দুই সিটি নির্বাচনের বিষয়ে যা বললেন বিএনপির প্রার্থীরা

মেয়র পদে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জন্য দু’জন এবং দক্ষিণে একজন মনোনয়নপত্র কিনেছেন।


বিকেল সাড়ে ৩টার পর ঢাকা উত্তরের জন্য মনোনয়নপত্র কেনেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন। আর বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা দক্ষিণের জন্য মনোনয়নপত্র কেনেন অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে দক্ষিণের প্রার্থী ইশরাক সাংবাদিকদের বলেন, আমার যে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছি-এটা বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে।

আজকে জনগণের অধিকার জনগণের কাছে নেই, জনগণের সরকার নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটের অধিকার ফিরে পাবার জন্য, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্ত করার জন্য এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছি।


তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি থাকবে, তাদের যে সাংবিধানিক অধিকার দেয়া হয়েছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার, উনারা যাতে সেই পবিত্র দায়িত্বটা পালন করেন।


জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী যদি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আমরা ধানের শীষের প্রার্থী যারা আছি তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবো।
উত্তরের প্রার্থী আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, এই নির্বাচন থেকে প্রত্যাশা করার কিছু নাই। দেশে অনেক আগে থেকে ভোট নির্বাসিত হয়ে গেছে, দেশে গণতন্ত্র নেই, ভোট নেই, সুষ্ঠুভাবে কোনা নির্বাচনও হয়নি, যা হয়েছে যোতচুরিভাবে নির্বাচন হয়েছে। এরপরে আমার পার্টি গণতন্ত্র রক্ষার নামে এই নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রিপন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না এই নির্বাচনের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা হবে, গণতন্ত্র উদ্ধার হবে। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, এই নির্বাচনে হারলে আকাশ ভেঙে পড়বে না। আসলে আকাশ ভেঙে পড়বে তাদের (সরকার) মাথায় সেজন্য সিটি নির্বাচন কোনো ভাবে নিরপেক্ষ হোকে- এটা তারা চাইবে না।
তিনি বলেন, আমাদের পার্টি ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভোট ডাকাতির নির্বাচনকে জনগনকে সংগঠিত করার জন্য এবং আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিকে তরান্বিত করার জন্য। কারণ একটি স্পেস আমরা ব্যবহার করতে চাই। কারণ এখন তো জনসভা করা যায় না, পথসভা করা যায় না, পেকেটিং করা যায়, কিছুই করা যায় না। অন্ততপক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী হলে ধানের শীষে ভোট দানের আহবানের সাথে সাথে নেত্রীর মুক্তির দাবিটা উচ্চারিত হবে- সেই লক্ষ্য থেকে আমি এই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। শুধুমাত্র আমাদের নেত্রীর মুক্তির দাবাটি তুলে ধরার জন্য।

উত্তরের অপর প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য জনগনের সকল অধিকার রক্ষা করার জন্য আমরা প্রতিদিন প্রস্তুত থাকি। সেই প্রস্তুতি অংশ হিসেবে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছি। আমি আশা করি, এবার একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আমরা পাব। যদি আমরা সেই সুযোগ পাই আশা করি আমরা জয়লাভ তো করবোই এবং তখন আসলে জনগণের কল্যাণে আমরা কাজ করার সুযোগ পাব।
সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহবান রেখে তাবিথ বলেন, আমি সিইসি’র প্রতি আহবান জানাচ্ছি, উনি এমন কোনো বক্তব্য রাখবেন না, দৃশ্যমান আচরণ করবেন যাতে জনগনের আস্থা আবার জনগনের কাছে ফিরে আসে। সাধারণ ভোটার ও জনগণ প্রতিনিয়ত আমাদের প্রশ্ন করে যে, উনারা ভোট দিতে পারবেন কিনা বা ভোট দিলে তা সঠিকভাবে গণণা হবে কিনা। আমরা তো লড়াই করবই জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য এবং একটা সুষ্ঠ নির্বাচন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য।
উত্তরের জনগণের কেনো ভোট দেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকাবাসী আমাকে, ধানের শীষকে, বিএনপিকে ভোট দেবে কারণ যে বর্তমান পরিস্থিতি এটা শুধু ঢাকাবাসী নয়, সারা বিশ্ববাসী দেখছে। আমরা একটা দূষনের শহরে পরিণত হয়েছি, নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সবচেয়ে নিম্ন স্থানে আছি, বাসযোগ্য শহরের ব্যাপারে আমরা সবচেয়ে নিম্ন স্থানে আছি। আমাদের শহরের সাথে তুলনা হচ্ছে যেসব দেশে যুদ্ধ চলছে….।
তাবিথ আরো বলেন, আমি নিজেকে শুধু যোগ্য প্রার্থী ভাবছি না, জনগণের প্রার্থীও ভাবছি। কারণ ২০১৫ সালের নির্বাচনে আপনারা পরিস্কারভাবে দেখেছেন জনগণের ব্যাপক সাড়া আমার প্রতি এসেছিলো। কিন্তু ওই নির্বাচনটা বানচাল করে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর ৩০ তারিখে পুরো দেশের জনগণ চেষ্টা করেছিলো ধানের শীষের ওপর আস্থা রাখতে এবং ভোটটা দিতে। সেটাও ২৯ তারিখে ভোট ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। তাই আমি শুধু আশাবাদী নই, দেশবাসী এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ভোটাররা যদি চান্স পায় আমাকেই ভোট দেবে।
এছাড়া ইভিএম ভোট নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিন প্রার্থী। এজন্য ইভিএম যারা পরিচালনা করবে সেখানে দলীয় এজেন্ট নিয়োগ রাখার বিধানের দাবিও জানান তারা।

Sharing is caring!

Loading...
Open

Close