ধীরগতিতে চলছে সিলেটের বিএনপি

ওয়েছ খছরু:ধীরগতিতে চলছে সিলেট বিএনপি। দূরত্ব কমিয়ে সবাইকে নিয়ে জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করতে চাইছেন নেতারা। এ কারণে তারা কেন্দ্রের মতামতকেও প্রাধান্য দিচ্ছেন। সিলেট আওয়ামী লীগের নতুন ফরমেটে বিএনপির ভেতরেও তাগিদ আসে পরিবর্তনের। দলকে চাঙ্গা করতে এমন উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন নেতারা। এ কারণে সিলেট বিএনপির নেতারা তাদের কার্যক্রমে গতি বাড়িয়েছেন। আর মহানগর নেতারা রয়েছেন অপেক্ষায়। মহানগর কমিটি শক্তিশালী থাকলেও ২৭ ওয়ার্ডের কমিটি পুনর্গঠনের চিন্তা চলছে। ফলে আগামী ৪-৫ মাসের মধ্যে সিলেট বিএনপিও বদলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সিনিয়র নেতারা।


দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেয়ার পর এখন পরামর্শকের কাতারে চলে গেছেন সিলেট বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তারাও উপর থেকে দলীয় কার্যক্রমের উপর নজর রাখছেন। উপর থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন সিলেট বিএনপিকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ সিলেট বিএনপির উপদেষ্টা এম এ হক। এরপরও নিজের অবস্থানে থেকে তিনি বিএনপিকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন। আর উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও সব সময় কাছাকাছি থাকছেন। দু’জনই বসবাস করেন ঢাকায়। কিন্তু ডাক পেলেই তারা চলে আসেন সিলেটে। দলীয় নেতাদের সুখে, দুঃখে পাশে থাকছেন। এর বাইরে সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম সিলেটেই রয়েছেন। তার পরামর্শ সব সময় পাচ্ছেন নেতারা।

পাশাপাশি চার কেন্দ্রীয় নেতা সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীও সরব রয়েছেন। ফলে সিলেট বিএনপি এক ঝাক অভিভাবক নিয়েই তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রয়োজনে সাড়া পাচ্ছে উপর মহলের।

এই অবস্থায় এখন সিলেটে বিএনপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে। প্রায় তিন মাস আগে শুরু হলেও বিএনপি চলছে ধীর গতিতে। সিলেটের নেতারা জানিয়েছেন- এই ধীর গতির একমাত্র কারণ হচ্ছে সত্যিকার অর্থে সিলেটে দলকে আরো সংগঠিত করা। এ কারনে ভেতরে জমাটবাধা সকল অভিমান-অভিযোগকে মিটমাট করে এগুতে হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে কারাবন্দি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন। এ কারণে তাড়াহুড়ো না করে কেন্দ্রের সঙ্গে সমস্যা আলোচনা করেই দল পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সিলেট জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে তিন মাসে গঠন করা হয় আহবায়ক কমিটি। নতুন আহবায়ক হন কামরুল হুদা জায়গীরদার। এই কমিটি নিয়ে শুরুতে কিছুটা অসন্তুষ থাকলেও এখন সেটি মিটে গেছে। আহবায়ক কমিটিকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন সবাই।

ফলে আহবায়ক কমিটির নেতারা গত এক সপ্তাহ ধরে ১৭টি ইউনিটে তাদের সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন। সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানিয়েছেন- আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিল করতে চান। সেই টার্গেট নিয়ে তারা এগিয়ে চলেছেন। তিনি জানান- সাংগঠনিক সফর শেষ হলেই ১৭ ইউনিটের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা করা হবে। প্রায় তিন বছর আগে গঠন করা সিলেট মহানগর বিএনপির কমিটি ও তাদের সাংগঠনিক ইউনিট নিয়ে সন্তুষ্ট নন নেতারাও। এ কারণে তারাও চান মহানগর কমিটি পুনর্গঠন। মহানগরের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম দীর্ঘ দিন ধরে অনুপস্থিত।

গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে প্রবাস জীবনে রয়েছেন। ফলে এককভাবে চাপ পড়েছে সভাপতি নাসিম হোসাইনের উপর। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন শামীম সিদ্দিকী। মহানগরের নেতারা জানান- তাদের সংগঠনের অধিভুক্ত ২৭টি ইউনিটের মধ্যে ১০টিতে সমস্যা আছে। অনেক কমিটির সভাপতি মৃত্যু বরণ করেছেন। ফলে দল পুনর্গঠনের বিষয়টিও তাদের চিন্তায় এসেছে। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন- দল পুনর্গঠন প্রয়োজন।

তবে- কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি পালন করা হবে। এদিকে- তিন বছর আগে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলো সিলেট বিএনপি। প্রথমবারের সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে তারা কমিটি গঠন করেন। আগামীতেও একই ধারা বজায় রাখতে চান সিলেটের নেতারা। ফলে সিলেট বিএনপির আগামী নেতৃত্ব নির্বাচন হতে পারে কাউন্সিলের মাধ্যমে। সেজন্য দুটি কমিটির অধিভুক্ত ইউনিটগুলো গঠনে সিলেটের নেতারা গুরুত্ব দিচ্ছেন বেশি। নেতারা জানিয়েছেন- বিগত কমিটিতে যাদের ভোটে নির্বাচিত করা হয়েছিলো তাদের কাজ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

যারা ভালো কাজ করেছেন তাদের দিকে নজর থাকবে কাউন্সিলরদের। সিলেট জেলা বিএনপির আসন্ন কাউন্সিলের আবারো সভাপতি প্রার্থী হবেন সাবেক কমিটির সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হবেন আলী আহমদ। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতায় নামতে পারে নতুন মুখ। মহানগরের সভাপতি পদে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবেন বর্তমান সভাপতি নাসিম হোসাইন। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা হওয়ার কারণে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে- মহানগরের সাধারণ সম্পাদকে আসতে পারে নতুন মুখ। সেক্ষেত্রে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা কোনো নতুন মুখকে এই পদে বেচে নিতে পারেন কাউন্সিলররা।

Sharing is caring!

Loading...
Open