সিসিকের নোটিশেও অপসারণ হচ্ছে না আল খাজা মার্কেট

সিলেট নগরীর কাস্টঘরে অবস্থিত আল-খাজা মার্কেট। ওই মার্কেটটি বিধি বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন একাধিকবার নোটিশ প্রদান করার পরও টনক নড়ছে না মার্কেট কর্তৃপক্ষের।

সর্বশেষ গত ১২ জানুয়ারি সিসিকের এসসিসি/প্রকৌ:/পূর্ত-১/১০০/১৮৪৯  ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিয়ে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়। তবুও সিসিকের ওই আদেশের কোন তোয়াক্কা না করে বহাল রয়েছে আল খাজা মার্কেটের বিধি বহির্ভূতভাবে নির্মিত অংশ। 
কিন্তু সিসিকের এ সকল আদেশও মানছেন না মার্কেট কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর পুনরায় আল খাজা মার্কেটের বিধি বহির্ভূত অংশ অপসারণ করার জন্য ৩ দিনের সময় বেধে দিয়ে নোটিশ প্রদান করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

আর এসসিসি/প্রকৌ:/পূর্ত-১/১০০/১০৯ নম্বর স্মারকটির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিলেট সিটি মেয়র বরাবরে।

এদিকে, সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকার আল খাজা মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডের গুদামে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে গত বছরের ১ মে। এ ঘটনার পর ২৪ মে ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ভাড়াটিয়ারা সিলেট-১ আসনের সাংসদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে দরখাস্ত দেন।

দরখাস্তে আল খাজা মার্কেট সমিতির নেতৃবৃন্দসহ স্বাক্ষর করেন ৯০ জন। দরখাস্তে তারা উলে­খ করেন, আল খাজা মার্কেটে ৫টি সিঁড়ি আছে। কিন্তু ৪টি সিঁড়িই বন্ধ করে গুদাম বানানো হয়েছে। একটিমাত্র সিঁড়ি খোলা থাকে, যেটির দৈর্ঘ্য মাত্র ২ ফুট। রাত ১০টার পর সামনের সিঁড়ির গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন মার্কেটের নিচ দিয়ে চলাচল করতে হয়। রাত ১২টার পর মার্কেটের নিচের গেইট বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন চলাচল করতে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থাও নেই এবং বিল্ডিং নির্মাণের নকশাও সঠিক নয়।

জানা গেছে, দরখাস্ত পাওয়ার দিনই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে আল খাজা মার্কেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ায় জেলা প্রশাসক বিষয়টি তাদের কাছেই প্রেরণ করেন। এরপর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নির্দেশে ১৮ জুলাই আল খাজা মার্কেটের স্বত্ত্বাধীকারি শায়েস্তা মিয়াকে নোটিস দেয় সিসিকের প্রকৌশল বিভাগ।

নোটিসে বলা হয়, শায়েস্তা মিয়া বিধিবহির্ভূতভাবে আল খাজা মার্কেট নির্মাণ করেছেন এবং মার্কেটের সম্মুখে অবৈধভাবে গুদাম তৈরি করেছেন। যা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ এর পরিপন্থি। নোটিস প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে মার্কেটের বিধিবহির্ভূত অংশ ও গুদাম অপসারণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিসিকের প্রকৌশল শাখা ওই নোটিস প্রদান করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে।

এরপর আরো প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও আল খাজা মার্কেটের বিধিবহির্ভূত অংশ ভাঙা ও অবৈধ গুদাম সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি তারা। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ফের সিসিকের কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সিসিকের প্রকৌশলী নিপু সিনহার নেতৃত্বে সার্ভেয়ার দল আল খাজা মার্কেটে বিধিবহির্ভূত অংশ ও গুদাম পরিদর্শনে যান। — বিজ্ঞপ্তি ।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close