কোম্পানীগঞ্জে শ্রমিক নিহতের ঘটনা আড়ালের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। পাথরে চাপা পড়ে মৃতের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। সর্বশেষ গতকাল গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০শে জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক দেড়টায় এক কিশোর পাথর শ্রমিক নিহত হয়। তার লাশ গুম করার চেষ্টাকালে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত শ্রমিকের নাম তানভির হোসেন (১৭)। সে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মো. আব্দুলের পুত্র। আর গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেব ওই গর্তের শ্রমিক সর্দার হান্নান (৪০)।

শাহ আরেফিন টিলার পাশের মতিয়া টিলায় আঞ্জু মিয়ার গর্তে পাথর উত্তোলনকালে ওই শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ। নিহতের পর তাৎক্ষণিক লাশ গুমের জন্য নিহত কিশোরের পরিবারকে বুঝিয়ে লাশ নিয়ে সুনামগঞ্জে দিরাই উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশ সেখান থেকে লাশ ফেরত এনে পোস্টমর্টেম করে ফের নিহতের পিতার কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। একই সাথে গতকাল রাতে হান্নানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানু বলেন, নিহতের ঘটনাকে আড়াল করতে লাশ দিরাই নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে ফেরত এনে পোস্টমর্টেম করা হয়। এ ঘটনায় শ্রমিক সর্দার হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সম্প্রতি কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন হয়েছেন সুমন আচার্য্য। তিনি যোগদানের পর থেকে একাধিক অভিযানের মাধ্যমে পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য্য বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি মাত্র ৩ মাস হলো। আসার পর থেকে আমি চেষ্টা করছি অবৈধভাবে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে পাথর উত্তোলনে একটি অনুমতি নিয়ে এসেছেন একজন ব্যক্তি। তবে অনুমতিপত্রে মেশিন ব্যবহার করার কোনো অনুমতি নেই। তাই আমার অভিযান মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে। একই সাথে আমি নিজে বিভিন্ন কাগজপত্র রেডি করে হাইকোর্টে সাবমিট করে চেষ্টা করব মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার। এ লক্ষ্যে এখানে একটি বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাবনাও দিয়েছি। আশা করি আমি সকল মহলের সহযোগিতায় অবৈধ পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে পারব।’

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close