সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও অনাচারের কারণে রাগীব আলী ও তার সহযোগিদের শাস্তি দাবি

একাধিক জালিয়াতি মামলা ও দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী রাগীব আলীর বিরোদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাশাপাশি তার বেআইনী, নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত কার্যকলাপের বিরোধীতাকারিদের প্রাণে হত্যার চেষ্টা, মিথ্যা মামলা দায়ের ও অসামাজিক তৎপরতার মাধ্যমে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীরও অভিযোগ আনা হয়েছে রাগীব আলী এবং তার কুকর্মের সহযোগিদের বিরোদ্ধে।


মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট শহরতলীর কামালবাজার এলাকার তালিবপুর পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে এসব অভিযোগ করেন।

তারা একই সঙ্গে বৃহত্তর তালিবপুর নাম ঐতিহ্য রক্ষা পরিষদ’র আহ্বায়ক কবি লায়েক আহমেদ নোমানকে একাধিকবার হত্যা-চেষ্টাকারী ও সর্বপ্রকার অপকর্ম সংঘটনকারী ‘দানব’ ও স্বঘোষিত ‘দানবীর’ রাগীব আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। এছাড়া তারা রাগীব আলীর পা-চুষা চক্র, মিথ্যা মামলা দায়েরকারি, কবি নোমানের ঘর থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণিক দলিলপত্র বারবার চুরির সাথে জড়িতরা,

তালিবপুর গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটি দখলের মাধ্যমে গ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্তরা, সর্বোপরি রাগীব আলীর দল ভারী করার জন্য যারা তরুণ ও কিশোরদের উৎপাত, উপদ্রব ও অসামাজিকতায় লিপ্ত করে সমাজ বিধ্বংসী কাজে সম্পৃক্ত করছে তাদের বিরোদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন। মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে তালিবপুর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে বারবার পুলিশী হয়রানি বন্ধের দাবিও তারা জানান।

তারা বলেন, ফিতনাবাজ দাজ্জাল রাগিব আলী প্রায় ৭০০ বছরের প্রাচীন তালিবপুর মৌজা তথা তালিবপুর গ্রাম ও কামাল বাজারের ঐতিহ্য ধ্বংসের জন্য তালিবপুর নামের পরিবর্তে তার নিজের নামানুসারে রাগীব নগর নামকরণের উদ্যোগ নেন। কিন্তু এলাকার আপামর জনসাধারণ তার হীন অপচেষ্টার বিপক্ষে অবস্থান নেন। তাই দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় বিগত ০৭.০৮.২০১৭ তারিখে মাননীয় হাইকোর্ট তালিবপুরের পরিবর্তে রাগীব নগর নাম ব্যবহারের উপর অন্তরবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে ০৩.০১.২০১৯ তারিখে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণবেঞ্চ দু’দফা শুনানি শেষে এ ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাগীব নগর নাম ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। কিন্তু ধূর্ত ও স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক চক্রের পৃষ্টপোষক রাগীব আলী মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যাচ্ছেন। তিনি তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে রাগীবনগর ব্যবহার এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় ফলাও করে তা প্রচার করে যাচ্ছেন। এমনকি অবৈধ রাগীব নগর বিরোধী আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি তালিবপুর গ্রামের পঞ্চায়েত কমিটি জবর দখলের চেষ্টা করছেন। গ্রামের মসজিদ পরিচালনায়ও ব্যাঘাত তৈরীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। বৃহত্তর তালিবপুর নাম ঐতিহ্য রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করে ঘোলা পানিতে শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এলাকার তরুণ সমাজকে আত্মবিধ্বংসী দুষ্কর্ম, বিবাদ-বিষম্বাদ ও অসামাজিক কাজে জড়ানো এবং প্রলুব্ধ করা অব্যাহত রেখেছেন।

রাগীব আলীর এসব ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে কাজ করছে তার যুক্তরাজ্য বসবাসকালীন সময়ের সহকর্মী চরিত্রহীন আবুল বশর সমুজ মিয়া ও সমুজ মিয়ার ভাতিজা আব্দুশ শহীদ, গ্রামের ইনুছ আলী, ইনুছের স্ত্রী মায়া বেগম, তার ছেলের বউ আছমা বেগম এবং ছেলে এনামূল হক এনাম, মাসুদ মিয়া, কামাল আহমদ শিশু, খছরু, মিজানুর রহমান দুদু, আব্দুল হান্নানসহ বহিরাগত চর গিয়াস উদ্দিন সরকার ভান্ডারীর মতো কিছু সংখ্যক অর্থলোভী, বিবেকহীন ও নীতিবিবর্জিত ব্যক্তি। এছাড়া প্রবাসি রিয়াজের বিল্ডিংয়ে পূর্বোক্ত এনাম, তার মা মায়া ও ভাবী আছমা, মাসুদ, খসরু ও শিশু, মোরগের ফার্মে সাব্বির এবং বাজারের ফার্নিচারের দোকান ও এর উপরতলায় ফজর আলী ও মউর আলী অবাধে অসামাজিকতা চালিয়ে যাচ্ছে।

তালিবপুর পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে অবিলম্বে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী, মিথ্যা মামলা দায়েরকারী, এলাকায় বিশৃঙ্খলা, অসামাজিকতা ও অনৈতিক কাজ পরিচালনাকারীদের বিরোদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও কবি নোমানের প্রাণনাশের চেষ্টাকারী, তার ঘর থেকে মূল্যবান দলিলপত্র চুরির সঙ্গে জড়িত এনাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরোদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা বৃহত্তর তালিবপুর নাম ঐতিহ্য রক্ষা পরিষদ ও পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃবৃন্দের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানেরও জোর দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, যার নামে কামাল বাজার পরিচিতি লাভ করেছে, সেই কামাল মাহমুদের নামও নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে রাগীবচক্র। এই চক্র ঐতিহ্যবাহী কামাল বাজার পোষ্ট অফিস বিলুপ্ত করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রাগীব নগর নামে আরেকটি পোষ্ট অফিস প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্মারকলিপিতে তালিবপুর পঞ্চায়েতের নেতৃবৃন্দ রাগীব আলীকে একজন প্রতারক ও মুসলমান নামধারী ভন্ড, ফিৎনাবাজ, দাজ্জাল বলে অভিহিত করেন। তারা বলেন, রাগীব আলী হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত সেজে নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তালিবপুরবাসী প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখেন, যদি মৃত্যুর পর হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন রাগীব আলীর মরদের দাহ করার জন্য নিতে আসে, তখন মুসলিম সমাজ কী জবাব দিবে?

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মো: আসলাম উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর তালিবপুর নাম ঐতিহ্য রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক কবি লায়েক আহমেদ নোমান, বিশ্বনাথ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াহিদ আলী, তালিবপুর পঞ্চায়েত কমিটির প্রধান মাসুক মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম তাজু, পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য হাজী তমিজ উদ্দিন ছকু, নামকরণ বিরোধী মামলার বাদি হাজী রুস্তুম আলী, সদস্য সুনাহর আলী তালুকদার, শেখ মকবুল আলী ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আহমদ আলী প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, এসব অপকর্ম সংঘটনকারী ‘দানব’ রাগীব আলী ও তার দোসরদের কুকর্মের ব্যাপারে ইতোপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, র‌্যাব মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open