ফাঁড়ি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘পাথর সম্পদে ভরপুর ভোলাগঞ্জের শাহ আরেফিন ও কালাইরাগে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কোয়ারির গর্তের মালিকরা ভিন্ন পন্থায় পাথর উত্তোলন করছেন। দিনের বেলা টাস্কফোর্সের অভিযান চলায় তারা হাজারো শ্রমিক লাগিয়ে রাতের আধারে পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ কারণে একের পর এক গর্ত ধস ও শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। রাতের আধারে পাথর উত্তোলন বন্ধে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ইউএনও আরও বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের আগ পর্যন্ত কোয়ারি এলাকায় টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কোয়ারিতে চারটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ২১টি গর্ত পানি ছেড়ে ভরাট করা হয়। এদিন বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযানে ৩১টি লিস্টার মেশিন ও সাত হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়। যার বাজার মূল্য অনুমানিক ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা হবে।

প্রসঙ্গত, অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনের ফলে পাথর কোয়ারিগুলোর পরিবেশ ও আশপাশের জনবসতি হুমকির মুখে পড়ায় ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটের জাফলং, ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া এই পাঁচ কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তার আগে থেকে কোয়ারিতে বোমা মেশিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উচ্চ আদালতের। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা মানছেন না পাথর ব্যবসায়ীরা। যন্ত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রায় প্রতিদিনই সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। তিন মাস আগে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন সুমন আচার্য। যোগদানের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি ভোলাগঞ্জ ও শাহ আরেফিন টিলায় যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাচ্ছেন।

গতকাল সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ কোয়ারিতে টাস্কফোর্সের অভিযানে ৩১টি শ্যালো মেশিন, ৭ হাজার ফুট পাইপ ও অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এর আগে ২১ জানুয়ারি শাহ আরেফিন টিলায় অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করেন প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।

এছাড়াও গত ২৭ জানুয়ারিও সিলেটের গোয়াইনঘাটে বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারিতে টাস্কফোর্সের অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রায় ২ কোটি টাকার অবৈধ যন্ত্র ধ্বংস করা হয়। গত একমাসে সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কোয়ারিতে প্রায় ১৫টি অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এসব ধ্বংস করা হয়েছে অন্তত ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে শ্রমিকদের প্রাণহানিও ঘটছে নিয়মিত। সর্বশেষ রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ এলাকার একটি গর্ত থেকে রুবেল মিয়া (২৪) নামে এ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় আহত অবস্থায় আরও দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০ জানুয়ারি কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় মাটি ধসে মারা যান এক শ্রমিক।

এছাড়াও বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) তথ্যমতে ২০১৭-এর জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলোতে পাথর উত্তোলনকালে ১২ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এছাড়া গত তিন বছরে শাহ আরফিন টিলায় ২৬ ও জাফলংয়ে ২১ জন মারা যান। অন্যদিকে গোয়াইনঘাটের বিছনাকান্দিতে পাঁচ, কানাইঘাটের বাংলাটিলায় ছয় এবং লোভাছড়া ও উতমাছড়ার পাথর কোয়ারিতে পাথর তুলতে গিয়ে প্রাণ হারান ৪ শ্রমিক। এছাড়া এসব ঘটনায় অন্তত শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close