তাহিরপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুর বস্তাবন্দি লাশ পাঠালো অপহরণকারীরা

তাহিরপুর প্রতিনিধি ::

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে চারদিন ধরে নিখোঁজ হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু তোফাজ্জল হোসেনের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানাজায় মুক্তিপনের টাকা না দেয়ায় ৭ বছরের শিশুকে খুন করে তার বস্তাবন্দি লাশ শিশুর নিজ বাড়ীতে রেখে গেছে অপহরণকারীরা

আজ শনিবার (১১ই জানুয়ারি) ভোরে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও সীমান্তের বাঁশতলা গ্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত তোফাজ্জল উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তগ্রাম বাঁশতলার জুবায়েল হোসেনের ছেলে ও বাঁশতলা দারুল হেদায়েত মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

খুন হওয়া শিশুটির নাম মো. তোফাজ্জল হোসেন । সে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাসতলা গ্রামের জোবায়েল মিয়ার ছেলে।  শনিবার ভোরে স্বজনরা বস্তার মধ্যে লাস দেখতে পেয়ে থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাস উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ মর্গে পাটিয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছে। আটককৃত হলেন,  একই গ্রামের পাশ্ববর্তী কালা মিয়া ও তার ছেলে সেজাউল মিয়া।  পুলিশ ও পরিবার  সূত্রে জানা যায়, ৮ জানুয়ারি বিকাল ৫ টার দিকে  অপহরনকারী চক্রটি বাশতলা গ্রামে শিশুটির  দাদার বাড়ির সামনে থেকে অপহরন করে নিয়ে যায়। ৯ ই জানুয়ারি রাতের কোন এক সময়ে ৮০ হাজার টাকা দাবী করে শিশুটির পিতার বসত ঘরের বারান্দায় শিশুটির পায়ের জুতা সহ একটি চিরকুট লিখে রেখে যায়।  চিরকুটে লিখা ছিল শুক্রবার রাকে শিশুর পিতার গরু রাখার ঘরে ৮০ হাজার টাকা রাখতে, এবং বিষয়টি পুলিশ বা কাউকে অবগত করলে শিশুটি কে মেরে ফেলবে।

এ ঘটনায় শিশুটির পিতা গত ৯ই জানুয়ারি তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শিশুর পিতা জোবায়েল হোসেন এবং রিয়া বেগম জানান, প্রায় ১ বছর আগে তার ননদ শিউলি বেগম কে বিয়ে দেন একই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সেজাউল এর কাছে। বিয়ের পরে তার ননদ শিউলি কে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে প্রায় সময়ই নিহতর পিতাকে হুমকি দিতো সেজাউল। তারা বলেন ঘটনার কিছুদিন আগেও তার ননদ কে মারপিট করে আম গাছের নিছে বেঁধে রাখে। তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, কালা মিয়া, সেজাউল চক্ররাই তার ছেলে অপহরণ করে খুন করেছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তারা।

এদিকে এঘটনায় জড়িত সন্দেহে উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের কালা মিয়া ও তার ছেলে সেজাউল কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছি।


Sharing is caring!

Loading...
Open

Close