বিয়ে বাড়িতে শোকের মাতম

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছিল জ্যোতি-পিয়াসার পরিবার। স্বজন-প্রতিবেশী ঘিরে এই বর-কনের বাড়িতে লেগেছিল উৎসব। কিন্তু মুহূর্তেই সেই ধুমধামের সবকিছুই স্তব্ধ করে দুই পরিবারে নেমে আসে শোকের মাতম। কে কাকে কী বলে শান্তনা দেবে! শান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে সবাই নিস্তব্ধ।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে যশোর শহরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় কনেসহ বিয়ে বাড়ির তিনজন নিহত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

বিয়ে বাড়ির প্রতিবেশীরা বাংলানিউজকে বলেন, যশোর শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জ্যোতির সঙ্গে আদ-দ্বীন সখিনা মেডিক্যালের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসার দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়াসাকে তাদের তুলে নেওয়ার কথা। সে জন্য জ্যোতির বাড়িতে আলোকসজ্জা করা হয়।

এরপর পিয়াসা শুক্রবার রাতে ফোন করে জ্যোতিকে জানান, তারা আলোকসজ্জা দেখবেন এবং শহর ঘুরবেন। এ কারণে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জ্যোতি তার নিজস্ব মাইক্রোবাস নিয়ে বের হন। গাড়িতে পিয়াসার বোন তানজিলা, খালাত ভাইয়ের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী, তার মেয়ে মানিজুর মাশিয়াব এবং জ্যোতির দুই বন্ধু হৃদয় ও শাহিন ছিলেন। তারা রাতে আলোকসজ্জা দেখে শহরে তাদের স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পালবাড়ি এলাকা থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে রাত ১টার দিকে যশোর শহরের পুরাতন কসবা শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের (আকিজের গলি) পাশে থাকা একটি বিল্ডিংয়ের প্রাচীর ও বিদ্যুতের খাম্বায় সজোরে আঘাত করে প্রাইভেটকারটি। এতে কনে পিয়াসাসহ ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।

যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি কলেজ এলাকার মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী ও রেহেনা পারভীন হিরা দম্পতির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকের মাতম চলছে। প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়। ঘরের মধ্যে তাদের মায়ের আহাজারি। সন্তান হারিয়ে পাগলপ্রায় মাকে সান্তনা দিতে গিয়ে সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

ইয়াসিন দম্পত্তির দুই কন্যা সন্তান। সেই দুই সন্তান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। মায়ের কন্ঠে শুধু সন্তান হারানোর প্রলাপ। বলছেন, ‘আমার আর মা বলে ডাকার কেউ থাকলো না। আল্লাহ তুমি আমার কলিজা দুটো কেড়ে নিলে। আমি কাদের নিয়ে বাঁচবো।’

প্রতিবেশীরা জানালেন, দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছে। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা। সেই আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ধুমধাম শুরু হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানের পাঁচদিন আগে তিনজনের মৃত্যু হলো। এটা খুবই কষ্টের।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাইভেটকার চালক শফিকুল ইসলাম জ্যোতি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। গাড়ি চালানোর সময় তিনি নেশা অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open