জিন্দাবাজারে পার্সেলবাহী গাড়িতে যানজট

যখন–তখন পার্সেলবাহী বড় বড় গাড়ি চলাচল করায় সিলেট নগরের কেন্দ্রস্থলের জিন্দাবাজার এলাকায় যানজট লেগে যায়। এ অবস্থায় জিন্দাবাজার এলাকা থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যে পার্সেল সার্ভিসের কার্যালয় স্থানান্তরের নির্দেশনা ছিল ট্রাফিক বিভাগের। এ নির্দেশনার দুই সপ্তাহ পার হয়েছে, কিন্তু নির্দেশনা মানেনি পার্সেল সার্ভিসে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো।

জেলা পার্সেল সার্ভিস সমিতি ও ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমিতির সদস্যভুক্ত আটটি পার্সেল সার্ভিস হচ্ছে সুন্দরবন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ পার্সেল সার্ভিস, রেইনবো পার্সেল সার্ভিস, সুগন্ধা পার্সেল সার্ভিস, জননী পার্সেল সার্ভিস, এসএ পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস, এজেআর পার্সেল সার্ভিস ও ওমেক্স পার্সেল সার্ভিস। এর সব কটির কার্যালয় জিন্দাবাজারে ছিল। পার্সেলবাহী গাড়ির কারণে যানজট প্রকট হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে আসে মাঠপর্যায়ে কর্মরত ট্রাফিক সদস্যদের। এই পর্যবেক্ষণ থেকে ২০১৫ সালে প্রথম দফা কার্যালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয় জেলা পার্সেল সার্ভিস সমিতিকে। এ প্রস্তাবে সম্মত হয়ে আটটির মধ্যে তিনটির কার্যালয় স্থানান্তরও করা হয়। এসএ পরিবহন, সুগন্ধা, রেইনবো জিন্দাবাজার থেকে কার্যালয় স্থানান্তর করে। দুই বছর পর রেইনবো পার্সেল সার্ভিস আবার জিন্দাবাজারে ফিরে যায়। ফলে ছয়টির কার্যালয় এখনো জিন্দাবাজার এলাকায়।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালেও কার্যালয় স্থানান্তরের জন্য আরেক দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। সর্বশেষ নতুন বছরের ১ জানুয়ারিকে সামনে রেখে প্রায় তিন মাস আগে কার্যালয় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাফিক প্রশাসন সব পার্সেল সার্ভিসের ব্যবস্থাপক ও সিলেট জেলা পার্সেল সমিতির নেতাদের নিয়ে সভা করে ১ জানুয়ারির মধ্যে কার্যালয় সরানোর সিদ্ধান্ত জানায়। তখন সভায় পার্সেল সার্ভিসের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানান, কিন্তু বেঁধে দেওয়া সময়ের দুই সপ্তাহ পরও সরেনি কোনো কার্যালয়।

পার্সেল সার্ভিসগুলোর কার্গো গাড়িসহ পার্সেলবাহী গাড়িগুলো যখন জিন্দাবাজার এলাকায় প্রবেশ করে, তখন যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। এতে পথচারী ছাড়াও ভোগান্তিতে পড়েন জিন্দাবাজার এলাকার অন্যান্য বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা।

যোগাযোগ করলে জেলা পার্সেল সমিতির সভাপতি মো. মানিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রথম দফায় জিন্দাবাজার থেকে কার্যালয় স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হলে তাঁর প্রতিষ্ঠান সুগন্ধা পার্সেলসহ তিনটির কার্যালয় স্থানান্তর করা হয়। তিনি সমিতির সভাপতি, তাই কেউ যেন প্রশ্ন না তুলে, সে জন্য আগে তিনি তাঁর পার্সেল সার্ভিস স্থানান্তর করেছেন। এখন কেউ সরতে না চাইলে তিনি কাউকে জোর করতে পারেন না।
পার্সেল সার্ভিসের কার্যালয় স্থানান্তরের নির্দেশ মানা হয়নি। পার্সেলবাহী গাড়িগুলো এলাকায় প্রবেশ করলে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে।

২০১৫ সালে জিন্দাবাজার থেকে সরে গিয়ে দুই বছর পর আবার ফিরে আসা সম্পর্কে রেইনবো পার্সেল সার্ভিসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হাসান বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। কার্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি জানেন না। তবে কয়েক মাস ধরে জিন্দাবাজারে গাড়ি প্রবেশ করাতে ট্রাফিক পুলিশ সমস্যা করছে। প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি আগের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলবেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি পার্সেল সার্ভিসের কর্মী অভিযোগ করেন, ট্রাফিক বিভাগের কিছু সদস্যের জন্যই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁরা প্রতি মাসে পার্সেল সার্ভিস থেকে মাসোহারা পান। এই উদ্যোগ কখনোই বাস্তবায়ন করবে না ট্রাফিক প্রশাসন। কারণ, জিন্দাবাজার থেকে কার্যালয় স্থানান্তর হলে ট্রাফিক পুলিশের মাসোহারা বন্ধ হয়ে যাবে।

ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) মুহিবুর রহমান পার্সেল সার্ভিসের কার্যালয় স্থানান্তরের নির্দেশনা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি নতুন আসায় এত দিন ধরে ওই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

মুহিবুরের আগে ট্রাফিক পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হানিফ মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু পার্সেল সার্ভিস নয়, সব ধরনের বড় কাভার্ড ভ্যান, কার্গো গাড়ি পিক আওয়ারে শহরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা আছে। আমাদের নির্দেশনা আছে এসব বড় গাড়ি রাত ১০টার পর শহরে প্রবেশ করবে এবং সকাল ৯টার মধ্যে শহর ত্যাগ করবে। তবে যেহেতু পার্সেল সার্ভিস একটি ইমার্জেন্সি, তাই তাদের বড় গাড়িগুলো শহরের বাইরে রেখে ছোট গাড়ি দিয়ে মালামাল আনতে বলা হয়েছিল।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close