বিছনাকান্দি সীমান্তে চা কামালের চোরাচালান ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য জমজমাট

কামাল হোসেন প্রকাশ( চা কামাল ),সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার ঘোয়াইনঘাট থানাধীন রুস্তমপুর ইউনিয়নের খলামাদর গ্রামের মৃত তালেব আলীর পুত্র,পৈত্রিক দিক থেকে ছিলেন অসহায় এক গরিব ঘরের সন্তান অত্যন্ত অসহায় নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান কামাল হোসেন ওরফে ( চা কামাল )। পিতা ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ,আজ থেকে প্রায় পনেরো বছর পূর্বে অজ্ঞাত দুষ্কূতিকারীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হন বীর মুক্তিযোদ্ধা তালেব আলী,যার কোন সুরাহা আজ অবদি হয়নি,কিন্তু দেশপ্রেমীক পিতার সেই আদর্শ ধরে রাখতে পারেননি কামাল হোসেন ।

মুক্তিযোদ্ধা পিতার আদর্শকে জলাঞ্জলী দিয়ে তিনি নিজেই জড়িয়ে পড়েন দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে। পিতার মৃত্যুর পর যাদের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো,সেই চা কামাল ( কামাল মেম্বার ) বিগত তিন বছরের মধ্যেই পেয়ে যান আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ । আর এই প্রদীপের দৈত্যের আশীর্বাদে আজ সেই চা কামাল অর্ধশত কোটি টাকার মালিক,আজ থেকে প্রায় ছয়বছর পূর্বে যার কাঁচা বাড়ির পাশে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ছিল শুধু মাত্র একটি চায়ের টং দোকান আজ সেই ব্যাক্তি কামাল হোসেন (চা কামালের) নামে বেনামে রয়েছে আট থেকে দশটি ব্যাংক একাউন্ট, তিনটি এক্সেবেটর, দুইটি ফেলোডার,দুইটি ট্রাক্টর,এবং কয়েক শত বিঘা জমি,চলাফেরা করেন রাজকীয়ভাবে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা বেষ্টিত হয়ে,সরজমিন অনুসন্ধানে জানাজায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই চোরাচালান হয়ে আসছে শত শত ভারতীয় অবৈধ গরু। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চোরাচালানে আনা প্রতিটি গরুর জন্য ১ হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী চা কামালকে। এভাবে গত কয়েক বছরে কামাল মেম্বার চাঁদাবাজির মাধ্যমে অবৈধভাবে গড়ে তুলেছেন টাকার পাহাড় । শুধু ভারতীয় গরু নয় বিছনাকান্দি সীমান্তদিয়ে যতধরণের চোরাচালান হয় তার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করেন কামাল মেম্বার, ওরফে (চা কামাল) ।

সব থেকে আশ্চর্যের বিষয়হচ্ছে এই শীর্ষ চোরাকারবারি এবং চোরাকারবারিদের গডফাদার খ্যাত কামাল মেম্বার নিজেইনাকি সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির শীর্ষ নেতা !স্থানীয় সুত্রে জানায়ায় কামাল মেম্বারকে এলাকাবাসী শীর্ষ চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু হিসেবে চিনেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেননা, চা কামালের অপকর্মের বিরুদ্ধে অতীতে যে বা যারাই মুখ খুলেছেন তারাই চা কামালের রোষাণলে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে এবং ভূক্তভোগী ব্যক্তিরা জানিয়েছন চা কামালের এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তিনি ১নং রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বাসিন্ধা এম সফিক ও ইসমাইল আলী নামক ব্যাক্তিদ্বয়কে গত ২০১৬ইং সালে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠান, কামাল মেম্বার তাদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটিয়েছিলেন। পরবর্তিতে উক্ত ব্যক্তিদ্বয় জামিনে মুক্ত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সিলেট – বরাবর স্মারকলিপি প্রদানকরেন যাহার স্মরক নং ৪৯১ তাং ১৬/১১/২০১৬ ইং। এভাবে বহু অপকর্মের জন্মদিয়েছেন কামাল মেম্বার ওরফে চা কামাল, আলোচিত সমালোচিত এই মেম্বারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ এসে জমাহয় রয়েল সিলেট অফিসে।আর এসমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নামে রয়েল সিলেট এর অনুসন্ধানি টিম অনুসন্ধানে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে কামাল মেম্বারের বিভিন্ন অপকর্ম ধিরে ধিরে বেরিয়ে আসতে থাকে থলের বিড়াল,যাহার তথ্য উপাত্ত এবং পর্যাপ্ত প্রমানাদি রয়েল সিলেট কর্তৃপক্ষের নিকট সংরক্ষিত আছে ।

২০১৬ ইং সালে উক্ত কামাল মেম্বারের অপকর্মের বিরুদ্ধে জাতীয় দৈনিক (যুগান্তর) তাদের পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে,যাহার শিরোনাম ” ( বিছনাকান্দি ) দিয়ে ঢুকছে চোরাচালানের গরু। ” পরবর্তিতে ২০১৬ সালের ২৭শে নভেম্বর স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় আরেকটি সংবাদ যাঁহার শিরোনাম ( গোয়াইনঘাটে নিরীহ ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ) । এতকিছুর পরেও থেমে নেই কামাল মেম্বারের অপকর্ম, এব্যপারে কামাল মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাহার ব্যবহৃত মুঠোফোন যাহার নং ০১৭১৭****২৩,তে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ চা কামাল নিজেকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদের কাছের মানুষ বলে দাবী করেন। এবং মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সেখানে ছবি তুলে নিজেকে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছের লোক বলে এলাকাবাসীর নিকট নিজের ক্ষমতা জাহিরকরেন । এ ব্যাপারে সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইন ঘাট, কোম্পানিগঞ্জ) আসনের ৬ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে,তিনি রয়েল সিলেটকে বলেন কামাল মেম্বার কে? তাঁকে আমি চিনিনা তার সাথে আমার কোন ধরণের সম্পর্ক নাই। ছবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনিবলেন, আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে বিভিন্ন লোকজনই আমাদের সাথে ছবি তুলেন, তাই বলে তিনি আমার কাছের লোক হবেন এমনতো নয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close