সিলেট-চট্টগ্রাম রুট: একই ট্রেন চলবে ভিন্ন আসনবিন্যাসে

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

একই রেক বা কোচ কম্পোজিশন দিয়ে সিলেট-চট্টগ্রাম রেলরুটে চলাচল করে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস নামের দুটি আন্তঃনগর ট্রেন। সেবার মান বাড়াতে এ দুই ট্রেন খ থেকে ক শ্রেণীতে উন্নীত করছে রেলওয়ে। এরই অংশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে একটি নতুন রেক। ফলে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে সিলেট আসার পথে নতুন আসনবিন্যাস এবং ফেরার পথে পুরনো আসনবিন্যাসে চলাচল করবে। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একই ট্রেনের দুই ভিন্ন আসনবিন্যাস টিকিট বিক্রিতে জটিলতা তৈরি করবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২৬ জানুয়ারি নতুন রেক দিয়ে উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরু করবে। দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা নতুন লাল-সবুজ কোচ নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সিলেট যাবে ৭২৩ নং উদয়ন এক্সপ্রেস। একই রেক বা কোচ কম্পোজিশন দিয়ে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম আসবে ৭২০ নং পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। নতুন কোচ ও আধুনিক সুবিধা সংযোজন হওয়ায় উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের আসনবিন্যাস ও টিকিটের ভাড়াও পরিবর্তন হয়ে যাবে। কিন্তু বিপরীতমুখী ৭১৯ নং পাহাড়িকা ও ৭২৪ নং উদয়ন এক্সপ্রেস আগের পুরনো আসনবিন্যাসে চলাচল করবে।

সূত্র জানায়, রেলের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল ৫২ অনুযায়ী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রেলপথের দূরত্ব ৩২১ কিলোমিটার হলেও অধিকাংশ আন্তঃনগর ট্রেন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছায়। এ রুটের বিরতিহীন ট্রেনগুলো মাত্র ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে যাত্রী পরিবহন করে। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৩৮১ কিলোমিটার হওয়া সত্ত্বেও আন্তঃনগর ট্রেনের রানিং টাইম ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা। আসন কম থাকায় পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট নিয়েও যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। নতুন রেকটিতে এসি (তাপানুকূল) সিট ও বার্থ সংযোজন ছাড়াও এসি চেয়ারের কোচ একটি বাড়ানোর ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে। এতে নতুন রেকে চলাচলকারী ট্রেনে যাত্রী বাড়তে পারে। কিন্তু পুরনো আসনবিন্যাসে চলাচলকারী ট্রেনের যাত্রী কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে রেলের রাজস্ব আয়ে।

রেলওয়ের অফিস আদেশ সূত্রে জানা গেছে, ২৬ জানুয়ারি থেকে ৭২৩ নং উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ৩৬টি এসি বার্থ, ১১০টি এসি চেয়ার ও ৪৫০টি শোভন চেয়ার থাকবে। অর্থাৎ এ ট্রেনে মোট টিকিট থাকবে ৫৯৬টি। অন্যদিকে ৭২০ নং পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে ৬৬টি এসি সিট, ১১০টি এসি চেয়ার ও ৪৫০টি শোভন চেয়ারসহ মোট আসন থাকবে ৬২৬টি।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কানেক্টিং রেকের (একই রেক দিয়ে দুই নামের দুটি ট্রেন চলাচল) দুটি ট্রেনেই একই আসনবিন্যাস থাকে। এতে যাত্রী ভোগান্তি কম হয়। কিন্তু শুধু একটি রেক পরিবর্তনের ফলে যাত্রীরা প্রতিদিনই বিভ্রান্তির মধ্যে থাকবেন। তাছাড়া রেলের ৫০ শতাংশ টিকিটই অনলাইনে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত থাকে। যাত্রীরা রেলের জটিল এ সমীকরণ আত্মস্থ করতে না পারলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। এতে এ রুটে সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে।

একই ট্রেন দুই ধরনের আসনবিন্যাস নিয়ে চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জটিলতার কিছুই নেই। টিকিট বিক্রি ব্যবস্থাপনায় যুক্ত সিএনএসের সার্ভারে একই ট্রেনের দুই ধরনের আসনবিন্যাস যুক্ত করে দেয়া হবে। যাত্রীরাও যার যার পছন্দ অনুযায়ী টিকিট সংগ্রহ করবে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আগামী জুন নাগাদ কোচ আসবে। আগামীতে কোচ থাকা সাপেক্ষে অন্য রেকও পরিবর্তন করার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: বণিক বার্তা

Sharing is caring!

Loading...
Open